আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণছুটিহোমপেজ স্লাইড ছবি

নতুন ইতিহাস!

ইতিহাস গড়ে ফেলেছে নেপালী শেরপা দল। এর আগে ৩০ বারেরও যা একজন করে দেখাতে পারে নি, এবার তারা ১০ জন মিলে সেই অসাধ্য সাধন করলো। ‘Mount K2’ হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত। পাকিস্তানে অবস্থিত এর চূড়ার উচ্চতা ৮৬১১ মিটার। অবস্থানে দ্বিতীয় হলেও এই চূড়াকে বলা হয় ‘King Of Mountain’. চূড়াটা জয় করা হয়েছিলো সেই ১৯৫৪ সালেই তবে এই ২০২১ সালে এসেও কেউই শীতকালে K2 জয় করতে পারে নি। এর আগে ৩০ বার চেষ্টা করা হয় শীতে K2 সামিট করার, কিন্তু একবারও সফলতা আসে নি।

২০০৩ সালে জর্জিয়া, উজবেকিস্তান আর কাজাখস্তানের কিছু ক্লাইম্বার সর্বোচ্চ ৭৬৫০ মিটার পর্যন্ত যেতে পেরেছিলো। সেই অসাধ্য সাধনের লক্ষ্যে বিশ্বখ্যাত কিছু পর্বতারোহী সিদ্ধান্ত নেয় এই শীতে K2 সামিট করার। প্রথম থেকেই দুইটা দলে বিভক্ত হয়ে চলছিলো সামিটের কার্যক্রম। এক দলের লিডার ছিলেন ‘নির্মল পূজা’। পৃথিবীতে আট হাজার ফুট উচ্চতার পাহাড় আছে মাত্র ১৪ টি। সবচেয়ে কম সময়ে এই ১৪ টি চূড়ার জয় করার অবিস্মরণীয় রেকর্ড গড়েছিলেন এই ‘নির্মল পূজা’। অন্য দলটা নেপালী শেরপাদের। এই দলে ছিলো ‘মিংমা ডেভিড শেরপা’, ‘দাওয়া তেনজিং শেরপা’, ‘গেলজি শেরপা’, ‘কিলি পেম্বা শেরপা’, সহ আরো বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট শেরপা। ‘বেজ ক্যাম্প’ পর্যন্ত দুই গ্রুপ আলাদা ভাবে যাত্রা শুরু করলেও ‘ক্যাম্প ১’ থেকে দুই দলই সিদ্ধান্ত নেয় একসাথে যাত্রা শুরু করার। মাঝে প্রচন্ড ঠান্ডায় বেশ কয়েকদিন অভিযান স্থগিত রাখতে হয়।

এর মধ্যে আবার একদিন রাতে প্রচন্ড ঝড় উঠে ক্লাইম্বারদের সমস্ত তাবু ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু তারা দমে যায় নি। নতুন উদ্দোমে শুরু করেছে তাদের যাত্রা। GPS সিস্টেমের মাধ্যমে বাইরের দুনিয়াকে মাঝেমাঝে জানাচ্ছিলো তাদের অবস্থান। অবশেষে এই কিছুক্ষণ আগে তারা জয় করেছে ‘Mountain K2’, আরো একবার প্রমাণ করেছে মানুষের কাছে অসাধ্য কিছু নেই। সৃষ্টিকর্তার কাছে আকুল প্রার্থনা তারা যেনো সুস্থভাবে ফিরে আসতে পারে। K2 তে মৃত্যুর হার ২৯%, আর এর বেশির ভাগ মৃত্যুই ঘটে নেমে আসার সময়। আমরা আশাবাদী তারা সবাই সফল ভাবেই নেমে আসবে আর পৃথিবীবাসী তাদের মুখ থেকে শুনতে পারবে এক অবিস্মরণীয় গল্প।

  • মহিম মেহেদী

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker