বিনোদনসিনেমা ও টেলিভিশনহোমপেজ স্লাইড ছবি

গডজিলা ভার্সেস কং: কেন দেখবেন?

মেহেদী হাসান মুন: গডজিলা ভার্সেস কং দেখার আগে আবার একে একে গডজিলা, কং-স্কাল আইল্যান্ড ও গডজিলা কিং অফ মন্সটারস রিভিশন দিয়ে নিয়েছি। যখন ইন্ডিভিজুয়ালি দেখেছি তখন কেন যেন গল্পগুলোকে এক সুতোয় গাঁথতে পারি নি। রিভিশন দেয়ার সময় খুব সহজেই টাইমলাইন, ইস্টার এগ সব ধরতে পেরেছি। শুরু থেকেই মনার্কের আন্ডারে পুরো মন্সটারভার্সকে সাজানো হয়। এভেঞ্জারসে যেমন শিল্ডের আন্ডারে সব ঘটনা ঘটে এখানে সে জায়গা নিয়েছে মনার্ক। নিক ফিউরির মতো এখানে যার হাত ধরে ঘটনার পট পরিবর্তন হয় তিনি মনার্কের বিজ্ঞানি উইলিয়াম রান্ডা ও ইশিরো শেরিজাওয়া। মন্সটারভার্সের পুরো গল্পটা শুরু হয় ১৯৪৩ সালে।

ইউএসএস লওটন নামের এক শিপে আঘাত হানে এক অজানা মন্সটার, যার কারণে ধ্বংস হয় পুরো জাহাজ, মারা যায় শিপের সকলে রান্ডা ছাড়া। ওদিকে ২ বছর পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে দুটো যুদ্ধবিমান একে অপরকে আক্রমণ করতে গিয়ে ভূপাতিত হয় অজানা এক দ্বীপে। সেখানেই তারা প্রথম দেখা পায় কং এর। তবে সে খবর বাইরের কেউই জানে না। সে সময়েই হিরোশিমায় পারমাণবিক বিস্ফোরণে উৎপন্ন রেডিয়েশনের কারণে হাইবারনেশন থেকে মুক্ত হয় দুটো কাইজু গডজিলা ও শিনোমুরা। তারা রেডিয়েশন গ্রহণ করার জন্য শহরে এলে সরাসরি তাদের দেখে এইজি শিরিজাওয়া, যার সন্তান ইশিরো পরে ‘গজিরা’র লেগ্যাসি ও সত্যতা প্রমাণে নিজের সর্বস্ব ঢেলে দেয়। তারপরই পৃথিবীর বুকে লুকিয়ে থাকা এই মন্সটার টাইটানদের উৎস ও উৎপত্তি খুঁজে বের করার জন্যই তৈরি হয় মনার্ক। মনার্কের বিভিন্ন গবেষণার উৎস ধরে ১৯৭৩ সালে স্কাল আইল্যান্ডে পাড়ি জমান রান্ডা ও এক আর্মি দল। সেখানেই দেখা যায় সে আইল্যান্ডের রাজা কংকে। এরপর ১৯৯৯ সালে জাপানের ফিলিপাইনে আবিষ্কার করা হয় এক জায়ান্ট মুটোর ফসিল যা থেকে সদ্য এক মুটো বের হয়েছে যাকে কীনা আবিষ্কার করা হয় জাপানের জানজিরায় এক পাওয়ার প্ল্যান্টে। পুরো পাওয়ার প্ল্যান্ট ধ্বংসস্তুপে রূপ নেয় আর গোটা শহরে নেমে আসে তেজস্ক্রিয়তা।

সেখানেই ১৫ বছর ধরে রেডিয়েশন নিতে থাকে মুটো। ১৫ বছর পরে ঘুম থেকে জেগে সে আহ্বান জানায় মেটিং এর জন্য এক ফিমেল মুটোকে। পৃথিবীকে ধ্বংস করতে উদ্যত এই মুটোদের থামাতে হাজির হয় গডজিলা। ইশিরো শেরিজাওয়া তখনই প্রথম প্রমাণ করতে পারেন যে গডজিলা মানুষের পক্ষে, পৃথিবীর পক্ষে। এরপরে মনার্কের সরকার ও আর্মির সাথে যুদ্ধ, ওদিকে একের পর এক মন্সটারের আবিষ্কার ও আক্রমন। প্রতিবার গডজিলা রক্ষাকর্তার ভূমিকায়। কিন্তু হুট করেই গডজিলা আক্রমন করে বসে পৃথিবীতে, কোন মোটিভ খুঁজে পায় না মনার্কও। তখন গডজিলাকে থামানোর জন্য স্কাল আইল্যান্ড থেকে নিয়ে আসা হয় কংকে। প্রায় ৫০ বছরে কং আকার ও শক্তিতে হয়ে উঠেছে গডজিলার সমমানের। কং কি পারবে গডজিলাকে থামাতে? গডজিলাই বা এমন মারমুখী হয়ে উঠলো কেন? দুই টাইটানের লড়াইয়ে কে জিতবে শেষমেষ? পৃথিবী কি আদৌ রক্ষা পাবে এই দুই মন্সটারের লড়াইয়ের পর?গডজিলা ভার্সেস কং- এ এসবের উত্তরই পাওয়া যাবে।

মন্সটারভার্সের গল্পটা ভালোভাবেই সাজিয়েছে ক্রিয়েটররা। কিন্তু প্রতিটা সিনেমা ইন্ডিভিজুয়াল মুভি হিসেবেও যেন বানাতে চেয়েছেন তারা। খুব কম চরিত্রই রিপিট হয়েছে, বারবার নতুন চরিত্র-নতুন ব্যাকস্টোরি কিছুটা বিরক্ত করে। আগের সিনেমাগুলোতে যেমন একশনের সাথে গল্পও ছিল এখানে সেটা কিছুটা হলেও কম। কেবল একশন, ধুন্ধুমার একশন। কং আর গডজিলা দুজনই ফ্যান ফেভারিট। তাদের মুখোমুখি লড়াই নিয়ে তাই আগ্রহের কমতি ছিল না। সেয়ানে সেয়ানে লড়াইটা ভালোই জমেছে। মন্সটারভার্স আরও কন্টিনিউ হোক। এরকম একশন এন্টারটেইনারের প্রয়োজন আছে। প্রয়োজন আছে মানুষের চেয়ে বেশি প্রকৃতির গল্প বলা।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker