ছুটিহোমপেজ স্লাইড ছবি

নির্জনতার আনন্দ উপভোগ করুন সোনাদিয়া দ্বীপে

মৃন্ময়ী মোহনা: দ্বীপের নাম সোনাদিয়া। এ যেন নয় বর্গকিলোমিটারের এক স্বর্ণেরই টুকরো। এই এক দ্বীপেই পাওয়া যায় একসাথে সুন্দরবন, নিঝুম দ্বীপ আর সেন্টমার্টিনের অনুভূতি। কক্সবাজারের খুব কাছে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও খুব একটা পরিচিত হয়ে ওঠেনি এ জায়গাটি। আর এ কারনেই যারা নিরিবিলিতে প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য সোনাদিয়া দ্বীপ অদ্বিতীয়।

সোনাদিয়ার বহুমুখী সৌন্দর্য: ছোট্ট এ দ্বীপে মাত্র ২০০০-২৫০০ জন লোকের বসবাস। নেই কোনো আধুনিক যানবাহন।পুরো দ্বীপ ঘুরে বেড়ানোর উপায় একটিই! তা হল পদব্রজে ভ্রমণ। নির্জন সমুদ্রের তীর ধরে হাঁটতে লাগলে মনে হবে চলে গেছেন এক অন্য ভূবনে। বালুকাবেলায় ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার কাঁকড়াই তখন আপনার একমাত্র সঙ্গী! দ্বীপের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ছোটো ছোটো নীলজলের খালের সমারোহ। ছোটো ইঞ্জিন নৌকায় সেই খাল দিয়ে, ঝোপঝাড় পার হয়ে চলে যাওয়া যায় বনের ভেতর। সাথে বক, পানকৌড়ি সহ আরও নানাজাতের পাখির উপস্থিতি ভ্রমণকে দিতে পারে নতুন মাত্রা।

সাগরতীরে ক্যাম্পিং করার সুযোগও রয়েছে সোনাদিয়ায়। তাবুঁতে থেকে, বারবিকিউ করে কাটিয়ে দেওয়া যায় পুরো রাত। সবুজ বন, নির্জন সাগরতীর, মাছের ঘের, শুঁটকি মাছের সারি, লবণ চাষ, ছোটো ছোটো খালে সাঁতার কেটে ভেসে বেড়ানোর সুযোগ…কী নেই এখানে! অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত দ্বীপটি সব’চে সুন্দর রূপ ধারণ করে থাকে।

কীভাবে যাবেন: কক্সবাজার শহরের যেকোন স্থান থেকে ‘৬নং ঘাট’। এখান থেকে ছাড়া স্পিডবোট বা ট্রলারে সরাসরি সোনাদিয়া দ্বীপে যাওয়া যায়। ভাড়া ১৫০০-২০০০ টাকা। এছাড়া সড়কপথে চকরিয়া হয়েও সোনাদ্বীপ আসা যায়। তবে সেক্ষেত্রে খরচ ও সময় বেশি লাগার পাশাপাশি জলপথের সৌন্দর্যও উপভোগ করা সম্ভব হয় না। নদী, সাগর, বন আর গ্রামীন জীবনের মাঝে হারিয়ে যেতে ঘুরে আসুন সোনাদিয়া দ্বীপ।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker