বিনোদনসিনেমা ও টেলিভিশনহোমপেজ স্লাইড ছবি

সৌন্দর্যের দেবী সোফিয়া লরেন

প্লানেট’? হ্যাঁ। প্লানেট-এরই। এই প্লানেটের সবচেয়ে সুন্দরী, সবচেয়ে মেধাবী, সবচেয়ে লড়িয়ে, সবচেয়ে জিদ্দি, সবচেয়ে কষ্টসহিষ্ণু অভিনেত্রী, অনিন্দ সুন্দরতম সেলুলয়েড ‘দেবী’ সোফিয়া লরেন।

Buon compleanno alla bellissima e sensata e lussuosa attrice della terra sophia loren !!
‘টু উইমেন’ দিয়ে শুরু। একজন কিশোরের চমকে যাওয়ার জন্য আর কিছুর দরকার করে না। কত হবে বয়স? সম্ভবত চোদ্দ-পনের। তার পর একে একে ‘সানফ্লাওয়ার’, ‘ঘোস্ট ইটালিয়ান স্টাইল’ এর মত ক্লাসিকস দেখা শেষ হয়। আমাদের মা-খালাদের মায়েরও বড় এই অভিনেত্রীকে স্বপনে-জাগরণে ভাবতে আমাদের কোনো বাধা ছিল না। এলিজাবেথ টেইলরকে (লিজ) যেমন ব্রিটিশ বাকিংহ্যাম প্যালেসের প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন স্পর্শ-অসম্ভব প্রেমাস্পদ মনে হতো, ঠিক তার বিপরীতে সোফিয়া লোরেনকে ‘আমাদের ঘরের মেয়ে’ মনে করতে সামন্যতম কুণ্ঠাবোধ হত না।

একেবারেই বাঙালি নিম্নবিত্ত পরিবারের টানাপোড়েনের দগদগে বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি ছিল সোফিয়া লরেনেের জীবন। অভাবক্লিষ্ট। অনিশ্চিত। জন্মের আগে তার মা রোমিলডা একজন পুরুষকে ভালোবাসতেন। সেই প্রেমিকের সঙ্গে মিলনের ফলেই রোমিলডা গর্ভবতী হন। লোকটি তাকে বিয়ে করতে আপত্তি জানান। ফলে দশের চোখে ‘অবৈধ’ এই সন্তানের সামাজিক স্বীকৃতি ছিল না। সোজা বাংলায় আমাদের সমাজে যাকে ‘জারজ’ বলা হয়। সেই শিশুকন্যাই বিখ্যাত অভিনেত্রী সোফিয়ার লোরেন। পর্দায় এবং পর্দার বাইরে যার উপস্থিতি প্রতিটি মুহূর্তের জন্য শিহরণ জাগায়। বাবার পরিচয় ছাড়া বড় হয়ে যে মেয়েটি পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়েছেন। এই চরম অনিশ্চিত জীবনের শুরুটাই হয়ত তাকে সংগ্রাম করতে সাহস যুগিয়েছে।
খুব সহজেই তাকে অনেক ভারতীয় অভিনেত্রী যারা অংকুরেই ঝরে গেছেন, তাদের কাতারে ফেলা যেত। মীনা কুমারীর মত তাকে মাত্র ৩৪ বছরেই জীবননকে শেষ করে দিতে হয়নি। তিনি লড়েছেন। আজীবন দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়েছেন। আর সবকিছু বাদ দিয়েও শুধুমাত্র এই লড়াইটার কারণেও তিনি অন্যদের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। সেলুট পাওয়ার যোগ্য।

সোফিয়ার মায়ের জীবন নিয়ে করা ছবি ‘রোমিলডা’তে সোফিয়া এক সঙ্গে মা ও মেয়ে উভয় ভূমিকায় অভিনয় করে সকলকে বিস্মিত করেন! এর পর ১৯৪৮ সালে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তপর্বে উঠে যাওয়া দিয়ে শুরু হয়ে আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এরই মধ্যে যে পরিচালক কার্লো পন্টি তাকে ‘ব্রেক’ দিয়েছিল তাকেই বিয়ে করেন সোফিয়া। তার পর একে একে ১৯৫২ সালে ‘লা ফ্যাভোরিটা’, ১৯৫৩ সালে ‘এইডা’ ছবি উপায় পায় ফিল্মি দুনিয়া। আমরা এই টেকো মাথার কার্লো পন্টিকে ভীষণভাবে হিংসে করতাম!

আরও পরে ১৯৫৭ সালে অভিনয় করেন প্রথম আমেরিকান ছবি ‘বয় ইন আ ডলফিন’-এ৷ ‘দ্য প্রাইড এন্ড দ্য প্যাশন’ ও ‘হাউসবোট’ ছবিতে। ‘লা সাইওসায়ারা’-তে অভিনয় করে ১৯৬০ সালে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন সোফিয়া। সে সময়কার বিখ্যাত অভিনেতা মার্সেলো মাস্ত্রোয়ানি, পল নিউম্যান, মার্লন ব্র্যান্ডো, গ্রেগরি পেক, স্টিভ ম্যাককুইন, চার্লটন হিউসটনদের মতো নামকরা সব অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেন সমান দক্ষতায়। অস্কার এবং একাধারে পাঁচটি গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ড পেয়েছেন।

তার অভিনীত ছবির লিস্টি এখানে খুব জরুরি নয়, কেননা সেটা অনেক দীর্ঘ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দগদগে ঘা হয়ে টিকে রয়েছেন যিনি ‘টু উইমেন’ সেলুলয়েডে। যতদিন রূপোলী পর্দা থাকবে, সিনেমা থাকবে, ততদিন মানুষ সোফিয়া লরেন স্মরণ করবে। না করে উপায় নেই, কারণ একজন মানুষ এর চেয়ে বেশি সুন্দর হতেই পারে না।

  • মনজুরুল হক

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker