ছুটিহোমপেজ স্লাইড ছবি

প্রত্নতত্ত্বের খোঁজে ইদ্রাকপুর দুর্গে

মৃন্ময়ী মোহনা: অপরূপ সুন্দর এ বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে অনেক প্রত্নতত্ত্ব ও ঐতিহ্যের উপকরণ। ঢাকা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মুন্সিগঞ্জের ইদ্রাকপুর এমনই একটি জায়গা। ইদ্রাকপুর মূলত একটি জলদুর্গ।মোঘল আমলে জলপথে মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের প্রতিহত করার লক্ষ্যে দুর্গটি নির্মিত হয়।

ধারণা করা হয়ে থাকে, বাংলার মোঘল সুবাদার মীর জুমলা কর্তৃক ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দের দিকে নির্মিত হয় এটি। ইছামতি ও মেঘনার সংযোগস্থলে এটি অবস্থিত। বাংলাদেশে মোঘল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে ইদ্রাকপুর দুর্গটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষিত হয় ১৯০৯ সালে।

সুরঙ্গ পথে ঢাকার লালবাগ দুর্গের সঙ্গে এই দুর্গের সংযোগ ছিল বলে একটি জনশ্রুতি আছে। উঁচু প্রাচীর ঘেরা এই দুর্গের চারকোণায়  রয়েছে একটি করে গোলাকার বেস্টনী। দুর্গের ভেতর থেকে শক্রুর প্রতি গোলা নিক্ষেপ করার জন্য চারদিকের দেয়ালের গায়ে রয়েছে অসংখ্য ছিদ্র।

এ দুর্গের নির্মাণশৈলী অত্যন্ত চমৎকার। মার্লন শোভিত প্রাচীর এ দুর্গ করেছে আরও আকর্ষণীয়। প্রাচীর বিশিষ্ট বৃহদাকার ড্রাম- এ দুর্গের আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। বিশালাকার এ স্থাপত্যের প্রায় সবটুকুই টিকে আছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিবিড় যত্নের জন্য।

প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থীরা ভীড় জমায় মোঘল আমলের এই অপূর্ব স্থাপত্যশিল্পটি দেখার জন্য। সৌন্দর্যপিপাসু ও ইতিহাসপ্রিয় মানুষের ভ্রমণের জন্য ইদ্রাকপুর দুর্গ হতে পারে চমৎকার একটি স্থান।

কীভাবে যাবেন

ইদ্রাকপুর যেতে হলে বাস বা ট্রেন দুই-ই ব্যবহার করা যেতে পারে। বাসে যেতে হলে ঢাকার বায়তুল মোকারররম বা হকি স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জগামী বাসে যাওয়া যায়। ট্রেনে গেলে কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত যেতে হবে।বাস বা ট্রেনে নারায়ণগঞ্জ বন্দর নেমে সেখান থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ছোটো ছোটো স্টিমারে চড়ে ২০/৩০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যাবে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল। সেখান থেকে অটো বা রিক্সাতে সরাসরি ইদ্রাকপুর। এ ভ্রমণে প্রত্নতত্ত্বের খোঁজ পাওয়ার সাথে সাথে নদীর সৌন্দর্যও উপভোগ করা যাবে। উপরি পাওনা হিসেবে  ফেরার পথে নদীর বুকে সূর্যাস্ত দেখারও সৌভাগ্য হবে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker