আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণবাক্যহোমপেজ স্লাইড ছবি

জেনেটিক জেনিয়ালজী : অপরাধী শনাক্তকরণে নতুন পদ্ধতি

আহমেদ রফিক: কার্টিস রজার্স নামে এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী ও জন ওলসন নামে এক ট্রান্সপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার লেক ওয়ার্থ, ফ্লোরিডায় 2010 সালে জেডম্যাচ ( ZedMatch ) নামে একটা ডিএনএ প্রোফাইলিং কোম্পানি খোলেন। তাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল নতুন গবেষকদের জেনেটিক গবেষণায় সাহায্য করা এবং এতিম, দত্তক বা পরিত্যক্ত শিশুদের বাবা-মা অথবা আত্মীয়-স্বজনদের খুঁজে বের করতে সাহায্য করা।

জেড ম্যাচে রেজিস্ট্রেশনকৃত ব্যবহারকারী স্বেচ্ছায় নিজের ডিএনএ তথ্য ওয়েবসাইটে আপলোড করে রাখতেন। নতুন কোন ডিএনএ আপলোড হলেই একটা সফটওয়্যার সবার সাথে মিলিয়ে দেখে ম্যাচকৃত ব্যবহারকারীকে ইমেইল করে দিত। এভাবেই লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারীর তথ্য নিয়ে একটা বেশ বড়সড় ডাটাবেজ তৈরী হয়ে যায়।

ওদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার পুলিশ 1974 সাল থেকেই গোল্ড স্টেট কিলার নামে এক সন্দেহজনক সিরিয়াল কিলার ও ধর্ষকের পরিচয় উদ্ধার করতে হিমশিম খাচ্ছিল।

একজন ইনভেস্টিগেটর অনেকটা কৌতূহলবশত 2018 সালে ক্রাইম সিনে পাওয়া ডিএনএ তথ্য জেড ম্যাচের ওয়েবসাইটে আপলোড করেন। আশ্চর্যজনকভাবে দশ থেকে বিশ জনের মত দূরসম্পর্কীয় আত্মীয় খুঁজে পাওয়া যায়।

একজন জেনিয়ালজিষ্টের সাহায্য নিয়ে পুলিশ এই 10 থেকে 20 জনের ভেতর থেকে জেমস ডি এঙ্গোলো নামে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারকে শনাক্ত করে।

পরে সন্দেহভাজনের বাড়ি থেকে ফেলে দেওয়ার জিনিসপত্রের ভেতরে পাওয়ার ডি এন এর সাথে পুলিশের হাতে থাকা ডিএনএ সম্পূর্ণ ম্যাচ করে। জেরার মুখে এঙ্গোলো তের জনকে হত্যার কথা স্বীকার করে। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা কেসের মীমাংসা হয়।

জেনিয়ালজীর সাহায্য নিয়ে এভাবেই পুলিশ অনেকগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা চাঞ্চল্যকর কেসের মীমাংসা করতে সক্ষম হয়।

তবে জেডম্যাচের গ্রাহকগণ পুলিশ ও কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ভঙ্গের অভিযোগ করতে থাকেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্যালিফোর্নিয়া জাষ্টিস ডিপার্টমেন্ট 2019 সালে ডিএনএ তথ্য ব্যবহার করার ব্যাপারে নতুন আইন প্রণয়ন করেন। এই নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতির সাহায্যে ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে অপরাধীদের পৃথিবী।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker