ছুটিহোমপেজ স্লাইড ছবি

পৃথিবীর পাঁচটি রহস্যময় স্থান

মঞ্জুর দেওয়ান: বলুনতো এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত গ্রহের নাম কি? আপনার উত্তর নিঃসন্দেহে ‘মঙ্গল গ্রহ’ হবে। মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি নেই, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে বহুদিন ধরেই। ৬০ এর দশকে যেমনটা ছিলো চাঁদ নিয়ে। এ্যাপোলো-১১ মিশন দিয়ে যার সমাপনী টেনেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গল নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। হয়তো একদিন রহস্য উন্মোচন হবে। কিন্তু বিশাল সৌরজগতের মাঝে ছোট্ট এক গ্রহ পৃথিবীর রহস্য কি উন্মোচন হবে? হাজার বছরের ইতিহাসে মানুষ যতো রহস্যের সমাধান করেছে, ততই নতুন ধাঁধার জন্ম নিয়েছে। জীবের অনুকূলে থাকা একমাত্র গ্রহ বিভিন্ন কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। আশ্চর্য্য আর অবিশ্বাস্যে ভরা এই ধরণী। পৃথিবীতে অনেক জায়গার সন্ধান পাওয়া গেছে যার বিশেষ ব্যাখা খুঁজে পাওয়া যায়নি। হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া অথবা এর সৌন্দর্য্য উপভোগ করা ছাড়া আর কিছু করা যায়নি। এমনই কিছু আশ্চর্যজনক জায়গার কথা জানবো এবারের আয়োজনে।

ম্যাগনেটিক হিল: কানাডার মনকটন শহরে অবস্থিত এই চুম্বক পাহাড়। যেখানে গাড়ি চলাচলের সময় চুম্বক আকর্ষণ করে। শুধু গাড়ি বললে ভুল হবে। চুম্বক আকর্ষণ করে এমন যেকোন ধাতবই নিজের দিকে টেনে নেয় ম্যাগনেটিক হিল। পাহাড়ের নীচে দাড় করানো গাড়ির ধীরে ধীরে উপরে উঠে যাওয়ার ঘটনাও কথাও শোনা যায়। শুধু কি গাড়ি; মাধ্যাকর্ষণ নীতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে উপরের দিকে বয়ে চলে অবাধ্য ঝরনা! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকারের চেষ্টার পর থেকে পৃথিবীর অন্যতম পর্যটন স্থান ম্যাগনেটিক হিল। ভারতের লাদাখেও মনকটনের মতো চুম্বক পাহাড় রয়েছে। তবে বিশ্ব দরবারে ম্যাগনেটিক হিলের কদর সবচেয়ে আলাদা।

পৃথিবীর আয়না: সালার দে ইয়ুনি সারা বিশ্বে পরিচিত পৃথিবীর আয়না নামে। আয়না হলেও এটি কাচ ও পারদের সমন্বয়ে প্রস্তুত নয়। আশ্চর্যজনক এই আয়নার মূল উপাদান লবণ! বলিভিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে পতোসিতে অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লবণের সমতলভূমি। সাড়ে দশ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই সমতলভূমি দেখতে হুবহু আয়নার মতোই। যেখানে আকাশ-জমিন মিলে একাকার! প্রাচীনকালে অনেকগুলো লেকের একইসঙ্গে মিলনের ফলে জন্ম হয়েছে সালার দে ইয়ুনির। কথিত আছে কৃত্রিম উপগ্রহের সক্ষমতা বুঝতে এই লবণভূমি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট সময়ে পর্যটকদের চারণ ভূমিতে পরিণত হয় সালার দে ইয়ুনি!

দিবা রাত্রি সূর্য: অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, নরওয়ের লংইয়ারবায়েনে দিনরাত সূর্য থাকে। আমাদের দেশের মতো রাতের অন্ধকারের বালাই নেই। নির্দিষ্ট একটি সময়ে সূর্য অস্ত যায়না এই এলাকাটিতে। নরওয়ের স্বালবার্ডেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। এপ্রিলের ১৯ তারিখ থেকে আগষ্টের ২৩ তারিখ পর্যন্ত সূর্য অস্ত যায়না। ৪ মাসের অধিক সময় দিন থাকে! বিজ্ঞানীরা ব্যাখা দিয়েছেন, পৃথিবী তার নিজ অক্ষের ২৩ ডিগ্রি পরিমাণে হেলানো অবস্থায় রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর হিসেবে, সেখানে প্রতি বছর একবার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়। উত্তরের সুমেরু বৃত্তে সূর্য প্রায় ৬ মাস রোদ স্থায়ী হয়!

রেসট্র‍্যাক প্লায়া: ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথভ্যালি পার্ক পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তপ্ত জায়গা গুলোর মধ্যে একটি। শুধু তাপের জন্য নয়, আরোও একটি কারণে এই জায়গাটি সবসময় আলোচিত। তা হলো, সাধারণ পাথরের এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ঘুরে বেড়ানো! রুক্ষ মাটিতে পাথরের ভ্রমণের চিত্র মিলেছে অনেকবার। ডেথভ্যালির নির্দিষ্ট এলাকায় এসব পাথরের ভ্রমণের কারণ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

অনন্ত শিখা: আগুন নিভানোর সবচেয়ে সহজ উপকরণ পানি হলেও পানির পাশে অসমাপ্ত আগুনের দেখা মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রে। আমেরিকার ব্যস্ততম শহরের অর্চাড পার্কে রয়েছে এই অসীম আগুন। যা সবসমই জ্বলতে থাকে। সুন্দর জলপ্রপাতের নীচেই দেখা মিলবে অগ্নিশিখার। পানির স্পর্শে কিংবা অন্য কোন কারণে আগুন নিভে গেলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগুন জ্বলার বর্ণনা দিয়েছেন পর্যটকেরা। 

 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker