জাতীয়

বিদায় কিংবদন্তি!

কিছু মানুষকে কখনো ছুটি নিতে নেই। কারণ কিছু মানুষ ছুটি নিলে সময় থেমে যায়। কিছু মানুষকে হেঁটে যেতে হয়, পথ দেখাতে হয়, দাঁড়াতে নেই, থেমে যেতে নেই। কারণ কিছু মানুষ থেমে গেলেই পথগুলো সব কানাগলি হয়ে যায়, এগিয়ে যাওয়ার শক্তিটাই ফুরিয়ে যায়। কিছু শোক কাঁদায় না, স্তব্ধ করে দেয় কিছু সন্ধ্যায় শুধু বেলাই ফুরোয় না কারো কারো জীবনের খেলা ফুরোয়, ভেলায় ভেসে অজানায় মিলিয়ে যায় জানার সীমাবদ্ধতা ভেঙে পথ দেখানো মানুষ।

সৈয়দ আবুল মকসুদ একাধারে সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মী ছিলেন। সাহসী ও গবেষনামুলক লেখার জন্য পাঠকদের আস্থাভাজন ছিলেন তিনি। একটা প্রজন্মের হাতে পত্রিকা ধরিয়েছিলেন তিনি। পড়ার অভ্যাস তৈরী করতে বাধ্য করেছিলেন তার শক্তিশালী কলাম দিয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বুদ্ধদেব বসু, মহাত্মা গান্ধী, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ সহ আরো অনেক বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের জীবন আর কর্ম নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। উপন্যাস, ভ্রমণ কাহিনী, কবিতা সহ অসংখ্য বই দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন সাহিত্যাঙ্গন।

তার প্রবন্ধসমূহ থেকে দেশের রাজনীতি, সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়ে এসেছে পাঠকরা। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৯৫ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরষ্কার। গতকাল সন্ধ্যায় গুনীজন সৈয়দ আবুল মকসুদ স্যারের বর্নাঢ্য জীবনের অবসান হওয়ার সাথে সাথে আমরা হারিয়েছি একজন শক্তিশালী পথপ্রদর্শক। সৈয়দ আবুল মকসুদের মৃত্যু আমাদের সাহিত্য অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার অবদান মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker