বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

চার্লস ডারউইনের জীবনের গল্প নিয়ে যে সিনেমা

ইদানিংকালের সব মুভি বা সিরিজ, এর মূল উদ্দেশ্য থাকে মানুষকে শক দেয়া। মানুষ এখন আর ভালোবাসার গল্প, জীবনের গল্প, সম্পর্কের গল্প “খায় না”। আমার এই কথাটি অনুমানভিত্তিক হলেও আমার ধারণা ডাটা দিয়ে প্রমাণ করা যাবে। নতুন যা কিছুই হিট হয়, তাই দেখি সিরিয়াল কিলিং, গ্যাংবাজি, ডাকাতি, ভয়ংকর ভায়োলেন্ট কোন অপরাধ ইত্যাদি নিয়ে।

অনেকদিন আগে একটা আর্টিকেল পড়েছিলাম, যা আমার কথাকে সমর্থন করে। সেখানে বলা হয়েছিলো শকিং এলিমেন্ট বেশি দেখানোর জন্যে এক্সট্রিম ধরণের মেকআপ দিতে গিয়ে অভিনেতাদের চামড়ার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। যাই হোক, এত কথা বলছি, আমি নিজেও শকিং এলিমেন্ট দেখতে পছন্দ করি। সেই ২০০৪ থেকে যখন ডিভিডি এবং ইন্টারনেট নামক বস্তুটি হাতের নাগালে এলো, তখন থেকে শকিং মুভি নিয়ে অনেক গবেষণা করেছি। এখন কিছুটা ক্লান্তি এসে গেছে। তাই মাঝেমধ্যে ট্র্যাক চেঞ্জ করতে ইচ্ছে করে।

ট্র্যাক বদলানোর জন্যে দেখলাম চার্লস ডারউইনের জীবনীভিত্তিক ছবি Creation. বলে রাখা ভালো, ডারউইন আমার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্বের একজন। তিনি এমন কিছু চিন্তা করেছেন, যা মানুষ চিন্তা করার কথা চিন্তাই করতে পারে নি। বছরের পর বছর এই চিন্তা প্রতিষ্ঠিত করতে তাকে কাজ করতে হয়েছে, পরিবার এবং সমাজ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে, করতে হয়েছে অচিন্ত্যনীয় ত্যাগ। চিন্তার জগতে তাকে আমার আইনস্টাইন বা নিউটনের চেয়ে কম কিছু মনে হয় না।

যাই হোক, সিনেমাটিতে আমরা একজন বিজ্ঞানী ডারউইনকে যতটা না দেখি, তার চেয়ে বেশি দেখি একজন পিতা এবং একজন পতি ডারউইনকে। ডারউইন তার সন্তানদের মধ্যে বিশেষভাবে স্নেহ করতেন মেয়ে এ্যানিকে। এ্যানি ছোটবেলা থেকেই বাবার বিবর্তনবাদ সংক্রান্ত গবেষণা বিশেষ আগ্রহ নিয়ে দেখতো। বাবাও তার সাথে অনেক কিছুই ভাগাভাগি করতেন। পশু, পাখি, কীটপতঙ্গদের কাছে নিয়ে দেখাতেন, তাদের নিয়ে নানারকম গল্প করতেন। একসময় এ্যানি খুব অসুস্থ হয়ে যায়। এ্যানিকে বাঁচানো সম্ভব হয় নি। তারপর থেকেই নানারকম হ্যালুসিনেশন এবং অন্যান্য মানসিক ও শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় ডারউইনের। বৈবাহিক সম্পর্কও ব্যাহত হয়। এই গল্পটা শোক জয় করে আসা একজন মানুষের, যে পৃথিবীকে তার চিন্তা দিয়ে বদলে দিয়েছে চিরদিনের জন্যে।

ছবিটায় আপনি বিজ্ঞানের বদলে মানবিকতাই বেশি পাবেন। ডারউইন চরিত্রে অভিনয়কারী পল বেটানি মন জয় করে নেবে। দীর্ঘদিন মনে থাকবে ছোট্ট, অনুসন্ধাৎসী মেয়ে এ্যানির কথা। জেনিফার কনোলি এখানে সাদামাটা একজন গৃহবধু, কিন্তু তাকে কি অগ্রাহ্য করা যায়! ছবিটা দেখতে পারেন ডারউইনের প্রতি ভালোবাসা থেকে, কিংবা ডারউইনকে সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে একটা চমৎকার বাবা-মেয়ে সম্পর্কের চিত্রায়ন হিসেবেও এটা আপনাকে হতাশ করবে না। 

– হাসান মাহবুব 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker