বাক্যহোমপেজ স্লাইড ছবি

নিউটনের জীবনের অন্ধকার অধ্যায়

জ্ঞান বুদ্ধিতে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী নিউটন। কিন্তু পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষগুলোই মাঝে মাঝে অদ্ভুত সব কান্ড করে বসেন। নিউটন অনেক বড় বিজ্ঞানী, তবে তার কিছু কিছু আচরণ ছিলো হিংসুটের মতো। খুব ছোটবেলায় নিউটনের বাবা মা মারা যান। মা আরেকজনকে বিয়ে করে নিউটনকে ছেড়ে চলে যান। ভীষণ একা হয়ে পড়েন তিনি। এর কিছুটা প্রভাব পড়ে তার ব্যক্তিগত জীবনে। হিংসুটে ও বদমেজাজী হয়ে ওঠেন তিনি। ‘না’ শব্দটা একেবারেই পছন্দ করতেন না তিনি, কেউ বিরোধিতা করলে খেপে যেতেন।

নিউটনের বিখ্যাত বই প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা। এটা পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ বই বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। জন ফ্লামস্টিড নামের এক জ্যোতিবির্দ ছিলেন তখন কেমব্রিজে। বিজ্ঞানের অনেক কিছুই ছিল তার নখদর্পণে। অনেক তথ্য দিয়ে নিউটনকে প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা লিখতে সাহায্য করেছিলেন। বইয়ের প্রথম সংস্করণে তথ্যসূত্রে একাধিক জায়গায় ফ্লামস্টিডের নাম ছিল। সেই ফ্লামস্টিডকেই কিনা নানাভাবে হেনস্তা করেন নিউটন। বিজ্ঞানী সমাজে নিউটনের তখন বিরাট ক্ষমতা। দাপট ছিল লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটিতেও। রয়্যাল আস্টোনমির তথ্য-উপাত্ত বিভাগের কর্মকর্তা হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন ফ্লামস্টিড। নিউটন তার কাছে ব্যক্তিগত গবেষণার জন্য কিছু তথ্য চান। কিন্তু এসব তথ্য কাউকে দেওয়ার অনুমতি ছিল না। তাই ফ্লামস্টিড সেগুলো দিতে অস্বীকার করেন।

এইবার নিউটন ভীষণ চটে যান। কিছুদিন পর নিউটন আবারো তাকে চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে ফ্লামস্টিড ভীষণ সৎ। তাই নিউটনের মতো পরাক্রমশালী ব্যক্তির সামনেও তিনি নুয়ে পড়েননি। ফলে এইবার নিউটন রেগে আগুন হয়ে যান। তিনি ভাবতে থাকেন, তিনি একজন জগৎ সেরা বিজ্ঞানী, ফ্লামস্টিড হলেন চুনোপুঁটি একজন, সে কিভাবে নিউটনের চোখে চোখ রেখে ‘না’ বলে! ব্যাটাকে শায়েস্তা করার প্ল্যান কষতে থাকে নিউটন। আইনগতভাবে নিউটন কোনো সাজা ফ্লামস্টিডকে দিতে পারেন না। কিন্তু ক্ষমতাবলে, কৌশলে তিনি পেছন থেকে ছুরি চালিয়েছিলেন ফ্লামস্টিডের। একজন গবেষক যদি দেখেন, তার নিজের গবেষণা তার চরম শত্রুর নামে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এরচেয়ে বড় দুঃখের বিষয় আর কি হতে পারে। নিউটন ঠিক এই কাজটি করেছেন। ফ্ল্যামস্টিডের চরম শত্রু ছিলেন এডমন্ড হ্যালি, বিখ্যাত জোতির্বিদ, যার নামেই বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতুটি। এই হ্যালি আবার নিউটনের পরম বন্ধু।

ফ্লামস্টিডের সমস্ত গবেষণা একটি বিখ্যাত জার্নালে ছাপানোর ব্যবস্থা করেন নিউটন। কিন্তু লেখকের নামের জায়গায় ব্যবহৃত হয় এডমন্ড হ্যালির নাম। বলে রাখছি, নিউটন ফ্লামস্টিডের গবেষনাপত্র অসৎ উপায়ে হাছিল করেন। এই ঘটনায় ভীষণ মুষড়ে পড়েন ফ্লামস্টিড। কিন্তু মহাপ্রতাপশালী বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে সে কি-বা করতে পারেন। বড়জোর নালিশ করতে পারেন রয়্যাল সোসাইটিতে। শুধু তাই নয়, তজনি নিউটনের বিরুদ্ধে গবেষণাপত্র চুরির অভিযোগে মামলাও করেন। এতে জেদী নিউটন আরো ক্ষেপে যান। প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমেটিকা বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণে নির্দয়ভাবে ছুরি চালান নিউটন। যেখানে যেখানে ফ্লামস্টিডের নাম ছিল, সেগুলো সব বাদ দিয়ে দেন। আর এটি ছিল নিউটনের জীবনের অন্ধকার অধ্যায়ের একটি।

সূত্র: ক্যারিয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ড গ্রেটেস্ট সায়েন্টিস্ট, টমাস নেভেনসন।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker