তরুণ ভাবনাবিনোদনসিনেমা ও টেলিভিশন

ফুয়াদের নতুন চলচ্চিত্র ‘শব্দের ভেতর ঘর’

একজন চলচ্চিত্র নির্মাতার তৃতীয় চোখ থাকা জরুরী। যে তৃতীয় চোখে ধরা পড়বে যাপিত জীবন কিংবা দূর আগামীর অন্যরকম গল্প। যে গল্প দর্শকের মন যোগানোর বদলে মনকে জাগাবে। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদের তৃতীয় চোখ অত্যন্ত তীক্ষ্ণ তাই প্রতীয়মান হয় তার গল্প বয়ানে। অস্থীতিশীল এই দুনিয়ার অদ্ভুত কিন্তু প্রাসঙ্গিক সব গল্প তিনি ফুটিয়ে তুলেন দৃশ্যের অলৌকিকতায়।

ফুয়াদ তার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের যাত্রা শুরু করেন ২০১৭ সালে। চলচ্চিত্র নির্মাণের বন্ধুর পথে তার হাতিয়ার ছিলো মুঠোফোন। মানুষ কি সমাজের নানা সমস্যার মুখোমুখি হবে, নাকি এড়িয়ে যাবে- এমন এক কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন করে তার প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘তবে কি পলায়নেই মঙ্গল’। সাড়ে ৬ মিনিটের এই চলচ্চিত্র মুক্তি পায় ২০১৮ সালে।

চলচ্চিত্রটি বুয়েট চলচ্চিত্র উৎসবে (২০১৮) ‘সেরা চলচ্চিত্র’, ‘সেরা সম্পাদনা’ও ‘সেরা চিত্রগ্রাহক’-এর পুরস্কার জিতে নেয় এবং ২০১৮ সালের শিলিগুড়ি শর্ট অ্যান্ড ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে চলচ্চিত্রটি ‘জুরি অ্যাওয়ার্ড’ পায়। তা ছাড়া চট্টগ্রাম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি ‘সেরা চলচ্চিত্র’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র উৎসবে (২০১৮) ‘সেরা চিত্রনাট্য’, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র উৎসবে (২০১৮) ‘সেরা সম্পাদনা’ এবং ঢাকা ট্রান্সলেশন ফেস্টে (২০১৯) ‘সেরা চলচ্চিত্র’ হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ছবিটি  প্রদর্শিত হয়েছে কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট আয়োজিত চলচ্চিত্র উৎসবে।

এছাড়া ফুয়াদ মুঠোফোনের মাধ্যমে “ত্রিকোণমিতি” এবং “বৃক্ষ= অম্লজান” শিরোনামে আরো দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। চলচ্চিত্র দুটি দেশ এবং দেশের বাইরে বেশ কিছু চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনীর জন্য আমন্ত্রণ পায়। গত বছর “বৃক্ষ= অম্লজান” চলচ্চিত্রটি স্বল্পদৈর্ঘ্য  ক্যাটাগরিতে অর্জন করেছে ‘নটর ডেম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’। পুরস্কার হিসেবে আরেকটি চলচ্চিত্র করতে ফুয়াদের হাতে আড়াই লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এই ছবিটি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও বেলারুশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে।

ফুয়াদ এখন ব্যস্ত ইউএনডিপি বাংলাদেশের অর্থায়নে সমুদ্র উপকূলীয় মানুষের জীবনের স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের অর্ন্তদন্ধ নিয়ে তার নতুন চলচ্চিত্র ‘শব্দের ভেতর ঘর’ নিয়ে। চলচ্চিত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন এই চলচ্চিত্র আমার জন্য সত্যি এক নতুন অভিজ্ঞতা। গত ৫ মাস আমরা এই চলচ্চিত্র নিয়ে স্বপ্ন বুনেছি। প্রি- প্রোডাকশন, শুটিং এবং পোস্ট প্রোডাকশন প্রতিটি ধাপে আমরা সম্মুখীন হয়েছি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের। চলচ্চিত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মানুষ যেন নিজের পুরোটা বিলিয়ে দিয়েছে।

১৮ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই চলচ্চিত্রে আমরা খুব সহজ একটা গল্প বলেছি, যেই গল্প সমুদ্র তীরবর্তী মানুষের জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। আমি আশা করছি মানুষ খুব সহজেই গল্পটা বুঝতে পারবে। গল্প লিখবার সময় সেই চেষ্টাই ছিল। চেষ্টা ছিল দিন শেষে আমরা ভালো একটা চলচ্চিত্র  বানাতে চাই, সেই ভালোর মাপকাঠিতে কতটুকু পৌছাতে পেরেছি সেই বিচারটা না হয় দর্শকদের উপরই থাক। চলচ্চিত্রটির শুটিং ও সম্পাদনার কাজ শেষ। আমরা আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি চলচ্চিত্রটি আলোর মুখ দেখবে। আসন্ন ডিসেম্বরে আমরা আমাদের চলচ্চিত্র সবার সামনে উন্মুক্ত করতে চাই।

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন। ফিচার সিনেমার জন্য একটি চিত্রনাট্য নিয়ে কাজও চলছে। সামনেই স্বপ্নের প্রকল্পে নেমে পড়বেন তিনি। নিজেকে কোনো ঘরানায় ফেলতে চান না ফুয়াদ। বললেন, ‘কেবল নিজের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, চিন্তা ও বক্তব্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করে যেতে চাই।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker