লাইফস্টাইলস্বাস্থ্যহেলথ টিপসহোমপেজ স্লাইড ছবি

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কি খাবেন?

করোনা ভাইরাস মূলত দেহের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতার পরীক্ষা নেয়। ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম, সেলেনিয়াম, জিংক, ভিটামিন ডি-৩ সমৃদ্ধ খাবার রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়ায়।

১. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি দারুণ কার্যকর। ভিটামিন সি মানবদেহের কোষের পাওয়ার হাউস নামে খ্যাত মাইটোকন্ড্রিয়া কে রক্ষা করতে পারে। করোনা ভাইরাসের টার্গেট হচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়া, যার মাধ্যমে virulence এর বৃদ্ধি ঘটায়।শরীরের ভেতরে বিক্রিয়ার কারণে যেসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেগুলো সারিয়ে তুলতে কাজ করে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি আমলকী, লেবু, কমলালেবু, পেয়ারা, জাম্বুরা, আমড়া, পেয়ারা, পেঁপে, কাঁচা মরিচ ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে থাকে। যেহেতু মানব দেহ ভিটামিন সি জমা করে রাখতে পারে না, তাই প্রতিদিন গ্রহণ করা প্রয়োজন। পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক ৯০ মিলিগ্রাম এবং নারীর ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি দরকার।

২. মৌসুমি যে কোন দেশীফল, মধু, রসুন, কাঁচা হলুদ, আদা, কালিজিরা, তিশী, মেথি, অশ্বগন্ধা, পিপুল, তুলসী, ত্রিফলা, শজনে, লেবু, পুদিনা পাতা, ধনেপাতা, কাঁচা মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি মানবদেহের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়ায়। ঝাল তরকারি মানবদেহের উত্তাপ বাড়িয়ে রক্ত সঞ্চালন করে তাতে রোগ প্রতিরোধ বাড়ে।

৩. অটোফেজিতে শরীরে রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়ে। রোজা বা উপোস বা কিছু না খেয়ে ১৬ ঘন্টা থাকলে অটোফেজি এক্টিভেট হয় শরীরে। নানা কিসিমের ফাস্টিংয়ের অস্তিত্ব আছে। শুধু পানি লবণ খেয়ে, শুধু ফল খেয়ে, ১৬ ঘন্টা, ৩৬ ঘন্টা, ৭২ ঘন্টার নানান প্যাকেজ আছে। মূল বিষয় অটোফেজি এক্টিভ করা। ফাস্টিং করাকালীন বিট লবন খাবেন যেন খনিজ ঘাটতি না হয়।

৪. অঙ্কুরিত বীজ রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়ায়। অঙ্কুরিত বীজ বা Sprouts এ প্রোটিন, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, মাঙ্গানিজ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফলেট (ভিটামিন-বি) উচ্চমাত্রায় থাকে। মানুষ নিজ দেহে তৈরি করতে পারে মাত্র ১১টি এমিনো এসিড। মানুষকে খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয় ৯টি এমিনো এসিড, যার সবগুলিই অঙ্কুরিত বীজে থাকে।

৫. লাল চালে বিদ্যমান সেলেনিয়াম শরীরে রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়ায়। চালের সবচেয়ে পুষ্টিকর অংশ বাহিরের লালচে বা বাদামী আবরণ পালিশ করে তুলে ফেলে ভিতরের শুধুমাত্র শর্করা অংশ খাওয়ার ফলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমেছে। সেলেনিয়ামের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উৎস হচ্ছে ব্রাজিলিয়ান নাটস। প্রতিদিন মাত্র ২ টি নাটস খেলে পূরণ হবে দৈনিক সেলেনিয়ামের চাহিদা।এছাড়া, টুনা ফিশ, টার্কি মুরগী, চিংড়ি, ডিম প্রভৃতিতে সেলেনিয়াম রয়েছে।

৬. চৌদ্দশাক শরীরে রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়ায়। চৌদ্দ রকমের শাক একত্রে মিশিয়ে রান্না করে খেলে শরীরে রোগ ব্যাধি হয় না বলে গ্রাম বাংলার মানুষ বিশ্বাস করে। ঋতু পরিবর্তনজনিত রোগব্যাধির হাত থেকে বাঁচার জন্যও চৌদ্দশাক খাওয়া হয়। ৭. সর্দি ও ঠান্ডাতে কুলেখাড়া পাতার রস উপকারি পথ্য। কুলেখাড়া শাকের রস রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে। কুলেখাড়া পাতার রস ৪ চামচ কুসুম গরম করে দুবেলা খেলে রক্তশূন্যতা ও সর্দি কাশির সমস্যা দূর হয়।

৮. গুলঞ্চ লতা আয়ুর্বেদিক মতে অমরত্বের ঔষধ। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়াতে অতুলনীয় গুলঞ্চ। এক ফুট পরিমাণ গুলঞ্চ লতা টুকরো টুকরো করে দুই কাপ পানিতে রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেবন করুন। একই গুলঞ্চ সকালে পুনরায় পানিতে ভিজিয়ে বিকালে সেবন করুন। জ্বর সর্দি কাশিতে গুলঞ্চ পাতা ভাজি ভীষনভাবে উপকারী।

৯. গাঢ় সবুজ রঙের শাক, কলা, মাছ, ডার্ক চকলেট, কাজু, ব্রাজিলিয়ান নাটস, পেস্তা বাদাম, কাঠ বাদাম, সূর্যমূখীর বীজ ইত্যাদিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়ায়।

১০. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও রোগ থেকে দ্রুত সেরে উঠতে ভিটামিন বি১২ দারুণ কার্যকর। বিভিন্ন দুগ্ধজাত খাবার ও ডিমে ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়। দুধ এবং কলিজার মধ্যে ভিটামিন বি আছে।

১১. শরীরে জিঙ্কের ঘাটতি হলে রক্তে শ্বেতকণিকার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। বাদাম, শিম, দুগ্ধজাত পণ্যে জিঙ্কের পরিমাণ বেশি থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে জিঙ্কের পরিমাণ কমে গেলে তারা বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।

১২. ভিটামিন ডি এর জন্য দিনের কিছুটা সময় শরীরে রোদ লাগাতে হবে। তেলযুক্ত স্বাদু পানির মাছ, সামুদ্রিক মাছ, মাশরুম ও ডিমের কুসুম উচ্চ মানের ভিটামিন ডি-৩ সমৃদ্ধ খাবার।

১৩. উচ্চ আঁশ বা ফাইবার যুক্ত খাদ্য ডেটক্স প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে কিডনি লিভার পরিষ্কার করে। ভাইরাস এ টক্সিন উৎপাদন করে তা বিভিন্ন অঙ্গ আক্রমণ করে। অঙ্গ ভালো রাখতে আঁশ বা ফাইবার যুক্ত খাবার সাহায্য করে ও বন্ধু অণুজীবের খাদ্য বাড়িয়ে প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্ষম রাখে। দ্রবণীয় আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে আছে ওটমিল, শিমজাতীয় খাবার (মটর, শিম, ডাল), বার্লি, ফল ও সবজি (কমলা, অ্যাপল ও গাজর)। বিভিন্ন বীজ, ফলের খোসা, গমের রুটি, লাল ও বাদামি চালের ভাতে অদ্রবণীয় আঁশ থাকে।

১৪. ভিটামিন ‘বি’ এবং ‘সি’ পানিতে মিশে যাওয়ার কারণে প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়। ফলে এগুলো শরীরে জমা হয়না। প্রতিদিনই কিছু পরিমাণে ভিটামিন বি এবং সি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker