বই Talkহোমপেজ স্লাইড ছবি

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা যে পাঁচটি বই আপনার পড়া উচিত

মাহমুদুর রহমান: আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। অগণিত প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা হয়েছে অজস্র বই। এসব বইয়ের কোনটা ফিকশন, কোনটা নন-ফিকশন। যেসব বই ফিকশন, অর্থাৎ গল্প বা উপন্যাস, তাতেও ফুটে উঠেছে যুদ্ধের ভয়াবহতা, বাঙালীর দেশপ্রেম এবং যুদ্ধকালীন সময়ের কথা। আজ আমরা জানবো মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত পাঁচটি বইয়ের কথা যা আমাদের সবার পড়া উচিত।

৫. মাঃ বইটি মূলত উপন্যাস হলেও একদম সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মাগফার চৌধুরী আজাদ এবং তাদের মা এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। প্রাচুর্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা আজাদ একদিন মুক্তিযুদ্ধে যায় এবং সাহসের সাথে যুদ্ধ করে। এক পর্যায়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়লে আজাদের মা তাঁকে বলেন সে যেন শত অত্যাচারেও সঙ্গীদের কথা না বলে। আজাদ বলেছিল, সে অনেকদিন ভাত খেতে পায় না। আজাদের মা পরদিন ছেলের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন ভাত নিয়ে। ছেলে সেখানে ছিল না। বাকি জীবন আজাদের মা ভাত খাননি, বিছানায় ঘুমান নি।

আনিসুল হকের এই উপন্যাসটি নিয়ে বিস্তর সমালোচনা, সাহিত্যমান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এই উপন্যাসে আজাদ এবং আজাদের মায়ের মাধ্যমে উঠে এসেছে যুদ্ধকালীন সময়ের কথা। আজাদের সঙ্গী মুক্তিযোদ্ধা, বন্ধুদের যে কথা লেখক লিখেছেন তাও বাস্তব সত্য।

৪. জোছনা ও জননীর গল্পঃ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেকগুলো উপন্যাস লিখেছেন হুমায়ূন আহমেদ। গল্পও লিখেছেন। কিন্তু তার মধ্যে ‘জোছনা ও জননীর গল্প’-র মতো জনপ্রিয়তা কোন বই অর্জন করতে পারেনি। বেশ বড় ক্যানভাসে চিত্রিত এই উপন্যাসে নানা চরিত্র, ঘটনার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং সেই সময়ের বাস্তবতা।

সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন এক লেখায় এই উপন্যাসের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে যে ঘরে দু’টি অন্তত বই আছে তার মধ্যে একটি ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাস”।

৩. একাত্তরের দিনগুলিঃ মুক্তিযুদ্ধের সময়ের দিনলিপি এই বই। যুদ্ধ শুরুর আগ থেকে জাহানারা ইমাম এই ডায়েরি লিখতে শুরু করেন, যা পরবর্তীতে বই আকারে প্রকাশিত হয়। এই বইটিতে একাত্তর, মুক্তিযুদ্ধ, সেই সময়ে ঢাকার অবস্থা এবং জাহানারা ইমামের নিজের পরিবারের কথা উঠে এসেছে। এই ডায়েরি থেকে আমরা জানতে পারি তাঁর ছেলে রুমির কথা, যে যুদ্ধে শহীদ হয়েছিল। আর রুমির মুখ থেকে জানতে পারি রণাঙ্গনের কথা। সেই সঙ্গে জানতে পারি মেজর খালেদ মোশাররফ, মেলাঘর ক্যাম্প, মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বাস্তবতার কথা। মুক্তিযুদ্ধ এবং সেই সময়ের কথা জানতে অবশ্যপাঠ্য একটি বই।

২. মূলধারা ‘৭১ঃ মঈদুল হাসানের লেখা এই বইটি নন-ফিকশন। মুক্তিযুদ্ধ এবং সেই সময়কার নানা ঘটনা, তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি উপস্থাপন করেছেন আমাদের সামনে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা বইয়ের মাঝে এই বইটি একটি বিশেষ সংযোজন।মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা একাডেমিক পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক কিংবা বিশ্লেষণমূলক লেখা পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি একটি অবশ্যপাঠ্য বই।

১.অসমাপ্ত আত্মজীবনীঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন মহান নেতা ছিলেন, তেমনি ছিলেন সু-লেখক। আমাদের সৌভাগ্য যে অনেকদিন পরে হলেও তাঁর জেল-জীবনে লেখা এই বইটি প্রকাশিত হয়েছে। অবশ্যই সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা নয় এ বই। কিন্তু যুদ্ধ সূচনার আগের সময়ের কথা এখানে রয়েছে। বঙ্গবন্ধু তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের তৎকালীন পরিবেশ, পরিস্থিতি, নেতাদের মনস্তত্ত্ব ব্যাখ্যা এবং বিশ্লেষণ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সাথে সাথে দেশের ইতিহাস জানতে এ বইটি অবশ্যপাঠ্য।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker