ছুটিহোমপেজ স্লাইড ছবি

যে ১৫ টি কারণে আপনার ভুটান বেড়াতে যাওয়া উচিত!

পার্ল ম্যাথিউ: বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত হিমালয় পর্বতমালায় ঘেরা ছোট্ট দেশ ভুটান। ভুটানের নাম উঠতেই তার সাথে চলে আসে ভুটানের অর্জন করে নেওয়া অনেকগুলো উপাধি, “সুখী মানুষের দেশ, একমাত্র কার্বন-ডাই-অক্সাইড নেগেটিভ দেশ, ল্যান্ড অফ থান্ডার ড্রাগন” এ ধরনের অনেক নাম আছে তাদের সাথে। অপার্থিব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সহজ ও উন্নত যোগাযোগ ও হোটেল ব্যবস্থা, স্থানীয় মানুষদের পর্যটকদের প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব, উন্নত পর্যটন অবকাঠামো, সব মিলিয়ে ভুটান পৃথিবীর সেরা ট্রাভেল ডেস্টিনেশন গুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকায় নিয়মিত ই স্থান পেয়েছে।

এক্ষেত্রে একটি বিষয় অবশ্যই উল্লেখ্য যে, কেবলমাত্র বাংলাদেশে মালদ্বীপ এবং ভারত ছাড়া পৃথিবীর প্রতিটা দেশকেই ভুটান ভ্রমণের ক্ষেত্রে করতে হয় দিন প্রতি 250 ডলার। এত ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও তারা বারবার ছুটে যায় ভুটানের দিকে। আমাদের বাংলাদেশী পর্যটকদের সবসময় মনোভাব থাকে, কত কম খরচে কম সময়ে একটা জায়গা ঘুরে আসা যায়, আর বিভিন্ন ট্রাভেল ব্লগ আট হাজার, দশ হাজার টাকায় ভুটান ভ্রমণের আর্টিকেল পড়ে তাদের মধ্যেও এমন ধারণা তৈরি হয়ে গেছে যে কম খরচে কোনরকমে থিম্পু পারো আর ফুন্টসলিং ঘুরে আসলেই বুঝি ভুটান দেখা হয়ে গেল। এক্ষেত্রে তারা থিম্পু এবং পার এর কিছু মন্দির দেখে কেউ কেউ আশাহত হন। তাই প্রকৃতভাবে ভুটান কে দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে আরও গভীরে, কেবলমাত্র থিম্পু পারো নয় বুমথাং, ফোবজিকা, হা ভ্যালি, ট্রংসা, গাসা এসব আর এক্সপ্লোরড জায়গাগুলোতে। আজকে আমরা উল্লেখ করব সেরা কয়েকটি কারণ যে যত আপনি আপনার ভ্রমণ তালিকায় অবশ্যই ভুটানকে রাখবেন।

১. আমাদের দেশের সবচেয়ে কাছে যে তিনটি দেশে সহজে ভ্রমণ করা যায়, তারমধ্যে ভারতের পরেই ভুটান দ্বিতীয়। বিমানে গেলে ভুটানে কোন ভিসার ঝামেলা নেই, শুধু পাসপোর্ট থাকলেই প্লেনের টিকিট কেটে সরাসরি চলে যেতে পারবেন। বাই রোড ভুটান ভ্রমনের ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসা নিতে হয়, যা পাওয়া ইন্ডিয়ান ভিসার মতোই সহজ।

২. খরচের দিক দিয়ে ভারতে ভ্রমণের মতই ন্যূনতম আট হাজার রুপি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পঁচিশ হাজার রুপির মধ্যে অসাধারণ একটি ট্যুর সম্পন্ন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে বিমানে গেলে খরচ কিছুটা বেশি কারণ বিমান ভাড়া জনপ্রতি ২৪ হাজার টাকা।

৩. সুইজারল্যান্ডের সৌন্দর্য বলতে আমরা যা বুঝি যেমন সুউচ্চ পর্বত, পাহাড়ি আঁকাবাঁকা খরস্রোতা নদী, পাইন গাছের বনে আবৃত্ত বিস্তৃত উপত্যকা, সুবিশাল পাহাড়ি ঝরনা, বরফে আবৃত পাহাড়ের চূড়া। ভুটানে এগুলোর সবই পাবেন, বিশেষ করে ফোবজীকা এর গাঙতে গেলে আপনি নিজেই কনফিউজড হয়ে যাবেন যে আপনি কি নিউজিল্যান্ডে নাকি সুইজারল্যান্ডে নাকি কাশ্মীরে। এছাড়া ভুটানে আছে তিনটি সুউচ্চ পাস যার একটি উচ্চতা তের হাজার ফিট যার নাম চেলেলা পাস। ভুটানের প্রতিটি শহর একেকটি ভ্যালিতে অবস্থিত, আর ভুটানের প্রতিটি ভ্যালি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, প্রতিটি বাড়ির সৌন্দর্য একটি থেকে আরেকটি আলাদা।

৪. যারা আর্কিটেকচারাল স্ট্রাকচার বা হেরিটেজ সাইট পছন্দ করেন তাদের জন্য নিঃসন্দেহে ভুটান একটি পছন্দের জায়গা হবে। ভুটান তাদের তিব্বতীয় কালচারের আদলে তৈরি করে রেখেছে অসংখ্য সুন্দর পুরাকীর্তি। এগুলোর কোনো কোনটি শত শত বছরের পুরনো। এক্ষেত্রে সবার আগেই বলে রাখতে হবে টাইগার নেস্ট এর নাম, মাটি থেকে সাড়ে দশ হাজার ফিট উচ্চতায় পাহাড়ের একদম গা ঘেঁষে বাড়ানো এক বিস্ময় মন্দির এই টাইগার নেস্ট। এছাড়া প্রতিটা শহরের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে একটি করে জং, জঙ্গল ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু, প্রতিটি জমি আছে নান্দনিক শিল্পের ছোঁয়া। শুধুমাত্র তাই নয় ওদের প্রতিটি বাড়ি প্রতিটি অফিস দোকান সবকিছুই একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে তৈরি করা হয় যা তাদের তিব্বতীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করে। এছাড়া তাদের আছে বুদ্ধা পয়েন্ট নামের বিশাল এক বুদ্ধ প্রতিমা স্বর্ণ এবং পিতলের সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি। পুনাখা তে রয়েছে সাসপেনশন ব্রিজ, এছাড়াও ভুটানের প্রায় প্রতিটি শহরে নদীর উপরে দেখতে পাবেন অসংখ্য রঙিন কাপড়ে মোড়ানো একেকটি সাসপেনশন ব্রিজ। যারা রং বা আঁকি-বুকি পছন্দ করেন তারা মুগ্ধ হবেন ভুটানের দেয়ালে দেয়ালে তাদের একে রাখার বিভিন্ন আলপনা টেরাকোটা বিভিন্ন দেবদেবীর ছবি আর চারিদিকে রংবেরঙের প্রেয়ার ফ্ল্যাগ দেখে।

৫. সম্পূর্ণ অর্গানিক খাদ্য খাবার জন্য বিশ্ব দেবতার আমাদের জন্য সহজতম উপায়। ভুটানের প্রতিটি শাকসবজি প্রাকৃতিক ভাবে চাষ করা হয় তাই এদের শাকসবজি খেতে যেমন সুস্বাদু আর তেমনই ফ্রেশ। ওদের লোকাল খাবার গুলো লক্ষ্য করলে দেখবেন বেশিভাগই ভেজিটেবল আইটেম। এই খাবারগুলো আপনার জিভে নতুন স্বাদ এনে দিবে।

৬. স্বল্প খরচে বিদেশ ভ্রমণ বলতে আমাদের প্রথম পছন্দ ভারত কিন্তু ভারত দেখতে অনেকটাই আমাদের বাংলাদেশের মতো এবং তাদের ঘরবাড়ি এবং স্থানীয় মানুষদের চেহারাও আমাদের মতই, তাই ভারত ভ্রমণ করলে বিদেশ ভ্রমণে গেছি এরকম অনুভূতি হয় না, সেক্ষেত্রে ভুটান গেলে আপনাদের চারিদিকের সবকিছু দেখেই মনে হবে যে আপনি ভিন্ন একটি দেশে চলে এসেছেন কারণ ওদের সব কিছুতে আছে নিজস্বতা।

৭. ভুটানে জনসংখ্যা আছে সব মিলিয়ে মাত্র ৭ লক্ষ। তাই যারা নিরিবিলি পরিবেশে ভ্রমণ করতে চাচ্ছেন যেখানে হট্টগোল হৈচৈ নেই কোন মানুষ আপনাকে বিরক্ত করবে না সে ক্ষেত্রে ভুটান অবশ্যই যেতে পারেন। বাংলাদেশ এবং ভারতের টুরিস্ট স্পট গুলোর একটি বড় সমস্যা হকার এবং ভিক্ষুক সমস্যা। কখনো কখনো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের মন মানসিকতা নষ্ট করে দেয় এসব লোক। এছাড়া বিভিন্ন পদে পদে দালাল এবং ঠকবাজ ব্যবসায়ী আপনার ভ্রমণকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। ভুটানে কোথাও আপনি এই ধরনের বিরক্তিকর হকার তো দেখতে পাবেন নাই আর ভিক্ষুক দেখাও অসম্ভব। এখানে পাবেন না কোন দালাল বা ঠকবাজ ব্যবসায়ী। আপনি কোন টুরিস্ট স্পট এ বসে যখন উপভোগ করবেন কেউই আপনাকে কোন বিরক্ত করবে না।

৮. সম্পূর্ণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটি দেশ, যেখানে রাস্তায় নেই কোন ধরনের যানজট, আর প্রতিটি মানুষ রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করে। শহরে এত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং শৃঙ্খলা পূর্ণ ট্রাফিক ব্যবস্থা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। এছাড়া ভুটান ভ্রমনের অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় এদের পাহাড়ি হাইওয়ে ধরে লং ড্রাইভ। একদম পাহাড়ের গা ঘেঁষে বানানো আঁকাবাঁকা রাস্তা গুলো কখনো কখনো আপনার মনে ভয়ের সঞ্চার করবে, কিন্তু সকল ভয় নাই হয়ে যাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে, ড্রাইভ করতে করতে কখনো হারিয়ে যাবেন মেঘের আড়ালে, মেঘের আড়াল থেকে বের হয়ে দেখবেন নতুন একটি জায়গায় চলে এসেছেন। প্রতিটি রাস্তার দু’পাশে দেখতে পাবেন নাম না জানা অনেক পাহাড়ি বুনো ফুল গাছ।

৯. আপনি যে স্থানে ভ্রমণ করতে যাচ্ছেন সেই স্থানের স্থানীয় জনগণই যদি পর্যটনের প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ না হয় তবে তা পুরো ভ্রমণ করার জন্য যথেষ্ট, ভুটানের জনগণ আপনার এক্সপেক্টেশন কেউ ছাড়িয়ে যাবে তাদের ব্যবহার দিয়ে। আপনারা যে কোন ধরনের সাহায্যের জন্য স্থানীয় মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখবেন তারা কতটা আপনাকে সাহায্য করার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে। এরা কখনোই আপনাকে স্যার বা ম্যাডাম ছাড়া ডাকবে না। প্রতিটি দোকান থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্টের মালিকরাও খুব ভদ্রভাবে আপনাদের সাথে কথা বলবে। অনেকে ভুটান ভ্রমণের ক্ষেত্রে হোম স্টে করে থাকেন। স্থানীয়দের বাসায় কিছু অর্থের বিনিময় থাকার সুযোগ যাকে বলা হয়। যাদের বাসায় এভাবে থাকবেন তারা কখনো আপনাকে বুঝতে দিবে না যে তারা আপনার পরিবারের সদস্য নয়। ভুটানে ফার্ম হাউসে থাকার অভিজ্ঞতা যাদের আছে তাদের সাথে কথা বললেই তা বুঝতে পারবেন। এছাড়া ভুটানের মানুষ এক কথার মানুষ, এদের সাথে ভ্রমণ এর আগে আগে যে সমস্ত কথাবার্তাগুলো পাকা করে রাখবেন তারা ঠিক সেই মতোই কাজ করবে।

১০. প্রকৃতির একদম কচি আর টাটকা স্বাদ পাওয়ার জন্য আপনাকে জীবনে অবশ্যই একবার ভুটানে যেতেই হবে, কারণ ভুটান তাদের দেশটাকে রেখেছে সম্পূর্ণ একদম অরগানিক ভাবে একদম প্রকৃতি তাদের যেভাবে রেখেছে। ভারত বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর অনেক দেশ এর ট্রাভেল দেস্টিনেশন গুলো দেখা যাচ্ছে তাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছে, ঘন জনবসতি গড়ে উঠছে প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ভুটানের একদিকে জনসংখ্যা কম, আর তাদের দেশে প্রাকৃতিক গহীন অঞ্চল গুলো লোকালয় থেকে অনেক দূরে এমনকি তাদের শহর-উপশহর গুলো কেউ তারা রেখেছে একদম অর্গানিক স্টাইলে, তাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন নষ্ট না হয় এজন্য তাদের দেশে অনুমোদন দেওয়া হয়নি কোন রেলপথের। তাই প্রকৃতিকে প্রকৃতির মতো উপভোগ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই আসতে হবে ভুটানে।

১১. যারা নাইট লাইফ পছন্দ করেন তারা অনেকেই থাইল্যান্ড গিয়ে থাকেন। কিন্তু থাইল্যান্ডের মত না হলেও ভুটানের আছে ওদের নিজস্ব স্টাইলের নাইট লাইফ। এখানে প্রতিটি শহরেই আপনি পাবেন মিউজিক ক্যাফে, ক্যারাওকে , ডিস্কো, বার, ক্যাসিনো এই ধরনের নানা আয়োজন। যেগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় ব্যাপক লোকসমাগম। সবচেয়ে যে জিনিসটা আপনার ভালো লাগবে যে এসব স্থানে গেলে আপনি যাদেরকে দেখতে পাবেন তারা ব্যাপক সভ্য এবং নানা দেশ থেকে আসা পর্যটকও আছেন।

১২. বাই রোডে ভুটান ভ্রমণের ক্ষেত্রে আপনারা পাচ্ছেন দুটি দেশের ভিসার সিল। যা আপনার পাসপোর্ট এর মূল্য বৃদ্ধি করবে।

১৩. ভুটানের চারটি ঋতু চারটি আলাদা রং এর। কখনো সবুজ, কখনো ফুলে ফুলে আবৃত, কখনো শুকনো পাতার লালচে ভুটান, কখনো বরফে ঢাকা একদম ধবধবে সাদা। তাই বছরের যেকোনো সময় আপনারা ভুটান ভ্রমণ করতে পারেন।

১৪. ভুটানের প্রাণী হত্যা সম্পূর্ণ রকমের নিষেধ, তাই ভুটানে অনেক সহজেই দেখতে পারবেন বিরল প্রজাতির নানা রকমের জীবজন্তু আর হরেক রকমের রংবেরঙের পাখি। এর মধ্যে সবার আগেই বলতে হবে ব্ল্যাক নেক ক্রেন পাখির নাম। বিরল প্রজাতির এই সুন্দর পাখিটি এই ভুটান এই পাওয়া যায়। এছাড়া ভোটারের স্থানীয় লোকাল কুকুর গুলো এতটাই লোমশ যে দেখলে মনে হবে সাইবেরিয়ান কুকুর। আমি মূলত ব্যক্তিগতভাবে পশুপাখি খুব পছন্দ করি তাই এই পয়েন্টটা উল্লেখ করলাম।

১৫. সর্বশেষ পয়েন্ট সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট পয়েন্ট আর তা হচ্ছে নিরাপত্তার বিষয়। অন্ততপক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আমি বলব ভুটান সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। আপনি শিশু হন বা বৃদ্ধ হন নারী বা পুরুষ যাই হন নিশ্চিন্তে আপনি ভুটান ভ্রমণে আসতে পারেন, তাদের আইন-শৃংখলার যথেষ্ট কঠিন, যেকোনো সমস্যায় পুলিশের অনেক দ্রুত সহযোগিতা আপনি পাবেন। কিন্তু সত্যি বলতে আমার দীর্ঘ সময় ভুটানে থেকে যা অভিজ্ঞতা হয়েছে ,ওদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন প্রয়োজনই পড়ে না, কারণ ভুটানিজ দের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা একদমই নেই। দিন হোক রাত হোক আপনি আপনার সাথে যথেষ্ট টাকা পয়সা এবং ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে অনায়াসেই একা একা ঘুরে বেড়াতে পারবেন। এখন আপনি সিদ্ধান্ত নিন আপনি কবে ভুটান যাবেন?

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker