টেক টকপ্রযুক্তি

এক টেক উদোক্তার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

মাসুম আহমেদ: আপনারা তো ইলন মাস্ককে চিনেন, মার্ক জাকারবার্গকে চিনেন, জেফ বেজোসকে চিনেন। আচ্ছা আপনারা কি ব্রায়ান এক্টন নামের কাউকে চিনেন? মনে হয় না সবাই চিনতে পারছেন! আসেন আমরা সবাই ব্রায়ান এক্টন নামের লোকটার সাথে পরিচিত হই। লোকটার বাড়ি আমেরিকা। জন্ম মিশিগান ষ্টেটে, কিন্তু বড় হয়েছেন ফ্লোরিডায়। স্ট্যানফোর্ড থেকে পাস করা একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার।

পড়াশুনা শেষ করে ১৯৯০ সালে অ্যাপলের সাথে প্রডাক্ট টেস্টার হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। তারপর কিছুদিন এডোবি সিস্টেমের সাথে কাজ করেন। ১৯৯৬ সালে ইয়াহুতে জয়েন করেন। তখন ইয়াহু ছিলো ওয়াল্ডের টপ টেক কোম্পানিদের মধ্যে অন্যতম।এখনকার অ্যাপল ফেইসবুক আমাজানের মতো। ইয়াহুতে ১১ বছর কাজ করার পর ইয়াহু থেকে চাকরি ছেড়ে দেন।

তখন বাজারে ফেইসবুক, টুইটারের বাজার গরম। টেক কোম্পানি হিসাবে তারা ভালো গ্রো করছে। তারপর ব্রায়ান ফেইসবুক, টুইটারে জবের চেষ্টা করেন। অ্যাপল, ইয়াহুর মতো বড় কোম্পানিতে কাজ করার পরেও সে ফেইসবুক, টুইটারের কাছ থেকে রিজেক্ট হয়। ফেইসবুক, টুইটার কেউই তাকে জব দেয়নি।

ফেইসবুক, টুইটারের কাছ থেকে রিজেক্ট হওয়ার পর শুরু হয় ব্রায়ানের জীবনের নতুন এক অধ্যায়। সে জব খোঁজা বন্ধ করে দিয়ে সে নিজেই একটা স্টার্ট-আপ শুরু করে। তার এক পুরানো কলিগ যার সাথে সে ইয়াহুতে কাজ করতো নাম জেন কুউম, তার সাথে মিলে সে তার স্টার্ট-আপ শুরু করে। তারা সেটার নাম দেয় ‘হোয়াটসঅ্যাপ’!

তারপরের ইতিহাস তো সবাইই জানেন। হোয়াটসঅ্যাপ একটা সময় দুনিয়ার সবচেয়ে বড় এবং অয়েলনউন মোবাইল মেসেজিং সিস্টেম পরিণত হয়। তাপর একটা সময় ফেইসবুক ১৯ বিলিয়ন দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নেয়। যেটা ছিলো টেক ইতিহাসের দ্যা বিগেস্ট বাই। ফেইসবুক হোয়াটসঅ্যাপ কিনার পর ব্রাউন হয়ে যান বিলিনিয়ার এবং আমেরিকার ১২০ তম ধনী ব্যাক্তি। যে ফেইসবুক তাকে একদিন জবে নেয়নি, সেই ফেইসবুকই তার কাছে যেতে হয়েছে। একেই বলে রিভেঞ্জ। কথায় আছে না, “সাকসেস ইজ দ্যা বিগেস্ট রিভেঞ্জ”!

ব্রায়ান এখন সিগনাল নামের একটা ফাউন্ডেশন চালান। যেটার মাধ্যেমে মানুষ প্রাইভেট কমিনিউকেশন করতে পারে ইনক্রিপ্টেড মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যেম। আর বউকে সাথে নিয়ে করছেন চ্যারিটি ওয়ার্কস। ব্রায়ান প্রায় এক বিলিয়ন ডলার চ্যারেটিতে দান করেছেন।

এখন চিন্তা করেন ব্রায়ান যদি ফেইসবুক, টুইটারের কাছ থেকে রিজেক্ট হওয়ার পর সে ভেঙে পড়তো? যদি সে ইয়াহুর জব না ছাড়তো? তাহলে কি হতো? ব্রায়ানের ঘটনা আমাদের একটা বড় শিক্ষা দেয় সেটা হলো- আমরা কেউই জানি না আগামিকাল আমাদের জীবনে কি ঘটবে। সুতারাং সবসময়ই আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যেতে হবে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker