জাতীয়হোমপেজ স্লাইড ছবি

আদিম যুগের কৃষি ও সামাজিক পরিবর্তন

আহমেদ রফিক: আদিম মানুষ ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল ছিল। তারা স্বীকার করত বন জঙ্গল থেকে ফলমূল আহরণ করত। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিকার ও জঙ্গলের ফলমূল যথেষ্ট পাওয়া যেত না। তখন খাদ্যের বিকল্প খুঁজতে গিয়ে উদ্ভব হলো কৃষির।

যে সমস্ত এলাকায় তখনও যথেষ্ট শিকার ছিল তারা শিকারি যুগেই পড়ে রইল। কৃষি অর্থনীতি চালু হওয়ার সাথে ধীরে ধীরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উপাদান যুক্ত হলো। সেটি হল সারপ্লাস বা উদ্বৃত্ত।

এই প্রথম মানুষ তার প্রয়োজনের অনেক বেশি পণ্য উৎপাদনে সক্ষম হলেও যা ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে রাখা সম্ভব যেটা শিকার যুগে সম্ভব ছিল না। ধীরে ধীরে মানুষ দেখল এককভাবে শস্য সংরক্ষণের চেয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে করলে সুবিধা হয়।

এই কেন্দ্রীয়ভাবে শস্য সংরক্ষণের ধারণা থেকে ধীরে ধীরে এল সমাজ ও রাষ্ট্রের ধারণা। শস্য সংরক্ষণের হিসাব রাখার প্রয়োজনে উদ্ভাবন হল লেখালেখির ধারণার। বিভিন্ন দলের ভেতরে শস্য ও পণ্য বিনিময় করতে গিয়ে উদ্ভাবন হল মুদ্রা ও অর্থব্যবস্থার। 

শস্য ভান্ডার পাহারা দেওয়ার প্রয়োজনে তৈরি হলো কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রব্যবস্থার। এই ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে যে অর্থের প্রয়োজন তার থেকে ধারণা এলো রাষ্ট্রীয় করের। কৃষি পণ্য বিনিময়ের ধারণা থেকে ধীরে ধীরে গড়ে উঠল ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থার।

ফলন বাড়ানোর প্রচেষ্টা থেকে এল কৃষি বিজ্ঞান ও তার হাত ধরে আধুনিক বিজ্ঞান। অন্যের পানি সমৃদ্ধ উর্বরা কৃষিজমি ছিনিয়ে নেওয়ার চিন্তা থেকে এলো রাষ্ট্রের বর্ধিতকরণের ধারণা। 

কৃষি উদ্বৃত্তের কারণে বছরের একটা সময় মানুষের হাতে এলো বিশ্রামের সময়। এই অবসর কাটানোর চিন্তা থেকে উদ্ভূত হল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের। বিভিন্ন দায়িত্ব বন্টনের ধারণা থেকে উদ্ভূত হলো সামাজিক শ্রেণীর।

উদ্বৃত্ত কৃষিপণ্য থেকে এভাবেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠলো জটিল সামাজিক ব্যবস্থা। তৈরি হল আধুনিক সভ্যতার প্রথম ধাপ।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker