বিনোদনসিনেমা ও টেলিভিশনহোমপেজ স্লাইড ছবি

স্ক্যাম ১৯৯২: শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির আদ্যোপান্ত

মোশারফ রাসেল: শেয়ার বাজার। লাখ সাধারণ মানুষ যেখানে মালিক বনে যায়। কিন্তু সেই মালিকানা থাকে কিছু রাঘব বোয়ালদের হাতে। তেমনি একজন হার্ষাদ মেহতা। ভারতের প্রকাশ্যে আসা প্রথম শেয়ার বাজার স্ক্যামের হোতা। ১৯৯২ সালে যখন ঘটনা সামনে আসে তখন তোলপাড় পড়ে যায় সারা উপমহাদেশে৷

প্লট: সূচিতা দালাল। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার ফাইন্যান্সিয়াল উইং এর সাংবাদিক। এসবিআই (State Bank Of India) এর কর্মী শারাদ বেল্লারী দেখা করতে আসেন তার সাথে। এবং জানান যে এসবিআই তে অনেক বড় পরিমাণ স্ক্যাম হচ্ছে। যার পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি (বর্তমান মূল্য করলে যা প্রায় ২০ হাজার কোটি) যার মূল হোতা হার্ষাদ মেহতা। যে হার্ষাদ মেহতাকে বলা হতো Bombay Stock Exchange (বিএসই) এর বিগ বুল। সেই স্ক্যামের আগের পরের, সাধারণ মধ্যবিত্ত থেকে শেয়ার মার্কেটের জবার, সেখান থেকে ব্রোকার হয়ে সফলতার শীর্ষে পৌছানো হার্ষাদের উত্থান পতন, চড়াই উৎরাই নিয়েই গল্প।

Scam 1992: The Harshad Mehta Story সিরিজটি তৈরী হয়েছে পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত প্রখ্যাত নারী সাংবাদিক সূচীতা দালাল আর তার স্বামী দেবাশীষ বসুর যৌথভাবে লেখা “The Scam: Who Won, who Lost, who Got Away” বই অনুসারে। যে সূচীতা দালাল পুরো ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন সাংবাদিক হিসেবে। কভার করেছেন পুরো কেসের নিউজ। তখন তিনি Time Of India’ র ফাইন্যান্সিয়াল বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। তার বয়ানেই পুরো সিরিজটি নির্মিত। সিরিজটি দশটি এপিসোড। প্রতিটি এপিসোডের রানটাইম এভারেজ ৪৫ থেকে ৫৫ মিনিট করে। দশটি এপিসোডের দশটি নাম দেয়া হয়েছ Hoon1. Risk Se Ishq, 2. Cobra Killer, 3. Paise Ki Dukaan, 4, Harshad Mehta Is A Liar,5. Kundli Mein Shani, 6. Stop Press , 7. Dalal Street Ka Dariya , 8. Matador 9. Ek Crore Ka Suitcase , 10 . Main History Banana Chahta Hoon

হার্ষাদ মেহতা সম্পর্কে আপনি গুগোল থেকেও জানতে পারবেন যথেষ্ট। গল্পে ভিন্ন কিছু নেই। কিন্তু গল্পের প্রধান উপজীব্য একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় নির্মিত সিরিজটি। প্রতিটি এপিসোডেই ভাববেন এই বুঝি গল্পের শেষ। ভিন্ন কি আছে? কিন্তু তবুও আপনাকে গল্পে টেনে রাখার কাজটা দারুণ ভাবে করেছেন অভিনেতা অভিনেত্রী, পরিচালকসহ স্পেশালী চিত্রনাট্যকারদের কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। বই অনুসারে গল্পগুলো লিখেছেন Sumit Purohit, Saurav Dey, Vaibhav Vishal, Karan vyas মিলে।থিয়েটারকে বলা হয় অভিনেতাদের সূতিকাগার। উপমহাদেশের বেশিরভাগ জাত অভিনেতারাই কোনো না কোনোভাবে, কখনো না কখনো থিয়েটারের সাথে যুক্ত ছিলেন।

এই ছবির জন্য পরিচালক হানসাল মেহতাও সেই থিয়েটার অভিনেতাদেরই বেছে নিলেন লিড রোলে। গুজরাটি সিনেমার স্টার এবং থিয়েটার কর্মী প্রতীক গান্ধ নাম ভূমিকায়, সাংবাদিক সূচিতা দালালের ভূমিকায় শ্রেয়া দানভানথারী ছিলেন। এবং অসাধারণ ছিলেন দুজনই। বিশেষ করে প্রতীকের এই অভিনয় আমার জীবনে দেখা সেরাদের একটি চরিত্রাভিনয় বলতেই হবে। বাকিদের সবাইও ভালো করেছেন। বড় আয়োজনের বড় গল্প, অনেক শিল্পী অনেক চরিত্র। সব মনে রাখতে পারাও কষ্টের ব্যাপার৷ কিন্তু কখনো কোথাও মনে হয়নি কেউ ওভার একটিং করছে। হার্ষাদ মেহতাকে শুধু একজন ফ্রড নয় এখানে দেখানো হয়েছে একটি সিস্টেমের ভিতরে আরেকটি সিস্টেম বানিয়ে রেখেছিলো অনেক সুবিধাভোগীরা আগে থেকেই। হার্ষাদ শুধু সেগুলোর ব্যবহার করেছে মাত্র।

এখানে অনেকটাই নিরপেক্ষতার চেষ্টা করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে হার্ষাদ মেহতাকে অনেকটাই নির্দোষ মত দেখানো হয়েছে। বা যে সিস্টেম সে চালু করেনি সে সিস্টমের শাস্তি সে পেয়েছে এমন দেখানো হয়েছে। তবে কোনো প্রতারককে প্রতারকই বলা উচিত। তবে একদিকে এটাও ঠিক সে তার কোনো কাস্টমার শেয়ারহোল্ডারকে ঠকায় নি, লাভ ছাড়া লস দেয়নি। তবে তার জন্য হাজার হাজার মানুষ শেয়ারের দরপতনের শিকার হয়ে স্বর্বস্ব হারিয়েছেন। কিছু মানুষ সুইসাইডও করেছেন। সে দায় এড়ানো যায় না।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: সবমিলিয়ে বাস্তবতায় মোড়ানো এক অসাধারণ সিরিজ বলতেই হবে। শিক্ষনীয় ব্যাপার অনেক কিছুই আছে আবার নাইও। দেখে বসে বসে আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারির কথা মনে করে আফসোস করলে আমি দায়ী নই।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker