ছুটিহোমপেজ স্লাইড ছবি

সূর্যোদয়ের দেশে

খালেদ আব্দুল্লাহ: ঘুরে এলাম সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। ছোটবেলায় আমাদের পড়ানো হতো সূর্যোদয়ের দেশ জাপান যা নিপ্পন নামেও পরিচিত। তখন বুঝতাম না কোনো জাপানকে সূর্যোদয়ের দেশ বলা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস পড়তে গিয়ে স্বচক্ষে জাপান দেখার প্রবল আগ্রহ তৈরী হয়। অনেক দিন যাবো যাবো করে যাওয়া হয়ে উঠছিলো না। অবশেষে নিজ অফিসে বলে ১০ দিনের ছুটি ম্যানেজ করে ফেললাম।

ভিসা: ভিসার জন্য চলে গেলাম জাপানের ঢাকাস্থ দূতাবাসে। জাপানি দূতাবাসের ওয়েবসাইটে উল্লেখিত সকল ডকুমেন্টস প্রস্তুত করে সকালে সরকারি দূতাবাসে চলে গেলাম। ৩০ মিনিটের মতো অপেক্ষা করার পর ভিতরে ঢুকতে পারলাম। সকল ডকুমেন্টস ওরা অরজিন্যাল কপি সহ ফটোকপি জমা রাখলো। ৫ কর্মদিবসের পর পাসপোর্ট কালেক্ট করার জন্য একটা রশিদ আমাকে প্রদান করলো। রশিদে উল্লেখিত তারিখে গিয়ে ভিসা সহ পাসপোর্ট এবং অরজিন্যাল ডকুমেন্ট যেগুলা জমা রেখেছিলো সেগুলো নিয়ে আসলাম। খুব ভালো লাগলো দেখে যে অন্যান্য দেশ যেইখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছ থেকে ভিসা ফী বাবদ ব্যাপক অর্থ আদায় করে, সেখানে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য জাপান কোনো ভিসা ফি আদায় করে না।

যাত্রা: সিংগাপুর এয়ারলাইনস এর বিশেষ অফারে মাত্র ১৯ হাজার টাকাতে ঢাকা – সিঙ্গাপুরে – ঢাকা টিকেট করে ফেললাম। বাংলাদেশ থেকে জাপানের প্লেন ফেয়ার অনেক বেশি হলেও সিঙ্গাপুর থেকে বেশ কম ছিল। সিঙ্গাপুর থেকে টোকিওর টিকেট করে ফেললাম। ২৫ হাজারের একটু বেশি দাম এসেছিলো। টোকিওতে ২টি এয়ারপোর্ট রয়েছে নারিতা এবং হানেদা। আমরা নেমেছিলাম নারিতা এয়ারপোর্টে। নারিতা এয়ারপোর্ট টোকিও শহর থেকে অনেক দূরে। তিন ভাবে নারিতা এয়ারপোর্ট থেকে টোকিও সিটিতে যাওয়া যায়। ১। নারিতা এক্সপ্রেস ২। লোকাল ট্রেন ৩। লিমোজিন বাস

লোকাল ট্রেন সবচেয়ে সস্তা মাধ্যম। কিন্তু আমরা অনেক ক্লান্ত ছিলাম এবং সকাল বেলার টোকিওর বিখ্যাত Rush Hour এর ভীড়ের কথা চিন্তা করে আমরা লোকাল ট্রেন বাদ দিয়ে নারিতা এক্সপ্রেস ট্রেন নিলাম। ১ ঘন্টা ৩০ মিনিটের ট্রেন রাইড খরচ প্রায় ৩২০০ ইয়েন।

যেমন দেখলাম যাপান: প্রথম ২ দিন আমাদের প্ল্যান ছিল টোকিওর নিকটবর্তী গ্রাম Hakone তে অবস্থান করার। Shinjuku স্টেশন থেকে ২ দিন মেয়াদের Hakone Free Pass কিনে নিলাম। ৩ বার ট্রেন পরিবর্তন করে অবশেষে পৌঁছে গেলাম মাউন্ট ফুজির পাদদেশে অবস্থিত Hakone গ্রামে যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৪২৫ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। Traditional Japanese Ryokan এক্সপেরিয়েন্স করার ইচ্ছা ছিল তাই আগেভাগেই বুক করে রেখেছিলাম। রুমের ফ্লোর ছিল Tatami Mat এর যেইখানে Futon Bed নিজেদেরকে বিছিয়ে নিয়ে হতো। Futon Bed অনেক আরামদায়ক। জাপানে Ryokan এ ওরা traditional japanese আরামদায়ক জামা yukuta বিনামূল্যে ব্যবহার করার জন্য প্রদান করে। গুগল ম্যাপ use করে বাস এবং ট্রেনের তথ্য নিয়ে পুরো Hakone ঘুরে দেখলাম।

কোনো আলাদা চার্জ প্রদান করতে হয় নাই যেহেতু আমাদের Hakone Free Pass ছিল। Volcanic Eruption এর জন্য Ōwakudani বন্ধ ছিল তাই চলে গেলাম বিখ্যাত Hakone Tori Gate এ। Hakone Tori Gate এতো বেশি বিখ্যাত যে ছবি তোলার জন্য প্রায় ৪০ মিনিটের লম্বা লাইনে থাকতে হলো। Hakone ভ্রমণ শেষ করে ফিরে এলাম টোকিও। টোকিওতে APA Hotel চেইন অনেক জনপ্রিয় এবং affordable। আমরাও উঠলাম APA হোটেলে। অসাধারণ একটা হোটেল। এতো কম জায়গার মধ্যে এতো modern এবং এতো ভালো চিন্তা করা যায় না।

টোকিওতে ট্রেন ভ্রমণ করার জন্য প্রিপেইড কার্ড নিয়ে নিলাম। ২ রকম কার্ড পাওয়া যায়। ১। Pasmo ২। Suica ২টি কার্ড এর functionality একই। যে কোনো একটা নিলেই হবে। একই কার্ড দিয়ে বাস অথবা ট্রেনে ভ্রমণ করা যায়। এছাড়া ভেন্ডিং মেশিন অথবা মুদি দোকান থেকে কেনাকাটাও করা যায়।

টোকিওর দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আমরা Sensō-ji, Tokyo Skytree, Tokyo Station, Gōtokuji Temple, Tokyo Tower, Takeshita Street, Tokyo Metropolitan Government Building এবং আরো অনেক জায়গাতে ভ্রমণ করেছি যা পরে কোনো একদিন আবার বিস্তারিত লিখবো। জাপানের সবচেয়ে অসাধারণ অভিজ্ঞতা হচ্ছে ওদের পরিচ্ছন্নতা। সব জায়গা একদম চোখ ধাধাঁনো পরিছন্ন। চেষ্টা করলে আমরাও পারি আমাদের আশে পাশের পরিবেশটাকে পরিছন্ন রাখতে। আপনাকে এবং আমাকে দিয়েই শুরু হোক পরিছন্ন রাখার প্রয়াস।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker