চলতি হাওয়াট্রেন্ডিং খবরদেশে-বিদেশেহোমপেজ স্লাইড ছবি

আমাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক

আরিফুর রহমান জুয়েল: কোন সুযোগ পেলেই আমরা অপমান অপদস্ত করতে কাউকে ছাড়ি না! শুধু তাই নয়, অপমান করার পর সবাই মিলে আবার হাসি ঠাট্টা করি! সে কষ্ট পেল কি পেল না, সেদিকে আমাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই! মানবতার ঝান্ডা উড়াই বলে বেড়ানো মানুষটা বর্ণবাদী আচরণ করে, বডি শেমিং করে, তার ট্রলের শিকার হয় মানুষজন হরহামেশাই।

এ বিষয়টি নিয়ে আসার কারন অবশ্য একটি ভিডিও। গত ১৯ শে ফেব্রুয়ারি ভিডিওটি পোস্ট করেন এক মা। ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের। ভিডিওতে দেখা যায়— একটি শিশু অঝোরে কাঁদছে। রাগে কষ্টে শরীর কাঁপছে তার। মরে যেতে চাইছে সে। শিশুটির অপরাধ সে একন্ড্রপ্লাজিয়া নামক বামন রোগে আক্রান্ত। এই শারিরীক অবস্থার জন্য সহপাঠীরা তার সঙ্গে বুলিং করে থাকে। আর এই বুলিং এর কারনে কোডিয়ান নামক নয় বছরের ছেলেটি মরে যেতে চাইছে।

কোডিয়ানের মা প্রতিদিনের মতোই নিজের সন্তানকে স্কুল থেকে আনতে যান। স্কুলে যেয়ে চোখের সামনেই সন্তানকে বুলিং হতে দেখেন তিনি। সেখান থেকে ছেলেকে গাড়িতে নিয়ে এসে বসান। তারপরেই অবতারণা ঘটে ভিডিও ফুটেজে দেখা করুণ দৃশ্যের। একটি ৯ বছরের শিশুর সহ্যশক্তিই বা কতটুকু? তার ওপর প্রতিদিন এই অস্বাভাবিক মানসিক যন্ত্রণা, কতদিন পর্যন্ত সহ্য করা যায়? কোয়াডিন নামের এই শিশুটি পারেনি নিজেকে ধরে রাখতে।

যাপিত জীবনের যন্ত্রণায় নিজেকে মেরে ফেলতে চেয়েছে। আর এই পুরো দৃশ্যগুলো তার মা নিজের মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধারণ করেছেন। মানসিক যন্ত্রণায় কাঁপছে আবার রেগে যাচ্ছে এবং একই সাথে বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছে যে বিশ্ব আসলে কাদের জন্য! বিশ্বে আসলে তাদের কোন স্থান নেই, এই ধরণী আসলে তাকে আপন করে নিতে পারছে না।
বামন তো সে ইচ্ছে করে হয়নি, তাহলে তাকে এত অপমান কেন সহ্য করতে হবে!

ভিডিওটি অনলাইনে শেয়ার করার কারণ উল্লেখ করে মায়ের বক্তব্য, এই দৃশ্য সবার দেখা উচিত। বুলিং কতটা ভয়ংকর হতে পারে সেটা জানা উচিত। নিজের সন্তানকে শেখানো প্রয়োজন যাতে অন্য কারও সাথে দুর্ব্যবহার না করে। বুলিং এর বিপক্ষে সচেতনতা গড়ে উঠুক। সবার শুভ বুদ্ধির উদিয় হোক।

দুই দিনেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ঝড় তুলেছে, ভিউ যাচ্ছে কোটির ঘরে, শেয়ার হচ্ছে লাখ লাখ। সবাই এগিয়ে আসছে, তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে, সেলিব্রেটিরা ফান্ড গঠন করছে, বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে করে আমরা কি পরিবর্তিত হবো, এক কোডিয়ানের জন্য আমরা কত কিছু করছি, অন্যদিকে হাজার হাজার কোডিয়ান বুলিংয়ের শিকার হয়ে ঠিকই পৃথিবী থেকে স্বেচ্ছায় বিদায় নিচ্ছে! নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন তো!

 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker