ছুটিহোমপেজ স্লাইড ছবি

এক ঢিলে তিন পাখি মারতে ঘুরে আসুন সীতাকুণ্ড!

মৃন্ময়ী মোহনা: ঘুরতে যেতে কার না ভাল লাগে! কিন্তু সব সময় যা ভাল লাগে তা করার পর্যাপ্ত সময় সুযোগ কি পাওয়া যায়? তবে কম সময়ে বেশি আনন্দ উপভোগ করতে হলে একটা সুন্দর ট্যুর প্ল্যানই যথেষ্ট।

চট্টগ্রাম – প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি। এখানে ঘুরতে গেলে কোন স্পট ছেড়ে কোনটায় যাওয়া যায়, এমন দ্বিধায়  পড়াটা খুব অস্বাভাবিক না। মাত্র ১ দিনের ব্যাগপ্যাক ট্যুরেও চট্টগ্রামের তিনটে হাইপ তোলা জায়গায় ঘুরে আসা যায় অনায়াসে। আজ আপনাদের সেই উপায়ই বাতলে দিবো।
১ দিনের ট্যুরে যে তিনটি স্পটে মনপ্রাণ আর পয়সা উজার করে ঘুরে আসতে পারেন সেগুলো হল :
গুলিয়াখাল সি বিচ, চন্দ্রনাথ পাহাড় আর মহামায়া লেক।

গুলিয়াখালি সি বিচ – এখানে সমুদ্রের চাইতেও যেসব জিনিস আকর্ষণ করার জন্য যথেষ্ট, সেটা হল এর বিস্তৃত কেওড়া বন। কেওড়া গাছের শ্বাসমূল ছড়িয়ে আছে তাবৎ এলাকা জুড়ে। সাথে পায়ের নিচের সবুজ ঘাসের সমারোহ আর প্রাকৃতিক ভাবে জেগে ওঠা অনেক ছোটবড়, আঁকাবাঁকা নালা গুলিয়াখালিকে দিয়েছে অনন্য মাত্রা। স্থানীয় লোকদের কাছে এ জায়গার নাম মুরাদপুর। জোয়ার – ভাটা দুই সময়েই এখানে যাওয়াটা একটু কঠিন। জোয়ারের সময় প্রায় ১ কি.মি জায়গা কোমর পানিতে ডুবে যায়।মাত্র ১ টা নৌকা আছে সমুদ্রের কাছে যাওয়ার জন্য। আর ভাঁটার সময় পুরো এলাকা কাঁদায় মাখামাখি হয়ে খুবই পিছলে হয়ে যায়। সাথে ছোট ছোট হাজার হাজার জোঁকের ভয় তো আছেই। তবে সকালের দিকে ভাটার সময় মানুষজন কম থাকে, সেইসময় যাওয়াই ভাল। এখানে যেতে হলে কম মনোবল আর জোঁক ভীতি থাকলে কিন্তু চলবেনা!

চন্দ্রনাথ মন্দির এবং পাহাড়
গুলিয়াখালিতে ঘন্টা দুয়েক কাটিয়ে এবার আসতে পারেন চন্দ্রনাথ মন্দির। মূলত এটি একটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত, যার নাম চন্দ্রনাথ পাহাড়৷ কথিত আছে, হিন্দুধর্মের রামের স্ত্রী সীতার ডানহাত এখানে পতিত হয়েছিল! এখানে অনেকগুলো ছোটবড় মন্দির আছে, যেখানে প্রতিষ্ঠিত আছে হিন্দুধর্মের নানা দেবদেবী। তবে পাহাড়ের মূল আকর্ষণ একেবারে চূড়ায় প্রতিষ্ঠিত শিবমন্দির, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩১০ মিটার উচুঁ। যাদের ট্রেকিং করার খুব শখ, কিন্তু আবার ভয়ও আছে কমবেশি, তাদের জন্য চন্দ্রনাথ ট্রেকিং খুব ভাল অপশন। যদিও এখন চান্দের গাড়ির জন্য আলাদা রাস্তা বানানো হচ্ছে, তবে মূল পাহাড়ে ট্রেকিং করে যাওয়াই বেশি রোমাঞ্চকর। দুটো রাস্তা আছে নিচে, একটি সিঁড়ি, আরেকটি মাটির আর পাথরের রাস্তা। উপরে ওঠার জন্য মাটির পথ আর নিচে নামার জন্য সিঁড়ি ব্যবহার করাটাই ভাল। পাহাড়ে উঠতে হলে অবশ্যই সাথে লাঠি নিতে ভুলবেন না। পাহাড়ে উঠবার গেইটের সামনেই সারি সারি লাঠির দোকানের দেখা মিলবে। ২০ টাকার বদলে ব্যাগ রেখেও আসা যায় সেসব দোকানে। আর অবশ্যই কয়েক বোতল পানি নিতে ভুলবেন না। পাহাড়ের ওপর পানির দাম ১০০ টাকাও নিতে পারে। পাহাড়ে ওঠার পথে একটা ছোট ঝিরিও পড়বে। খুব ঠান্ডা সে ঝিরির পানি। ৩/৪ ঘন্টা এখানে বরাদ্দ রাখলে খুব সুন্দর ভাবেই চন্দ্রনাথ পাহাড়ের সৌন্দর্য খুব ভালমত উপভোগ করা সম্ভব।

মহামায়া লেক

চন্দ্রনাথ ঘুরে এবার চলে আসুন মহামায়া ইকোপার্ক, যেখানে আছে একটি সুন্দর লেক। মহামায়া লেক বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ। চারপাশে সবুজ পাহাড় আর লেকের পানি মিলেমিশে তৈরি করেছে অনাবিল সৌন্দর্য। এখানকার মূল আকর্ষণ হল কায়াকিং। প্রতি ঘন্টা ৩০০/- হিসেবে উপভোগ করা যায় এই কায়াকিং। ছাত্রছাত্রীদের জন্য ছাড়ও দেয়া হয়, ‘স্টুডেন্ট আইডিকার্ড’ দেখালে। সন্ধ্যা ৬.৩০ পর্যন্ত লেকে কায়াকিং এর সুযোগ থাকে। আর ইকোপার্কে প্রবেশ টিকেট ১০ টাকা।

যেভাবে যাবেন

তিনটি জায়গায় যেতে হলে সবার আগে দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে যেতে হবে সীতাকুণ্ড। সীতাকুণ্ড যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে মেইল ট্রেইন আছে।তবে আরামের ভ্রমণের জন্য বাসে যাওয়াটাই ভাল। এক্ষেত্রে ফেনীর মহীপাল পর্যন্ত বাসে গিয়ে তারপর বাস বদলে সরাসরি সীতাকুণ্ড চলে যেতে পারেন। রাত ১১/১২ টায় যাত্রা শুরু করলে ভোরের আগেই পৌঁছে যাবেন সীতাকুণ্ড। সেখানে ছোট ছোট কয়েকটি হোটেল আছে। খুব বেশি ভাল না হলেও মোটামুটিভাবে চালিয়ে নেয়া যাবে। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে গুলিয়াখালি যাবার জন্য সিএনজি ভাড়া পাওয়া যায়। এটি নিয়েই চন্দ্রনাথ পর্যন্ত যাওয়া যাবে। রিজার্ভ করলে মোট খরচ পড়বে ৫০০ টাকা। চন্দ্রনাথ থেকে আবার সীতাকুণ্ড বাজারে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে রওনা হয়ে যেতে হবে মহামায়ার উদ্দেশ্যে। এখানে যেতে হলে চলে আসতে হবে মেইনরোডে, আর উঠে বসতে হবে লেগুনাতে। লেগুনাতে প্রতিজন ৪০ টাকা। সবচেয়ে শেষের স্টপেজে নেমে পড়তে হবে।তারপর অটোতে উঠলে ৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবেন মহামায়া ইকো পার্ক। ইকো পার্ক ঘুরে একই ভাবে মেইনরোডে এসে সরাসরি ঢাকার বাস, নয়তো ফেনী পর্যন্ত যেকোন বাসে এসে পরবর্তীতে বাস বদলে চলে আসতে পারেন ঢাকা শহর!
এ ট্যুরে একজনের খরচ পড়বে মাত্র ১৫০০/- টাকা।
তাহলে আর দেরী কেন! ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন সীতাকুণ্ডে এক ঢিলে তিন পাখি মারতে!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker