ছুটিহোমপেজ স্লাইড ছবি

ইতিহাস ও ঐতিহ্যর খোঁজে সোনারগাঁয়ে

আরিফুল আলম জুয়েল: ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাথে সময় কাটাতে আমার বেশ ভালই লাগে; সময়-সুযোগ হলে দেখতে যেতে দ্বিধাবোধ করিনা কখনো। তাই চলে গিয়েছিলাম বাংলার বারো ভূইয়াদের প্রধান ঈসা-খাঁ’র কাছে। ভয়ের কিছু নেই, ঈসা-খাঁ জীবিত হয়ে ফিরে আসেননি আমাদের মাঝে; আমরা ফিরে গিয়েছিলাম প্রায় ৬০০ বছর আগের সময়টাতে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে অবস্থিত প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়িটি ঈসা-খাঁর জমিদার বাড়ি হিসেবেও সুপরিচিত। প্রায় ২৭ হাজার ৪০০ বর্গফুট আয়তনের দ্বিতল বড় সরদার বাড়িতে মোট ৮৫টি কক্ষ রয়েছে। নিপুন নকশা, টাইলস এবং মার্বেল পাথরের ব্যবহার এই জমিদার বাড়িকে করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্যে অতুলনীয়। বাংলার বারো ভুঁইয়া বা প্রতাপশালী বারোজন জমিদারদের প্রধান ঈসা-খাঁ। ঈসা-খাঁ এবং বারো জন জমিদার একসাথে বাংলায় স্বাধীনভাবে জমিদারী স্থাপন করে। ঈসা-খাঁর বাংলো বাড়ি কিশোরগঞ্জে অবস্থিত। তিনি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার সেইসময়ের জমিদার কুইচ রাজাকে সিংহাসনচ্যুত করে বাংলো বাড়িটি নির্মাণ করেন।

১৫৭৫ সালে সম্রাট আকবর বাংলা বিজয়ের পর বারো ভূঁইয়াদের ক্ষমতা কমে যায়। তখন সম্রাট আকবর বারো ভূঁইয়াদের দমন করতে অভিযান পরিচালনা করে সফল হননি। তখন সম্রাট আকবরের সেনাপতিকে পাঠান ঈসা-খাঁকে হত্যার জন্য কিন্তু বীর ঈসা-খাঁর সাথে সেনাপতি যুদ্ধে পরাস্ত হন। ঈসা-খাঁর অনেক নিদর্শন কিশোরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরিতে পাওয়া যাবে। মুঘল সেনাপতি মান সিংহ জীবনে কখোনো পরাজিত করতে পারেননি ঈসা খাঁ’কে !!!নিজে ঢুকেছিলাম বাড়িটিতে, অন্ধকারের খাড়া সিঁড়ি বেয়ে সোজা দোতলায়। গা ছমছম পরিবেশ! খুপড়ি খুপড়ি রুম-দরজা-জানালা; যার কোন শেষ নেই। আপনি কোন রুমে ঢুকে যদি কথা বলেন- কথার প্রতিধ্বনিতে আপনি নিজেই ভয় পাবেন; তাও সেটা দিনের বেলায়!ঐতিহ্যের নিদর্শন জমিদার বাড়ি শুধু আমাদের ইতিহাসের সাথে পরিচয় ঘটায় না সেই সাথে আমাদের কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক জীবনবোধের ধারাবাহিক রূপরেখা প্রদান করে। সময়ের পালাবদলে আজ জমিদারি ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে কিন্তু চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন আপনার পছন্দের জমিদার বাড়ি থেকে।

পাশে ই কিন্তু আছে পানাম নগরী! চারিদিকে নিস্তব্ধতা, মৃত নগরীর পথে দু-একটা মানুষ। মৃত কোলাহল আর অব্যক্ত ইতিহাস যেন জড়িয়ে আছে এ নগরীর প্রতিটি ইটে। পথের দু’ধারে কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে থাকা ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন আর কাঠামোগুলো যেন হারানো জৌলুসের কথা জানান দিচ্ছে। প্রায় ৪৫০ বছর আগে এ নগরী কতটা সমৃদ্ধ ছিলো, তা বারবার ভাবতে বাধ্য করে রাস্তার দু’পাশের দু’তল-ত্রিতল ভবনগুলো। পানাম নগরের পথে হাঁটতে হাঁটতে মনে হতেই পারে, ঈশা খাঁর আমলে চলে গেছেন।

কেমন যেন একটা রহস্য জড়িয়ে আছে জায়গাটিতে। প্রতিটি ধ্বংসস্তুপে যেন জড়িয়ে আছে একেকটা কাহিনী। যদিও ধ্বংসস্তুপ বলছি, তবুও এর আকর্ষণের নেই কমতি। ভবনগুলোর নির্মাণশৈলী দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। আরেকটু চাইলে আপনি সোনারগাঁ তে তাজমহলও দেখতে পাবেন; যার সাথে মিশরের পিরামিড দেখা ফ্রি!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker