ছুটিহোমপেজ স্লাইড ছবি

ঘুরে আসুন ‘মিনি কক্সবাজার’

এস.কে.শাওন: আগে-পিছে ডানে-বামে চিকচিকে বালুর স্থলভূমি। সামনে রুপোর মতো চকচকে পানি! যেখানে আসলে আপনি সত্যিই মুগ্ধ হবে নদীর অপরূপ জলরাশি দেখে। বলছিলাম পদ্মাপাড়ের খেয়াঘাট মৈনটঘাটের কথা। ঢাকার দোহার উপজেলার কার্তিকপুরের যে জায়গাটি পদ্মা পাড়ে গিয়ে মিশেছে তাঁর নাম মৈনটঘাট। ঘাটের পূর্বপাশের বিশাল চর আপনাকে সাগরের বেলাভূমির কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। মৈনটঘাটের সোনা ঝরা রোদের গোধূলিবেলার তো কোন তুলনাই চলে না। মানুষের মুখে ছড়িয়ে পড়া মৈনটঘাটের নতুন নাম হলো ‘মিনি কক্সবাজার ‘।

মৈনটঘাট থেকে প্রতিদিন ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল করে। খেয়া পারাপারের জন্য জায়গাটির পূর্ব পরিচিতি থাকলেও বর্তমানে জায়গাটি ভ্রমণের জন্য বেশ জনপ্রিয়। এখানে আসলে ভ্রমণপিপাসু মানুষেরা পদ্মার পাড়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন,চাইলে পদ্মার জলে গা ভাসাতে পারেন। আর সন্ধ্যার অপূর্ব সূর্যাস্ত হয়তো আপনার হৃদয়ে নতুন অনুভূতির সঞ্চার করবে!

কীভাবে যাবেন: ঢাকার গুলিস্তান গোলাপ শাহ্ মাজারের সামনে দিয়ে দোহারগামী অনেক বাস যায়। তবে সব বাস মৈনটঘাট পর্যন্ত যায় না। শুধুমাত্র যমুনা ডিলাক্স ও এন মল্লিক পরিবহনের বাস মৈনটঘাট পর্যন্ত যায়। ভাড়া ৯০ টাকা।

কী কী দেখবেন: মৈনটঘাট আসার আগে জজবাড়ি, উকিল বাড়ি ও কলাকোপা বৌদ্ধ মন্দির দেখতে চাইলে আপনাকে কলাকোপা নামতে হবে। সেজন্য অবশ্য বাসের কন্ট্রাক্টরকে কলাকোপা নামার ব্যাপারে আগেই অবগত করতে হবে। উকিলবাড়িতে দেখার মতো তেমন কিছুই নেই। তারপরেও টিকিট কাঁটা লাগে। টিকিটের দাম ২০ টাকা। কলাকোপা থেকে মৈনটঘাট যেতে টমটম ভাড়া ১৫ টাকা। মৈনটঘাট গিয়ে পদ্মার ওপর ঘুরে বেড়াতে চাইলে মাঝারি সাইজের একটি ট্রলার ভাড়া করতে হবে। ঘন্টা প্রতি ভাড়া ১২০০-১৪০০ টাকা।

কোথায় খাবেন: মৈনটঘাটে কিছু ভাতের হোটেল আছে। ভাত ২০ টাকা প্লেট। এক টুকরো ইলিশ ৮০-৯০ টাকা। বড় ইলিশ খেতে চাইলে আগেই অর্ডার দিতে হবে। মৈনটঘাটে ইলিশ মাছের চাহিদা বেশি। কারণ বেশিরভাগ মানুষেরই ইচ্ছা পদ্মার তীরে বসে পদ্মার বিখ্যাত ইলিশ খাওয়ার। এছাড়াও ঐ হোটেলগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন পদের ভর্তা। বিকাল বা সন্ধ্যার খাবার হিসেবে থাকে চটপটি, ফুচকা, লাচ্ছি। যদি ১ দিনের জন্য মৈনটঘাট যাওয়া হয় তাহলে বাসা থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে যাওয়াই ভালো। আর যদি একত্রে অনেকজন বনভোজনে যায় তাহলে সেখানে গিয়ে রান্না করার সুযোগও আছে।

কোথায় থাকবেন: পর্যটকদের থাকার জন্য মৈনটঘাটের আশেপাশে কোন হোটেল বা রিসোর্ট এখনো তৈরি হয়নি। সেখানে থাকার জন্য স্থানীয় কোন বাসিন্দার বাড়ি ম্যানেজ না করতে পারলে দিনে এসে দিনে ফিরে যাওয়া ভালো। আর মৈনটঘাট ভ্রমণের জন্য ১ দিনই যথেষ্ঠ।

সতর্কতা: এখানে স্রোতের টান প্রচুর। সাঁতার না জানলে গোসলের সময় বেশি গভীরে যাবেন না। নৌকা দিয়ে নদী ভ্রমণের সময়ও আপনাকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

যেহেতু ১ দিনই মৈনটঘাট ভ্রমণের জন্য যথেষ্ঠ সেহেতু যেকোন ছুটির দিনেও ঘুরে আসতে পারেন মনোমুগ্ধকর এ স্থানটি।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker