বিনোদনসাহিত্যহোমপেজ স্লাইড ছবি

কাফকা এবং একটি পুতুলের গল্প

৪০ বছরের নিঃসঙ্গ কাফকা একদিন বার্লিনের পার্কে হাঁটছিলেন। তাঁর এই নিঃসঙ্গতা শুধু পার্কে নয় জীবনেও তিনি বড়ই একা। বিয়ে করেন নি, কোন সন্তানও নেই। হঠাৎ একটা বাচ্চা মেয়ের কান্না তাঁর দৃষ্টি কেড়ে নিল। কাছে গিয়ে জানতে পারলেন মেয়েটি তার আদরের পুতুলটা হারিয়ে ফেলেছে। খুঁজে পাচ্ছেনা কিছুতেই। কাফকা বললেন, চলো একসাথে খুঁজি। দু’জন মিলে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পুতুলটা পাওয়া গেল না। কাফকা মেয়েটি বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বললেন তুমি বরং কাল এসো, কাল আবার আমরা খুঁজব।

পরদিন আবার অনেক খোঁজাখুঁজির পরও যখন পুতলটা পাওয়া গেল না কাফকা মেয়েটির হাতে একটা চিঠি দিলেন। চিঠিটি লিখেছে মেয়েটির ঐ হারানো পুতুল। উৎসুক মেয়েটি চিঠি খুলে দেখল তাতে লেখা আছে, “দয়া করে আর কেঁদোনা, আমি পৃথিবীটা একটু ঘুরে দেখতে চাই, তাই বিশ্ব ভ্রমণে বেরিয়েছি, আমার অভিযানের কথা তোমায় চিঠিতে জানাব” কাফকার সাথে মেয়েটির প্রায় দেখা হতো। সাথে থাকত একটা নতুন চিঠি। পুতুলুর রোমাঞ্চকর যাত্রা, কথোপকথন কাফকা মেয়েটিকে পড়ে শোনাতো। মেয়েটি শুনে খুব মজা পেত। অবশেষে পুতুলের অভিযান শেষ হলো।

পুতুল সারা পৃথিবী ঘুরে বার্লিনে ফিরে এসেছে। কাফকা পুতুলকে মেয়েটির হাতে তুলে দিল। কাফকা আসলে নতুন একটা পুতুল কিনেছিল। পুতুলটা হাতে পেয়ে মেয়েটি বললো, এই পুতলতো একটুও আমার পুতুলের মতো দেখতে না। এটা আমার পুতুল না। কাফকাকে মেয়েটির হাতে আরেকটা চিঠি দিল যাতে লেখা ছিল, “আমার যাত্রা আমায় বদলে দিয়েছে” খুশি মনে বাচ্চা মেয়েটি পুতুলে জড়িয়ে ধরলো, একটা স্নিগ্ধ হাসি দিয়ে পুতলকে সঙ্গে করে বাসায় নিয়ে গেল। তার একবছর পর কাফকা মারা গেলেন।

অনেক বছর পরের কথা। বাচ্চা মেয়েটি আর বাচ্চা নেই। বড় হয়ে গিয়েছে। পুতুলটা সে যত্ন করে রেখে দিয়েছে। একদিন সেই পুতুলের ভেতর সে আবিষ্কার করল আরেকটা চিঠি। যাতে কাফকার স্বাক্ষর দেয়ে। ওতে লেখা ছিল, “যা কিছু তুমি ভালোবাসো একদিন হয়তো সব হারিয়ে যাবে, কিন্তু দিনশেষে ফিরে আসবে ভালোবাসা, একটু অন্যভাবে”

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker