খেলাচলতি হাওয়াট্রেন্ডিং খবরহোমপেজ স্লাইড ছবি

লুই সুয়ারেজের অভিমানের কান্না!

মিরাজুল ইসলাম: শুধুমাত্র লুই সুয়ারেজ’কে কেন্দ্র করে গত এক বছরের ঘটনা নিয়ে একটা দারুন হলিউড সিনেমার স্ক্রিপ্ট হতে পারে। স্প্যানিশ লীগে গত বছরের দল বদলে বার্সেলোনা অসম্মানজনক চুক্তিতে এই উরুগুয়েন স্ট্রাইকারকে বিদায় দেয়। বার্সার তৎকালীন বোর্ড সভাপতি ক্লাবের পক্ষে ১৯৮টি গোল ও ১৩টি শিরোপা জেতা ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম খেলোয়াড়টিকে জানিয়ে দিলেন, রাস্তা মাপো, বয়স হয়ে গেছে তোমার। এই বয়সে বড় ম্যাচ সামলাতে পারবে না। সুয়ারেজ ভাবতেও পারে নি তার বার্সায় গত ছয় বছরের অর্জন এভাবে অবমূল্যায়ন করা হবে।

কারণ মোটেও খারাপ খেলছিল না মেসি’র সাথে জুটি বেঁধে। ঠিক আছে। প্রয়োজন হলে দম কমে গেলে রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকবো, তবু এভাবে চলে যেতে চাই না ক্লাব ছেড়ে। বিশ্বাস করেন এখনো অনেক কিছু দেবার বাকী আছে আমার। প্রফেশনাল ম্যানারিজম ঝেড়ে সুয়ারেজ মিনতি জানালো বোর্ডকে। এদিকে বন্ধুর পাশে দাঁড়ালো মেসি। সুয়ারেজ’কে তার দরকার দলের উইনিং কম্বিনেশনে। ওদিকে বোর্ড এবং নতুন কোচ কোম্যান অনড়। অজুহাত দিল টাকা পয়সা এবার বেশী খরচ করা যাবে না। বেতনে টানাটানি পড়বে। বুড়ো সুয়ারেজ ছেড়ে নতুন স্ট্রাইকার লাগবে। সুয়ারেজ’কে রীতিমত অপমান করে তাড়িয়ে দিল বার্সা বোর্ড। ব্যক্তিজীবনে সুয়ারেজ ও মেসি হরিহর আত্মা।

প্রচুর হলিডে দুই পরিবার এক সাথে কাটিয়েছে। ইবিজা কিংবা ক্যারাবিয়ান দ্বীপ যেখানেই গেছে এক সাথে সব কিছু ভাগাভাগি দুই বন্ধুর। ইতালি চলে যাবে নাকি স্পেনে থাকবে তা নিয়ে দোলাচলে সংশয়ে পড়লে সুয়ারেজ। সেই সময় অ্যাথলটিকো মাদ্রিদের আর্জেন্টাইন কোচ সিমিওনের সাথে মেসি’র কোন গোপন বার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল কিনা তা ভবিষ্যতে জানা যাবে। কারন আমরা দেখলাম সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সুয়ারেজ স্পেন ত্যাগ করলো না। থেকে গেল বন্ধুর কাছেই যদিও প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবে, ইচ্ছে করেই। মাত্র সাত মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে। ২০২০-২১ মৌসুম শুরু হলো মেসি-সুয়ারেজের।

কিন্তু গোলবারের মুখে আর সুয়ারেজ নেই। প্রথম তিন মাস মাঝ মাঠে মেসির অস্বস্তি সবাই টের পেল। মেসির ডিফেন্স চেরা পাসে পা ছোঁয়ানো রপ্ত করতেই বার্সার বাকী খেলোয়াড়দের অর্ধেক মৌসুম কেটে গেল। বাধ্য হয়ে মেসি একাই যেন দায়িত্ব নিল বার্সেলানোর হয়ে প্রায় সব গোল করতে। বিষন্ন মেসি লা লীগায় ৩০ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেও সুয়ারেজ নতুন ক্লাবের পক্ষে করলো ২১ টা গোল। বড় বিষয়, সুয়ারেজের প্রতিটি গোল ছিল অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের জন্য জয় সূচক।

গত রাতে সর্বশেষ ম্যাচে দলের পক্ষে জয়ের জন্য শেষ গোলটি করে সুয়ারেজ তার নামের প্রতি অবিচারের যোগ্য জবাব দিয়েছে। দলকে জয়ী করে ভেঙ্গে পড়েছে কান্নায়। লা লীগা চ্যাম্পিয়ন হবার পরও তার এই একাকী কান্না একজন জেদী মানুষের অন্তর্গত দহন। গত বছর তার ফুটবল প্রতিভার প্রতি বার্সা বোর্ডের তাচ্ছিল্য, অবজ্ঞা ও অপমান থেকে যার উৎস। তার রেশ পুরো মৌসুম মেসিকেও ছুঁয়ে গেছে। এই মুহূর্তে এমন অভিমানী লাতিন কান্নার পেছনের গল্প সুয়ারেজের প্রিয় বন্ধু মেসি ছাড়া আর কেউ ভালো বুঝবে না। আমরা কেবল তা অনুমান করতে পারি।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker