বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

টুয়েলভ অ্যাংরি ম্যান: শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয়তায় ভরপুর যে সিনেমা

অসাধারণ একটি কোর্টরুম ড্রামা দেখলাম‍‍। বিচারকদের সর্বসম্মত রায়ের জন্য কীভাবে কনসেন্সাস বিল্ডিং হতে পারে- তার দারুণ একটি চিত্রপট‍। সিনেমার প্রায় পুরো সময়টা একটা সেটে আবদ্ধ করেও শ্বাসরুদ্ধকর নাটকীয়তা বজায় রাখার অসামান্য চিত্রায়ন‍ ‘দ্য টুয়েলভ অ্যাংরি ম্যান’। বুড়ো মানুষদের রাগারাগি দেখাটাই এত উপভোগ্য যে, চোখ সরানো যায় না‍।

টুয়েলভ অ্যাংরি ম্যান কোর্টরুমের ছবি। এক তরুণ তার বাবাকে খুন করেছে—এই নিয়ে বাদী–বিবাদীর সওয়াল–জবাবের পর জুরিরা ঠিক করছেন, ছেলেটি দোষী না নির্দোষ। প্রথমে মনে হয়েছে, এটা একেবারেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে ছেলেটিই অপরাধী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জুরিদের ভাবনায় এই স্থির বিশ্বাসে সংশয় আসে এবং কাহিনি পরিবর্তিত হয়ে একেবারে গোয়েন্দা কাহিনিতে রূপ নেয়। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫৭ সলের ১০ এপ্রিল।

নিজের বাবাকে খুনের অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী এক ছেলের বিরুদ্ধে মামলা। শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণের পর ১২ বিচারকের বোর্ড সিদ্ধান্ত নিতে বসেছে‍। রায়টা হতে হবে সর্বসম্মতিক্রমে‍। ১১ জন বিচারক একদিকে, ভিন্নমত কেবল একজনের‍। তার মতে, এখানে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের অবকাশ আছে‍। কী সেই রিজনেবল ডাউট? তিনি স্পষ্ট জানেন না‍। শুধু বলতে চান, সিদ্ধান্তের আগে আরেকবার আলোচনা হোক‍। এই ‘সময় নষ্ট’ নিয়েই ঝগড়াঝাঁটি‍।

এই মুভিটি যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস ‘ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক নান্দনিক’ চলচ্চিত্র হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে‍। এই সিনেমায় দেখা যাবে বহুমুখী ব্যক্তিত্বের ভাবনা, বিচিত্র অভিজ্ঞতা, বিক্ষিপ্ত আবেগ ও সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা। প্রতিটি চরিত্র দর্পণের মতো দর্শকের নিজেকেও প্রতিফলিত করবে‍।

  • হাসান মাহবুব

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker