বাক্যহোমপেজ স্লাইড ছবি

ইতিহাসের অন্ধকার সময়

মাহমুদুর রহমান: মানুষের ইতিহাসের একদম গোঁড়ায় তাদের যে অবস্থা ছিল তাকে ‘বর্বর’ দশা বা বর্বর যুগ বলা হয়। ধীরে ধীরে মানুষ ‘সভ্য’ হয়েছে। গড়ে তুলেছে নগর, বন্দর, সভ্যতা। সেখান থেকে আস্তে আস্তে আজকের এই বিজ্ঞানের যুগ। কিন্তু এ পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে অনেক। এবং এর মাঝেও কখনও কখনও অন্ধকার নেমে এসেছে মানুষের মাঝে। ইতিহাসের সেই অন্ধকার সময় নিয়েই আজকের এই আয়োজন।

আইয়ামে জাহেলিয়াতঃ আইয়াম শব্দের অর্থ এখানে যুগ আর জাহেলিয়াত দ্বারা ‘অজ্ঞানতা, অন্ধকার, কু সংস্কার’ ইত্যাদি বোঝানো হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে আইয়ামে জাহেলিয়াতের কথা বারবার এসেছে। আরবে এই সময়টি অতি কুখ্যাত হয়ে আছে। এ সময়ে মানুষের মাঝে কোন শুভ বুদ্ধি ছিল না। তারা নানা রকম ফেতনা, ফ্যাসাদ, মদ, মাৎসর্যে ডুবে ছিল।

ইতিহাসবিদদের মতে ইসলাম আসার ঠিক পূর্বের সময়টাই আইয়ামে জাহেলিয়াত। অর্থাৎ খ্রিষ্টীয় ৫০০ থেকে ৬০০ অব্দ পর্যন্ত। অনেকে আবার মনে করেন, মানব ইতিহাসের শুরু থেকে ইসলাম আসার আগের পুরো সময়টাই আইয়ামে জাহেলিয়াত। কিন্তু সেটা পুরোপুরি মানা যায় না। কেননা ইসলাম আসার পূর্বের সময়টি এতো বিক্ষিপ্ত এবং এতো বর্বর ছিল যে সে সময়টাকেই এই অন্ধকার যুগ বলে মনে হয়।

ইতিহাসের এ সময়টিতে তাকালে দেখা যায় আরবের মানুষেরা এ সময়ে মদ, জুয়া, ব্যভিচার, হত্যা, লুণ্ঠন, মূর্তিপূজা ইত্যাদি নিয়ে মেতে উঠেছিল। তাদের বর্বরতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তারা কন্যা সন্তানকে অমঙ্গল মনে করে জন্মের পরপর তাদের জীবন্ত কবর দিয়ে দিতো। এ ছাড়া গোত্রে গোত্রে দ্বন্দ্ব, খুন, জখম লেগেই থাকতো। মানুষ পথভ্রষ্ট হয়ে ছিল।

সে সময়ে আল্লাহ্‌ পাক মানুষের মুক্তির দূত হিসেবে হযরত মুহম্মদ (সঃ)-কে প্রেরণ করেন। তাকে নব্যুয়ত দেন এবং তাঁর উপর নাযিল করেন কুরআন। এবং ধীরে ধীরে সে অন্ধকার যুগ থেকে মানুষ আলোর পথে আসে।

ইউরোপের মধ্যযুগঃ ইসলামের আগমনের মধ্য দিয়ে মানবজাতির কাছে এসেছিল আলোর বার্তা কিন্তু কিছু মানুষ সে বার্তা পায়নি। যেমন ইউরোপ। তাই একটা সময়ে ইউরোপে নেমে আসে অন্ধকার। একাদশ শতাব্দী থেকে পনেরশ’ শতাব্দী পর্যন্ত এর স্থায়িত্বকাল ধরা হয়। এ সময়ে নানা যুদ্ধ বিগ্রহে ইউরোপ পর্যুদস্ত হয়ে ছিল। ছোট ছোট দেশগুলো আজ যেমন সমৃদ্ধ, তখন তা ছিল না। এবং যে দেশ একটু শক্তিশালী হতো, তারাই অন্যের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তো।

ইউরোপ তখন যান বিজ্ঞানেও অনেক পিছিয়ে। যদিও এ সময়ে ইউরোপে অনেক মুক্তচিন্তার মানুষেরা এসেছিলেন কিন্তু তাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ধর্মান্ধতা ছিল এর মূল কারন। চার্চ এবং চার্চের সাথে সংশ্লিষ্ট যাজক এবং অভিজাত ব্যক্তিদের ইচ্ছানুসারে সমাজ চলতো। বাইবেলের কথার বাইরে কেউ কোন কথা বলতে পারতো না। মূলত বাইবেলের কোথাও না, যাজকরা যা বলতো, তা-ই ছিল শেষ কথা।

এ সময়ের মধ্যে যখনই কেউ যান বিজ্ঞানের কথা বলেছে তাকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভয় ভীতি বা লোভের কাছে যারা আত্মসমর্পণ করতো না তাদের হত্যা করা হতো বিচারের নামে। এভাবেই মারা পুড়িয়ে মারা হয়েছে জোয়ান অব আর্ক, জিয়নার্দো ব্রুনোকে। জোয়ান অব আর্ককে বলা হয়েছে ডাইনি। আর চার্চের কথার বাইরে গিয়ে ব্রুনো বলেছিলেন, সূর্য নয়, পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘুরে।

ইউরোপের এ দুঃসময় অনেকদিন ধরে চলেছিল। অতঃপর রেনেসাঁ এলে ধীরে ধীরে ইউরোপ আলোর সন্ধান পায়। আর আজকে সে ইউরোপ তাদের অন্ধকার সময় থেকে অনেক দূরে এসে আলোর সাম্রাজ্য তৈরি করে নিয়েছে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker