আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণবাক্য

ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না

বিখ্যাত দাস ব্যবসায়ী ছিলেন এডওয়ার্ড ক্লস্টন। রয়েল আফ্রিকান কোম্পানি (আর-এ-সি)-এর হয়ে দীর্ঘ দিন আফ্রিকা থেকে দাস কেনাবেচা করেছেন। আরও অনেক পণ্যের ব্যবসাও ছিল তাঁর। অনেক ধন-সম্পদ করেছিলেন এভাবে। সেসব দিয়ে ব্রিস্টলে প্রচুর স্কুল-কলেজ-হাসপাতালও করেছেন। এমপিও ছিলেন একদা। ব্রিস্টলে বিশাল ব্রোঞ্জের মূর্তি গড়া হয়েছে তাঁর।

কিন্তু ইতিহাস থেকে তাঁর দাস ব্যবহার অতীত মোছা যায়নি। আগামী বছর ক্লস্টনের মৃত্যুর ৩০০ বছর পূর্তি হওয়ার কথা। কত দীর্ঘ সময়! কিন্তু তার এক বছর আগে ব্রিস্টলের বর্তমান প্রজন্ম ১৮ ফুট উঁচু ক্লস্টনের ব্রোঞ্জের মূর্তিটি এভন নদীতে ফেলে দেয়। ১৮৯৫-এ এই মূর্তিটি গড়া হয়েছিল সেখানকার ক্লস্টন এভিনিউতে।

আমেরিকার প্রতিবাদের ঢেউ ব্রিটেনে এভাবে আঘাত হানতে দেখে স্থানীয় এলিটরা চমকে উঠেছে আজ। ক্লস্টন রয়েল আফ্রিকান কোম্পানিতে থাকার দিনগুলোতে (১৬৮০ থেকে ১৬৯২-এর মাঝে) মাত্র ১২ বছরে প্রায় ৮৪ হাজার আফ্রিকান নারী-পুরুষ-শিশুকে কেনাবেচা হয়েছিল বলে তথ্য মিলে। এই কোম্পানিটি ছিল সেই সময়ের দাস ব্যবসায় সবচেয়ে বড় কোম্পানি।

‘দাস’ হিসেবে আফ্রিকার মানুষদের ক্রয়-বিক্রয়ের আগে তাদের শরীরে নির্মমভাবে ‘#আর-#এ-#সি’ লেখা মোহর মেরে দেয়া হতো সেসময়। বর্বরতায় মোড়ানো সমুদ্র পরিবহনকালেই এসব ক্রয়কৃত মানুষদের অনেকে মারা যেতেন। মানুষ ছাড়াও আফ্রিকার মূল্যবান সকল খনিজই সেসময় লুন্ঠন করেছে আরএসি। তবে ব্রিস্টলবাসী জানিয়ে দিল –ইতিহাস মুছে দেয়া যায় না। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। 

– আলতাফ পারভেজ 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker