ক্রিকেটখেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

দ্যা ফিজ!

মোস্তাসিন মাহাদী: ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল অভিষেক হয় এমন এক ক্রিকেটারের যার বোলিং ভেলকিতে ইতিমধ্যে ক্রিকেটবিশ্ব স্তব্ধ। আমার স্পষ্ট মনে আছে ১ম ম্যাচ ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে তাও আবার ফিজের ফেবারিট ফর্মেট টি-টোয়েন্টি তে। নিজের ১ম ম্যাচেই আফ্রিদিকে স্লোয়ার আর কাটার দিয়ে নাস্তানাবুদ করতে ছিল এবং শেষমেষ তার উইকেট নিয়েই ফিজের ক্যারিয়ার শুরু। সেই ম্যাচে হাফিজের উইকেটও পেয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভার বল করে ২০ রান দিয়ে পেয়েছিলেন ২ উইকেট। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ জয়লাভ করে ৭ উইকেটে যার বড় অবদান এই ফিজের ছিল।

তারপর ২০১৫ এর জুন মাসে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় ফিজের প্রতিপক্ষ ভারত। আহ! ১ম ম্যাচেই ফিজের কাটার আর স্লোয়ার সামলাতে হিমশিম খেতে থাকে ভারতের ব্যাটসম্যান। ১ম ম্যাচেই তুলে নেয় ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে নতুন এক অসাধারণ বোলার এর আবির্ভাব হয়। ২য় ম্যাচে হয়ে ওঠে আরও ভয়ংকর। একে একে তুলে নেয় ৬ টি উইকেট। সাথে সেই ম্যাচেও হারিয়ে দেয় ভারত কে। ৩য় ম্যাচে ভারত এক প্রকার দেখে খেলতে থাকে ফিজের বল তারপরও ২ উইকেট শিকার করে। স্বপ্নের সিরিজ দিয়ে ওয়ানডেতে যাত্রা ফিজের।

এখন আসি চলতি অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে। ফিজ আমাদের মূল বোলার সেইটা আমরা আগে থেকেই জানি। যার ফলশ্রুতিতে ১ম ম্যাচে ১৬ রান দিয়ে পেয়েছে ২ উইকেট। ২য় ম্যাচে ৪ ওভার বলে করে ২৩ রান দিয়ে পেয়েছে ৩ উইকেট। তার এমন বোলিংয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সহজ হয়েছে। এখন আসি ৩য় ম্যাচে ফিজের বোলিং নিয়ে। ৪ ওভার ৯ রান ০ উইকেট। কিছু কিছু ম্যাচে উইকেটের চেয়ে রানের ফিগারটা হয়ে উঠে উজ্জ্বল। তেমনই ছিল এই ম্যাচে ফিজের বোলিং। আমরা সবাই জানি ১৯ তম ওভার কত গুরুত্বপূর্ণ। সেই ওভারে ফিজ দিয়েছে মাত্র ১ রান। যা এক প্রকার অবিশ্বাস্য। এই অসাধারণ ওভারের মাধ্যমে আমরা ১ম বার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয় করতে পেরেছি।

আরও ২ টা ম্যাচ বাকি আছে। আমরা সবাই চাই বাংলাদেশ এই দুই ম্যাচে জয়লাভ করে সারা বিশ্ব কে তাক লাগিয়ে দিক। এই দুই জয়ের জন্য অনেক বেশি ভূমিকা রাখতে হবে ফিজকে। আমরা আশা রাখি ফিজ আমাদের আশাহত করবে না। তার সেরাটা দিয়ে জয় ছিনিয়ে আনবে। তা শুধু এখন সময় এর অপেক্ষায়।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker