ফিচারবাক্যহোমপেজ স্লাইড ছবি

গার্মেন্টস কন্যার মহাকাশ জয়

একজন ট্রাক চালকের মেয়ের স্বপ্ন আর কতই বা বড় হবে। তার ওপর মা যদি হন গার্মেন্টস কর্মী। হাড়-জিরজিরে পরিবারের স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরা কখনো কখনো বিমানের পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখেন বটে, সেটা কিন্তু অতিবাসনার কাতারেই পড়ে। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ ব্যতিক্রম থাকেনই, আকাশ কুসুম কল্পনাকে তারা স্রেফ অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের জোরেই বাস্তবে পরিণত করে।

আজ তেমনই একজন মেয়ের কথা তুলে ধরছি। আসেন, পরিচয় করিয়ে দেই সেই গার্মেন্টস কন্যার সাথে। ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভার জন্ম ১৯৩৭ সালে ৬ই মার্চ বলশয় মাসলেনিনকভ। একটু গুগল মামাকে আস্ক করে আসি, এই গ্রামটা কোন দেশে পড়ছে? আমি তো বলতেই ভুলে গিয়েছিলাম, তাকে তো রুশ কন্যা বলে সারা পৃথিবী চিনে থাকে। আচ্ছা, পয়েন্টে আসি এখন। ভ্যালেন্তিনার বাবা একজন ট্রাক চালক,মা গার্মেন্টসে ছোট্ট একটা চাকুরী করনে। কিন্তু দু’বছর বয়সেই বাবাকে হারান রুশ-ফিনিশ যুদ্ধে, ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গ্রাম ছাড়েন তারা। চলে আসেন ইয়ারোস্লাভ এলাকায়।

ভ্যালেন্তিনা প্রথমে একটা টায়ার তৈরীর কারখানায় কাজ জুটিয়ে নেন, পরে মায়ের সাথে তিনিও চলে যান গার্মেন্টসে। দিনে চাকুরী আর রাত্রে স্কুল। এভাবেই অতি কষ্টে ভ্যালেন্তিনার লেখাপড়ার পাঠ চলতে থাকে। ছাত্রাবস্থায় তার একটাই স্বপ্ন ছিল, একদিন তিনি পাইলট হবেন,প্যারাসুট নিয়ে লাফ দিয়ে পড়বেন বিমান থেকে। তিনি বন্ধুর পরামর্শে ভর্তি হন এক স্কাই ড্রাইভিং ক্লাবে। সেই ক্লাবের আঞ্চলিক স্কাই ড্রাইভিং প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই বাজিমাত করে দেন তিনি।

রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধ তখন বিশাল আকার ধারণ করে আছে, জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে সবর্ত্রই চলছে তাদের পেশি পদর্শনের প্রতিযোগিতা। ১৯৬১ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইতিহাসের প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ করেন রুশ নভোচারী ইউরি গ্যাগারিন। এর জেদ ধরে ১৯৬৯ সালে মার্কিন নীল আর্মস্ট্রং তো চাঁদেই চলে গেল। যাহোক, ১৯৬৯ সালের আগের ঘটনায় ফিরে আসি। রুশরা এইবার চিন্তা করলেন, একজন নারীকে মহাশূন্যে প্রেরণ করা নিয়ে। রুশ মহাকাশবিজ্ঞানীরা আবেদন চাইলেন দেশের নারীকূলের মধ্য থেকে। হাজার হাজার চিঠি আসে,এরমধ্যে সংক্ষিপ্ত তালিকা বের করে, সাক্ষাৎকারে মাধ্যমে ৫ জনকে নির্বাচিত করা হয়।

এই ৫ জনের চললো এক বছরের দীর্ঘ প্রশিক্ষণ। শেষমেশ পাওয়া গেল আসল জনকে। স্বল্প শিক্ষিতা ভ্যালেন্তিনা নির্বাচিত হলেন মহাকাশ ভ্রমণের জন্য। ১৯৬৩ সালের ১৬ জুন ভস্কত ৬ মহাদেশে প্রথমবারের মতো উঠলো নারীর জয়-পতাকা। ভ্যালেন্তিনার বয়স এখন ৮৬ বছর, এই সাহসী নারীর স্বপ্ন এখনো ফুরায়নি, তিনি এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন মঙ্গল জয়ের। একটা কথা বলে রাখি, মঙ্গল যাত্রীরা কিন্তু কখনো পৃথিবীতে ফিরে আসবে না। তবুও, ভ্যালেন্তিনা সেই অভিযানের অংশ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: বিজ্ঞানীদের গোপন জীবন, আবদুল গাফফার

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker