ট্রেন্ডিং খবরহোমপেজ স্লাইড ছবি

 যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব আন্দোলনের নাম #MeToo

কামরুজ জামান: ফেসবুক কিংবা টুইটারের নিউজফিডে চোখ রাখলে আপনি দেখবেন প্রতিদিন ই কোন তারকা অথবা কেউ না কেউ #MeToo  লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছে। খবরের কাগজে ও দেখতে পাবেন এই নিয়ে খবরের পর খবর!
কিন্তু #MeToo আসলেই কি? এই প্রশ্ন অনেকের মনে।

#MeToo বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম আলোচিত শব্দ।
এটা শুধু শব্দ নয় যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে পৃথিবীব্যাপী গড়ে উঠা এক সরব আন্দোলনের নাম,প্রতিবাদের নাম।
যে শব্দ আমাদের জীবনের অনেক গোপন সত্য প্রকাশে সাহসী করে তোলে।

ধনী গরিব, সাদা কালো, সমস্ত ক্ষেত্রে , সমস্ত দেশে, সমস্ত সমাজে যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ঘটে চলেছে। এবং অবাক করার মত খবর হলো , সেই যৌন নিপীড়নের ৭৫% ই নথিভুক্ত হয় না ।কারণ, কাজ হারানোর ভয় থাকে, প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার শিকার হওয়ারও ভয় থাকে। এবং বলা বাহুল্য যে নির্যাতিতার সেই ভয়ই নির্যাতনকারীর সাহসও বাড়িয়ে দেয়, তাকে ক্রমশ অদম্য করে তোলে।

১৯৯৭ সালে সমাজকর্মী টারানা বার্ক যখন ১৩ বছরের এক কিশোরীর মুখে তার ওপর যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা শুনেছিলেন, তখনই তাঁর বুকের ভিতর জন্ম নিয়েছিল ওই #MeToo ।

পরে যৌন হিংসার বিরুদ্ধে তাঁর প্রচার আন্দোলনের নামও বার্ক রাখেন #MeToo’ অর্থাৎ ‘আমিও’ যৌন নির্যাতনের শিকার ।তবে নিরবধি কাল ধরে মেয়েরা পৃথিবীর সর্বত্র যৌন হিংসার শিকার হলেও কৃষ্ণাঙ্গ বার্ক-এর ২০০৬ সালে গড়ে তোলা ওই আন্দোলনকে বিশিষ্ট শ্বেতাঙ্গ নারীবাদীরা অবশ্য পাত্তা দেননি দীর্ঘদিন। কোনও সমর্থনই পায়নি তাঁদের।শেষ পর্যন্ত গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড হলিউড-এর বিখ্যাত সিনেমা প্রযোজক হারভে উইনস্টেইন-এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি যৌন পীড়নের একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে উঠে এলে ওই #MeToo ছড়িয়ে পড়ে আলিসা মিলানোর হাত ধরে।

তারপরের গল্প ইতিবাচক!
শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের, নিয়োগকারীর বিরুদ্ধে নিযুক্তের অভিযোগের তীর যেন কেবলই ধেয়ে আসছে। কাজের জায়গায় বিশেষ করে পুরুষ নিয়ন্ত্রিত কাজে নিজস্ব ক্ষমতার অপব্যবহার করে, কখনও ভয় দেখিয়ে মেয়েদের প্রতি যারা অন্যায় যৌনাচরণ করেছেন, হঠাৎই যেন ওই #MeToo আজ সেই সব নামী দামী ব্যক্তিদেরও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। এবং শাস্তি ও নেমে আসছে কারো কারো ওপর।

#MeToo অসংখ্য ভুক্তভোগী নারীর জীবনে এতদিনের এক অব্যক্ত যন্ত্রণার নৈশব্দকে ছডিয়ে দিয়েছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে। যার ফলে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮৫ দেশের লক্ষ লক্ষ নারীর হৃদয়কে উদ্বেলিত করেছে, আন্দোলিত করেছে।
নানা ক্ষেত্রে নানা সময়ে যাঁদের জীবনে যৌন লাঞ্ছনা, যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। নিজেদের সেই হয়রানির কথা প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন। নিজেরা একাত্মও বোধ করছেন পৃথিবীর কোটি কোটি সেই নির্যাতিতা মেয়েদের সঙ্গে।
যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ, এই আন্দোলন একদিন পরিণত করবে পৃথিবীকে সতিক্যারের স্বর্গে।
পৃথিবীর প্রতিটি সুন্দর মনের মানুষ সেই দিনের অপেক্ষায়।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker