ছুটিহোমপেজ স্লাইড ছবি

নিরাপদে ক্যাম্পিং করতে পারবেন যেখানে

মিজানুর রহমান টিপু: ক্যাম্পিং কথাটা শুনলেই কেমন জানি একটা বুনো ফিল আসে না? আশেপাশে তেমন কেউ থাকবে না, শুধু কয়েকজন ক্যাম্পার বুনো একটা পরিবেশে তাবু গেঁড়ে থাকবে, সাথে থাকবে পাখি আর নানা অজানা পোকার শব্দ! ঢাকার রাস্তায় গাড়ির গগনবিদারী হর্নের আওয়াজের বাইরে অমন বুনো একটা পরিবেশে থাকা কিন্তু আসলেই যে লেভেলের মানসিক শান্তি দিতে পারে তা চিন্তার বাইরে!

কিন্তু ক্যাম্পিং-এর ইচ্ছা মনে আসলেই অনেক চিন্তা মাথায় একসাথে এসে ঢু মারে, “আমার তো তাবু নেই, স্লিপিং ব্যাগ নেই”, “তাবু, স্লিপিং ব্যাগ না হয় ভাড়া করলাম, তাবু টানাতে তো পারি না”, “তাবু না হয় টানানো শিখলাম ইউটিউব থেকে, ক্যাম্পের জায়গা কই”, “ক্যাম্পিং এর জায়গা আছে বাট সিকিউরিটিটা একটা ইস্যু!”, “খাবার রান্না করবো কিভাবে, অইটা তো একটা ঝামেলা”, “টয়লেট পাবো কোথায় অমন বুনো পরিবেশে?” আসলেই একটা সুন্দর পরিবেশে ক্যাম্পিং করার ইচ্ছা থাকলেও অনেকগুলা ইস্যু এসে সামনে দাঁড়িয়ে যায়!

এই সমস্যাটাই এখন থাকতেছে না যদি আপনি হাজারিখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে চলে যান! আরামসে ঝামেলা ছাড়া ক্যাম্পিং করার জন্য আর একটু বুনো পরিবেশের ফিল নেওয়ার জন্য আমার মতে পারফেক্ট জায়গা! ঝামেলা ছাড়া কেনো বললাম? তাবু ও স্লিপিং ব্যাগ সরবরাহ ও পিচ করবে USAID থেকে, রাতের সিকিউরিটির জন্য নাইটগার্ডও তারা দিবে। খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে সেখানে। টয়লেটের ব্যবস্থাও আছে! বাকি রইলো শুধু নিজের মতো দুইটা দিন উপভোগ করা, যেটা আপনি নিজের মতো করে নিবেন!

শুধু কি ক্যাম্পিং-ই করবেন সেখানে? আর কিছুই না? বোর হয়ে যাবেন না? না! সেটার চান্স নেই! আশেপাশে মোটামুটি সবকিছুই আছে, সিলেটের চা বাগানের ফিল, ঝিড়িতে হাটার ফিল, ঝিড়ির পানির শব্দ, বুনো পাখির আওয়াজ, ছোট ঝরনা মোটামুটি যারা কম ঝামেলায় ফুল প্যাকেজ চান, তাদের জন্য এটা বাম্পার অফার! আহামরি কোনটাই না, বাট মোটামুটি সবকিছুই আছে এবং সবকিছুর কম্বিনেশনেই এই জায়গা! অহ, সাথে যদি কারো নিজের হাত-পা এর ব্যালেন্স পরীক্ষা করে দেখার ইচ্ছা থাকে, তাহলে সেটাও পারবেন! আছে ট্রি এক্টিভিটি! এই হলো দুইদিনের একটা ট্যুরে সবটুকু ফিল!

বিঃদ্রঃ এই ফিলটা ততদিনই থাকবে যতদিন আমরা সেখানে যত্রতত্র চিপস-বিস্কুটের প্যাকেট বা খালি বোতল পাবো না। আশা করি যারা সেখানে যাবেন, চিপ্সের প্যাকেট-খালি বোতল ট্রেইলে বা ঝিরিতে ফেলে আসবেন না। হাজারিখিলে অভয়ারণ্যের ভেতরের খাওয়ার জায়গা-ক্যাম্প সাইট এবং তার আশেপাশে পর্যাপ্ত পরিমাণের ডাস্টবক্স আছে যেগুলা ব্যবহার করলে সেখানের পরিবেশটা আমাদের দিয়ে নস্ট হয় না। আশা করি আমরা পরিবেশের কাছে পরিবেশকে স্ট্রেস দিতে না গিয়ে নিজেদের রিফ্রেশ করে আসবো।

যেভাবে যাবেনঃ (ঢাকা থেকে) ঢাকা-ফটিকছড়ি/নাজিরহাট – বাসে (৫৫০টাকা) নাজিরহাট- হাজারিখিল – সিএনজি (৩০০টাকা-রিজার্ভ) হাজারিখিলে সব মিলিয়ে ৩০জনের থাকার মতো তাবুর ব্যবস্থা আছে, এর চেয়ে বেশি মানুষও গিয়ে থাকতে পারবেন নিজেরা তাবু নিয়ে গেলে। সেক্ষেত্রে স্পট ফি হিসেবে প্রতি তাবু ১৫০টাকা দেওয়া লাগে। শুক্র-শনিবার যাওয়ার প্ল্যান করলে আগে থেকে তাবু বুক করে যাবেন।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker