ছুটিহোমপেজ স্লাইড ছবি

পর্যটন খাতে অপার সম্ভাবনা

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে ইন-বাউন্ড ট্যুরিজম দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পার্শ্ববর্তী দেশ গুলোতে বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় ভ্রমণ পিপাসু মানুষেরা অগত্যা দেশের অভ্যন্তরেই নজর দিচ্ছেন।

এদেশে সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট বা অন্যান্য বন-জংগল, নদী, সাগর, দ্বীপ, খাল-বিল কোন কিছুর অভাব নেই। এদেশের প্রায় সকল জেলায়ই কিছু না কিছু দর্শনীয় স্থান আছে যেখানে মানুষ সুযোগ পেলে বেড়াতে যাবে। কিন্তু প্রত্যেক জায়গায় রাতারাতি পর্যটক দের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব না। অথচ সেখানে স্থানীয় অধিবাসীদের একটু উৎসাহিত করলে, তাদের বাসস্থানই হয়ে উঠতে পারে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক দের জন্য ২-১ রাত থাকার আদর্শ স্থান। দুটো কাজ করা দরকার এই ‘হোম স্টে’ শিল্প টিকে দেশব্যাপি জনপ্রিয় করে তুলতে।

১) হোম স্টে এর উপযোগী করে অ্যাপ তৈরি করে সারাদেশের প্রতি টি জেলা-উপজেলা থেকে হোম স্টে সহায়তা দিতে আগ্রহী হোস্ট দের কে উৎসাহিত করা, নির্দিষ্ট ফরমুলা অনুযায়ী তাদের বাসস্থানে পর্যটন বান্ধব এবং হোস্ট বান্ধব একটা পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা দেয়া। (অ্যাপ তৈরি এবং সেখানে হোস্ট দের এনলিস্টমেন্ট করানো)

২) সারাদেশের লক্ষ লক্ষ ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক দের কে এই অ্যাপ বা অ্যাপ গুলো ব্যবহারে উৎসাহিত করা। এনআইডি দিয়ে এনলিস্টমেন্ট এর মাধ্যমে নিরাপদ পর্যটন কে নিশ্চিত করা।

বিদেশি সাইট যেমন Airbnb, Booking.com, agoda, ইত্যাদি সহ ট্রাভেল সাইট এর কোন শেষ নেই। কিন্তু কোন টাই পুরোপুরি বাংলাদেশের কালচারের সাথে যায় না। আপাতত দেশজ, লোকজ একটা অ্যাপ দরকার যেখানে হোস্ট রা সহজেই এনলিস্টেড হতে পারবেন। কিছু ন্যুনতম সুযোগ-সুবিধা বা ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করে হোস্ট তার বাসা-বাড়ির এক অংশ কে হোম স্টে এর জন্য তৈরি করবেন এবং ছবি, বর্ননা সহ তার ফ্যাসিলিটি কে এনলিস্টেড করবেন। তাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটা ট্রেড লাইসেন্স সহ সহজ কিছু নিবন্ধন থাকবে, যা তাদের হোম স্টে ফ্যাসিলিটির গুনগত মান নিশ্চিত করবে।

কাজ টির শুরুতে কিছু বাধা আছে। অনেকেই গ্রাম বা শহরের বাসা বাড়িতে অপরিচিত কাউকে এক-দুই রাতের জন্য স্থান দিতে রাজী হবে না। কিন্তু হোস্ট কে অর্থনৈতিক লাভ এর পাশাপাশি যদি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যায়, যেমন আগত পর্যটক এর পরিচয় পত্র (এনআইডি) ইত্যাদি দ্বারা, তাহলে ধীরে ধীরে হোস্ট দের মাঝে আগ্রহ তৈরি করা সম্ভব।

পাশাপাশি যদি দেশব্যাপী বিস্তৃত সকল হোম স্টে গুলোর যথাযথ নিরাপত্তার বিষয়ে ক্রস চেক করা হয় তাহলে পর্যটক দের মাঝেও আগ্রহ এবং আস্থা তৈরি করা সম্ভব। সবচেয়ে বেশি দরকার এই হোম স্টে’র সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের এক শক্তিশালী ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা। ম্যানেজমেন্টে দুর্বলতার কারনে এদেশে অনেক ভালো ভালো উদ্যোগ মার খেয়ে যায়। কাস্টোমার সেবা যদি হয় স্লো, সেই সেবা প্রাপ্তি সুদুর পরাহত। কোন কমপ্লেইন করলে যদি ২৪ ঘন্টা লাগে রেসপন্স পেতে, তাহলে হবে না। দরকার দ্রুত, র‍্যাপিড একশন।

মুল প্রশ্ন টি হচ্ছে, এই অ্যাপ তৈরি করে হোমস্টে’র ব্যবসা পরিচালনা করবে টা কে? আমি মনে করি, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা উচিত। সরকারের সাহায্য থাকবে, আইন-বিধি দিয়ে সহায়তা করবে কিন্তু এই সেবা দান পরিচালনা করবে প্রাইভেট সেক্টর।

বাংলাদেশ সরকারের পর্যটন বিষয়ক নীতি নির্ধারনের কাজের অভিভাবক এখন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের একটি ইউনিট বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় পর্যটন বান্ধব ও পর্যটন নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টিতে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখছে। দেশের সর্বত্র একটি সক্রিয় হোমস্টে নেটওয়ার্ক তৈরিতে ও রক্ষনাবেক্ষণে সরকারের এই দুই দপ্তরের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এই দুই সংস্থার সমন্বয় করাও আবশ্যক।

পরিশেষে, বাংলাদেশের মত এক অপার সম্ভাবনাময় দেশে পর্যটন কে জনপ্রিয় করে তুলতে হোম স্টের মত এক অতি প্রাচীন পদ্ধতির এই আধুনিক সংস্করণ কে কাজে লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহবান জানাচ্ছি।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker