ক্রিকেটখেলাহোমপেজ স্লাইড ছবি

সাকিবনামা

রিফাত এমিল: সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। ১৯ বছর বয়সে ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু। হারারে থেকে শুরু করে মিরপুর, মুলতান, লর্ডস, ওল্ড ট্রাফোর্ডে ঔদ্ধত্য দেখিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৪ বসন্ত পার। নিজে ভেসেছেন অনেক অর্জনে, দলকেও জিতিয়েছেন। দেশের ক্রিকেটের অনেক রেকর্ডস শুরু হয়ে হয়েছে তার হাত ধরেই। রেকর্ডের পর রেকর্ডের মালা গেঁথেছেন নিজ ক্যারিয়ারে। ২৪ মার্চ জন্মদিন সাকিবের। জন্মদিনে তার সব সব রেকর্ড এক করার চেষ্টা। আসলে সব কী এক করা সম্ভব? না। এপর্যন্ত ঘটা সব অর্জন একসাথ করা না গেলেও কিছু করার চেষ্টা। জানা, অজানায় সাকিবের রেকর্ডবুকের পাতা ঘুরে আসতে বোধকরি মন্দ লাগবে না!

নয়টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে ৫ উইকেট নেওয়ার অর্জন রয়েছে সাকিবসহ মাত্র ৪ জনের। সাকিবের সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড সবচেয়ে দ্রুততম, মাত্র ৫০ টেস্টে। টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে দ্রুততম ৩০০০ রান ও ১৫০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব সাকিবের। ক্রিকেট ইতিহাসের ১৩ তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০০ রান ও ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব এবং সবচেয়ে দ্রুততম। সাকিবসহ মাত্র তিনজন ক্রিকেটারের একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। সাকিবের এক ওয়ানডে ম্যাচে সেঞ্চুরি ও চার উইকেটও রয়েছে। একই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে রয়েছে পাঁচ উইকেট ও ৪০ এর অধিক রান।

ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১০০০০ রান ও ৪৫০ উইকেটের বেশি নেওয়ার কৃতিত্ব মাত্র তিনজনের। এরমধ্য সাকিব একজন। ওয়ানডে ক্রিকেটে সাকিবসহ মাত্র ৫ জন ক্রিকেটারের ৫০০০ রান ও ২০০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। সাকিব করেছেন সবচেয়ে দ্রুত, মাত্র ১৭৮ ইনিংসে। ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম সময়ে ৬০০০ রান ও ২৫০ উইকেটের মাইলফলক সাকিবের। ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে মাত্র চারজন অলরাউন্ডারের ৬০০০ রান, ২৫০ উইকেট ও ৫০ ক্যাচ রয়েছে। এরমধ্যে সাকিব একজন।

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ১৫০০ রান আর ৬০ উইকেট নেওয়া একমাত্র অলরাউন্ডার সাকিব। প্রথম বাঁহাতি বোলার হিসেবে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ৩০০ উইকেট সাকিবের। ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০০ রান ও ৩০০ উইকেটের মাইলফলক সাকিবের। ক্রিকেট ইতিহাসের অষ্টম বোলার হিসেবে তিন ফরম্যাটেই পাঁচ উইকেট শিকার করেন সাকিব। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম অলরাউন্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে একই ম্যাচে ৪০ এর অধিক রান ও পাঁচ উইকেট নেন সাকিব। প্রথম অধিনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে পাঁচ উইকেট নেন সাকিব। সাকিব প্রথম ক্রিকেটার যার যেকোনো নির্দিষ্ট ভেন্যুতে ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০০০ রান ও ৫০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। সাকিব প্রথম ক্রিকেটার যার কিনা টেস্ট ক্রিকেটে যেকোনো নির্দিষ্ট ভেন্যুতে ১০০০ রান ও ৫০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। সাকিব ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক ভেন্যুতে ৪০০০ আন্তর্জাতিক রান করেন। সব রেকর্ড হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে।

চতুর্থ বোলার হিসেবে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক সাকিবের। আইপিএলে পঞ্চম স্পিনার হিসেবে ৫০ উইকেট প্রাপ্তি, দ্বাদশ ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলে ৫০০ রান ও ৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি। ৩০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা দ্বিতীয় বাংলাদেশি সাকিব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০০ উইকেট নেওয়া প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশি সাকিব। ক্রিকেট বিশ্বকাপে ২৯ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ৪৫ গড়ে ১১৪৬ রান। ২টি শতক, ১০ অর্ধশতক; সর্বোচ্চ ১২৪*। চার ১০৭, ছয় ৮টি। ৩৫ গড়ে ৩৪ উইকেট। সেরা ফিগার ৫/২৯। ফিল্ডার সাকিবের ৮ ক্যাচ। ১১৪৬ রান করে সাকিব বিশ্বকাপ ইতিহাসের নবম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৩৪ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে ১৬তম সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। বিশ্বকাপে সাকিবের চেয়ে বেশি উইকেট রয়েছে মাত্র তিনজন স্পিনারের।

ক্রিকেট বিশ্বের ১৯ তম ব্যাটসম্যান এবং প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ক্রিকেট বিশ্বকাপে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব। ১০০০ রানের সঙ্গে সাকিবের রয়েছে বিশ্বকাপে ৩০ উইকেটও। অসংখ্য রথীমহারথী খেলেছেন ক্রিকেট বিশ্বকাপ অথচ সাকিব একমাত্র ক্রিকেটার যার হাজারের বেশি রান ও ত্রিশের বেশি উইকেট রয়েছে। বিশ্বকাপে দুটি শতক ও দুবার চার বা এর বেশি উইকেট নেওয়া একমাত্র ক্রিকেটার সাকিব। যৌথভাবে বিশ্বকাপে সর্বাধিকবার একই ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ রান ও দুইয়ের অধিক উইকেট নেওয়া ক্রিকেটার সাকিব। চারবার গড়েন সাকিব এই কীর্তি। সাকিব ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র অলরাউন্ডার যে নির্দিষ্ট এক বিশ্বকাপে ৪০০ এর বেশি রান ও ১০ এর অধিক উইকেট নিয়েছেন। পরে অবশ্য রান পেরিয়ে যায় ৬০০ তে।

প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে বিশ্বকাপে পাঁচ উইকেট শিকার সাকিবের। দলের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা বোলিং ফিগার সাকিবের। দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে একই ম্যাচে ৫০ রান ও ৫ উইকেটের কীর্তি সাকিবের। তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি ও ম্যাচে পাঁচ উইকেট পান সাকিব। সাকিব বিশ্বকাপ ইতিহাসের একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি বিশ্বকাপে টানা আট ইনিংসে চল্লিশোর্ধ রানের ইনিংস খেলেছেন। সাকিবের বিশ্বকাপে পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস হয় ১২টি। সামনে রয়েছে শুধু শচীন। নির্দিষ্ট এক বিশ্বকাপে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান শচীনের। শচীন করেছেন ৬ বার, ২০০৩ সালে। সাকিব ৫ বার করেছেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান, ২০১৯ বিশ্বকাপে। নির্দিষ্ট এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংসে শচীনের পাশে বসেন সাকিব। শচীন ২০০৩ বিশ্বকাপে ১১ ইনিংসে ৭ পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস খেলেন, সাকিব ৮ ইনিংসে ৭টি। নির্দিষ্ট এক ক্রিকেট বিশ্বকাপে ৬০০ এর অধিক রান করা তৃতীয় ব্যাটসম্যান হোন সাকিব। সাকিবের আগে ম্যাথু হেইডেন, শচীন ছিলেন সেই তালিকায়। এরপরে অবশ্য ওয়ার্নার, রোহিতের নাম যুক্ত হয় নির্দিষ্ট বিশ্বকাপে ৬০০ রানের অধিক করার তালিকায়।

ক্রিকেট বিশ্বকাপে সাকিব বল করেছেন ১৪৩৩টি; এরমধ্যে ডট দিয়েছেন ৬৭৯ বল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সাকিবের চেয়ে বেশি বল ডট দিয়েছে মাত্র তিনজন বোলার। ২০১৯ বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ৬০৬ রান, ৮৬.৫৭ ব্যাটিং গড়, ২টি শতক, ৫ অর্ধশতক, ৬০ চার, ২টি ছয় ও সর্বোচ্চ অপরাজিত ১২৪। বল হাতে ১১ উইকেট, ৩৬.২৭ গড়, একবার পাঁচ উইকেট, সেরা ৫/২৯। এছাড়া ফিল্ডার সাকিবের ছিল ৩ ক্যাচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১০০০ রান ও ৫০০ উইকেট পাওয়া দ্বিতীয় ক্রিকেটার সাকিব। সাকিবের ওয়ানডে রান ৬৪৩৬, টেস্ট রান ৩৯৩০, আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি রান ১৫৬৭। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১৯৩৩ রানের মালিক সাকিব। টেস্টে উইকেট সংখ্যা ২১০, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। ওয়ানডে ক্রিকেটে উইকেট সংখ্যা ২৬৬, দ্বিতীয় অবস্থান বাংলাদেশিদের মধ্যে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে উইকেট সংখ্যা ৯২, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ এবং বিশ্ব ক্রিকেটে পঞ্চম। টেস্টে সাকিবের অর্ধশতক ২৫, শতক ৫ ও ক্যারিয়ার সেরা ২১৭ রানের ইনিংস। সাকিবের ওয়ানডে ক্রিকেটে অর্ধশতক ৪৮, শতক ৯টি। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে অর্ধশতক ৯টি, ক্যারিয়ার সেরা রান ৮৪। টেস্টে সাকিব চার উইকেটে নিয়েছেন ৮ বার, পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ১৮ বার, ম্যাচে দশ উইকেট নিয়েছেন ২ বার। ওয়ানডে চার উইকেট নিয়েছেন ৯ বার, পাঁচ উইকেট ২ বার। আর আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে তিনবার চার উইকেট ও একবার নিয়েছেন পাঁচ উইকেট।

টেস্টের সর্বোচ্চ ইনিংস ২১৭, ওয়ানডে অপরাজিত ১৩৪ ও আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ৮৪। সাকিব টেস্টে ৪৮০ টি, ওয়ানডে ৫৮২ ও আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ১৬৩টি চার মেরেছেন। ছক্কা মেরেছেন ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪২টি, টেস্টে ১৯ আর আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ৩৩টি। সাকিব টেস্টে ৬৩৭৪, ওয়ানডে ক্রিকেটে ৭৮১৫, আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ১২৬৬ বল ব্যাটিং করেছেন। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫৪৫৫ বল, বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ। সাকিব টেস্টে ১৩০৫৬, ওয়ানডে ক্রিকেটে ১০৬৫০, আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ১৮৯৪ বল বোলিং করেছেন। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪২২৮.৫ ওভার, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। সাকিব সবমিলিয়ে ১৯০৩৬ মিনিটের বেশি ব্যাটিং করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। টেস্টে ২৪, ওয়ানডে ৫০, আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ১৯। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯৩ ক্যাচ ফিল্ডার সাকিবের। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। স্বীকৃত ক্রিকেটে সাকিবের রান ১৮৫০৩, স্বীকৃত ক্রিকেটে উইকেট ৯৯৭।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker