বাক্যহোমপেজ স্লাইড ছবি

হ্যালোইনের ইতিবৃত্ত

হ্যালোইন ডে-র কথা আমরা সবাই কম বেশি শুনেছি। প্রতিবছর অক্টোবরের ৩১ তারিখ মৃত আত্মাদের স্মরণে পালিত হয় এ দিবস। এক সময় হ্যালোইন ডে পশ্চিমা দেশগুলোতে পালিত হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের অভিজাত এলাকায় হ্যালোইন ডে একটা উৎসবের দিনে পরিণত হয়েছে। হ্যালোইন ডে পালিত হয় এখন পৃথিবীর সর্বত্র। কিন্তু এই হ্যালোইন ডে উদযাপন কিভাবে শুরু হয়? কিসের জন্য শুরু হয়? হ্যালোইন ডে এর আদ্যোপান্ত হয়তো আমরা সবাই জানি না। আসুন জানি হ্যালোইন ডে এর বিস্তারিত।

হ্যালোইন ডে সম্পর্কে লোকজ ধারণা হলো, সমস্ত মৃত ব্যক্তিরা ৩১শে অক্টোবর রাত্রিতে জীবিতদের বিশ্বে আসে আগামী বছরের নতুন দেহ নেওয়ার জন্য। এজন্য গ্রামবাসীরা এই খারাপ আত্মাদের থেকে বাচাঁর জন্য ব্যবস্থা নেয়। এই প্রথাটি ছিল পবিত্র বেদি আগুন বন্ধ করা এবং নতুন আগুন জ্বালানো হতো (যেটি নতুন বছরের আগমন প্রতীক হিসাবে ছিল) পরবর্তী প্রভাতে। আইরিশ, যুক্তরাজ্যবাসী কেল্টদিগের পরোহিতরা তারা মিলিত হতো একটি অন্ধকার ওক (পবিত্র গাছ হিসেবে বিবেচনা করা হতো) বনের ছোট পাহাড়ে নতুন আগুন জ্বালানোর জন্য এবং বীজ ও প্রাণী উৎসর্গ করতো। আগু্নের চারিদিকে নাচতো এবং গাইতো প্রভাত পর্যন্ত, পথ অনুমোদন করেতো সৌর বছর এবং আঁধার ঋতু্র মধ্যে। এই লোকজ রীতিনীতি পরবর্তীতে হ্যালোইন ডে’তে রুপ নেয়।

হ্যালোইন ডে উৎসব হিসাবে পালন করা শুরু হয় মধ্যযুগ থেকে। আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ডের উচ্চ ভূমি ও ফ্রান্সের উওর অংশ জুড়ে তখন কেল্টিক সভ্যতা বিস্তার। প্রাচীন কেল্টদের পালিত সামহাইন উৎসব থেকেই মূলত হ্যালোইনের সূত্রপাত। কেল্টদের বিশ্বাস ছিলো, নতুন বছর শুরু হওয়ার আগের রাতে জীবিত ও মৃতের দুনিয়ার মধ্যকার ফারাক কেটে যায়।

খ্রিস্টান ধর্মেও পরবর্তীতে হ্যালোইন উৎসবের প্রভাব পড়ে। বিশ্বব্যাপী ০১ নভেম্বরকে ‘অল সেইন্টস ডে’ ঘোষণা করা হয় ও এর আগের সন্ধ্যা মানে ৩১ অক্টোবরকে ‘অল-হ্যালোস-ইভ’ বা হ্যালোইন হিসেবে পালন করা হয়।

আমেরিকায় জাতীয়ভাবে হ্যালোইন ডে পালিত হতে থাকে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ভাগে। সময়ের সাথে আমেরিকায় হ্যালোইন ডে’র আনুষ্ঠানিকতা বাড়তে থাকে। পরে দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। এদিন সবাই ভূতের সাজে নিজেকে সাজায়। অনেকের মতে, এসময় সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যায় বিদেহী আত্মারাও।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker