খেলাচলতি হাওয়াহোমপেজ স্লাইড ছবি

হেন্দে জাজা, যেন এক স্বপ্নের পাখি!

ইয়াসিন চৌধুরী: “হেন্দে জাজা” যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ান কিশোরী। আমাদের যখন পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে। জাজার তখন ঘুম ভাঙে গুলি আর রকেট ল্যাঞ্চারের বিকট শব্দে। কিন্তু সেখান থেকে উঠে আসা জাজাই এবারের অলিম্পিকের সর্বকনিষ্ঠ অ্যাথলেট! মাত্র ১২ বছর বয়সেই ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় আয়োজনে নাম লেখাতে পেরেছেন, সেটাও নিজ যোগ্যতায়। সিরিয়ার ইতিহাসে যা বিরলতম কীর্তি।

আর অলিম্পিক ইতিহাসে যা পঞ্চম রেকর্ড। সেই জাজা, যার শৈশবের স্মৃতি বলতে গোলাগুলি, বিস্ফোরণ আর স্বজন হারানোর হাহাকার। ১৮০টি দেশের কমপক্ষে দেড় মিলিয়ন টেবিল টেনিস প্লেয়ার আছে। যাদের অধিকাংশরই আছে উন্নত প্রশিক্ষণ আর আধুনিক সরঞ্জামাদি। কিন্ত জাজা’র ছিলো না কোন উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যাবস্থা, না ছিলো টেবিল টেনিসের খেলার ভালো একটা টেবিল। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর টেবিল টেনিসের প্রতি ভালোবাসাই ছিলো তার পাথেয়।

তবে প্রথম রাউন্ডেই তাকে বাদ পড়তে হয় কঠিন প্রতিপক্ষ লিউ জিয়ানের কাছে হেরে। তার প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়ান লিউ জিয়ান ২০০৫ এর ইউরো চ্যাম্পিয়ান। লিউ যে বছর প্রথম ইউরো টেবিল টেনিস কোর্টে নামেন তার চার বছর পর জন্ম নেয় জাজা। মাত্র ১২বছর বয়সে ৩৯ বছর বয়সী একজন পাকা প্লেয়ারের বিরুদ্ধে ৯/১০ পয়েন্ট নিয়ে লড়াই করে হারাটা অবশ্যই গর্বের। গত ১০বছরে যে দেশে ৫লক্ষ লোককে হত্যা করা হয়েছে, নিজ দেশে যাদের পতাকা আজ অর্ধনমিত।

জাজা মাত্র ১২ বছর বয়সে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে জাপান অলিম্পিকে নিজের কাধে তুলে নিয়েছে সেই যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পতাকা। এবার হারলেও সিরিয়ানদেরকে সে প্রতিজ্ঞা করে অলিম্পিকে স্বর্ণের স্বাদ তিনি ঠিক একদিন এনে দিবেন। তথাকথিত জিহাদি আর পশ্চিমা মিলিশিয়াদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জাজা’দের প্রজন্ম একদিন ঠিক সিরিয়ার হাল ধরবে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker