বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও কিংবা একজন জাত অভিনেতা!

মাহমুদুর রহমান: পৃথিবীতে কিছু মানুষ যাদের যাদের সম্পর্কে বলতে গেলে বলা হয়, “তারা পুরস্কার নয়, পুরস্কার তাদের ঘরে গিয়ে ধন্য হয়”। এরকমই একজন মানুষ লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও। একাডেমী, গোল্ডেন গ্লোব পাওয়া এই অভিনেতাকে পুরস্কার দিয়ে মাপা যায় না, একথা স্বীকার করেন সবাই।

ডিক্যাপ্রিও ১৯৭৪ সালের ১১ই নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার হলিউডে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জর্জ ডিক্যাপ্রিও ছিলেন একজন কমিক শিল্পী ও কমিক বই পরিবেশক। তার মা ইরমেলিন ছিলেন একজন আইন সচিব। তিনি তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর নামকরণ সম্পর্কে বলা হয় যে তার মা যখন গর্ভবতী ছিলেন তিনি ইতালিতে একটি জাদুঘরে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ছবি দেখতেছিলেন। সেসময়ে তিনি প্রথম পেটে সন্তানের নড়াচড়া টের পান। এরপর ছেলের নাম বিখ্যাত চিত্রকরের নামে রাখা হয়।

লিওর এক বছর বয়সে তার বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বেশিরভাগ সময়ে তিনি তার মায়ের সাথে থাকেন। মায়ের চাকরীর কারণে মা-ছেলে দুজন লস আঞ্জেলেসের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেছেন। ডিক্যাপ্রিও তার শৈশবের বেশ কিছু সময় জার্মানিতে তার নানা-নানী ভিলহেল্ম ও হেলেনের সাথে কাটিয়েছেন। তার জার্মান ও ইতালীয় ভাষায় দখল রয়েছে।
লিও ডিক্যাপ্রিওর পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গেই অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল, পাঁচ বছর বয়সে কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্র ও শিক্ষামূলক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। ১৪ বছর বয়সে সৎ ভাইয়ের হাত ধরে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে আসেন। ১৯৯০ সালে প্রথম টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।

ডিক্যাপ্রিওর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৯১ সালে কমেডি ঘরানার সাইফাই ক্রিটারস ৩ দিয়ে। এই চলচ্চিত্রে তিনি একজন জমিদারের সৎ ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এর পরপরই তিনি এবিসির গ্রোয়িং পেইনস চলচ্চিত্রে এক অনাথ লুক ব্রোয়ার চরিত্রে অভিনয় করেন। ডিক্যাপ্রিওর অভিনয় জীবনের প্রথম বড় সুযোগ আসে ১৯৯২ সালে যখন ৪০০ শিশু শিল্পী থেকে তাকে রবার্ট ডি নিরো নিজে দিস বয়’স লাইফের জন্য বাচাই করেন।
তবে এসব কেবলই শুরুর কথা। চলচ্চিত্রে আসার প্রথম ৫ বছরে তাঁকে মূলত সফল বলা যায় না। তার প্রথম সফলতা আসে ১৯৯৬ সালে রোমিও+জুলিয়েট সিনেমার মধ্য দিয়ে। ছবিটি সারা বিশ্বে দারুণ সাড়া জাগায় এবং ব্যবসা করেছিল ১৪৭ মিলিয়ন ডলার। রোমান্টিক বয় হিসেবেও তিনি পরিচিতি পান।
নব্বই দশকের ছেলেমেয়ের কাছে লিও অত্যন্ত পরিচিত চেহারা এবং প্রিয় নায়ক। এবং অনেকেই একটা সময় পর্যন্ত জানতো না তাঁর আসল নাম। কেননা সকলের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘জ্যাক’ হিসেবে।

১৯৯৭ সালে জেমস ক্যামেরনের ‘টাইটানিক’ সিনেমায় লিওর করা চরিত্রের নাম ছিল জ্যাক। জ্যাক আর রোজকে ভুলতে পারেনি কেউ। এবং দুজনের আসল নাম চাপা পড়ে গিয়েছিল সিনেমার চরিত্রের নামের আড়ালে। এতোটাই জনপ্রিয় হয়েছিল এই সিনেমা এবং অনবদ্য ছিল লিওর অভিনয়। মূলত এই চলচ্চিত্রই তাঁকে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি এনে দেয়।
এরপর থেমে থাকেনি চলা। একের পর এক চমৎকার সব সিনেমা উপহার দিয়েছেন। স্পিলবার্গের ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’, মার্টিন স্কোরসেজির ‘গ্যাংস অফ নিউ ইয়র্ক’, ক্রিসটোফার নোলানের ‘ইনসেপশন’; এছাড়া ‘ব্লাড ডায়মন্ড’, ‘দি গ্রেট গ্যাটসবি’, ‘দি উলফ অফ ওয়াল স্ট্রিট’ প্রতিটি চলচ্চিত্র দর্শকের মনে গেঁথে আছে। কিন্তু বারবার মনোনীত হলেও তিনি একবারও অস্কার না পাওয়াও ক্ষোভ ছিল তাঁর ভক্তদের মাঝে। বারবার বক্স অফিসের রেকর্ড ভাঙা এবং অভিনয় দক্ষতায় নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া মানুষটি ‘দ্য রেভেন্যান্ট’ সিনেমার জন্য অস্কার লাভ করেন।

ভক্ত, সমালোচক সকলেই তখন এক বাক্যে স্বীকার করেছেন, ‘Osacar deserves Lionardo’.
গুণী এই অভিনেতা ব্যক্তিগত জীবনে কারও সঙ্গেই থিতু হতে পারেননি। অনেকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন, ভেঙেও গেছে সেসব। হয়ত গুণী ব্যক্তিদের কিছু জায়গায় কমতি থাকে বলেই এমন হয়।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker