আলোচিত যারাচলতি হাওয়াবই Talkসাহিত্যহোমপেজ স্লাইড ছবি

এই সময়ের সাহিত্যে পৃথিবী সেরা যারা

মাহমুদুর রহমান: সম্প্রতি ঘোষিত হলো সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার ২০১৯। আর যেহেতু গত বছর সাহিত্যে নোবেল ঘোষণা করা হয়নি, তাই ’১৯ সনের সঙ্গে সঙ্গে ২০১৮ সনের নোবেল বিজয়ীর নামও এ বছর ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করলেন পিটার হান্ডকে  আর ২০১৮ সালের সাহিত্যে নোবেল লাভ করেছেন ওলগা তোকারচুক।

নোবেল ’১৯ জয়ী পিটার একজন অস্ট্রিয়ান। অ্যাকাডেমীর তরফ থেকে জানানো হয়, “ভাষাগত দক্ষতাকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতার পরিধি এবং তাঁর নির্দিষ্টতা নিয়ে তাঁর যে প্রভাবশালী কাজ, তাঁকেই সম্মানিত করা হয়েছে।

পিটার ১৯৪২ সালের ৬ ডিসেম্বর অস্ট্রিয়ার গ্রিফেনে জন্মগ্রহণ করেন। পিটার হ্যান্ডকে ও তার মা ১৯৪৪ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত অধ্যুষিত বার্লিনের পানকৌতে বসবাস করতেন। ১৯৫৪ সালের দিকে তিনি মারিয়াম বয়েজ বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুলে থাকা অবস্থায় তার লেখালেখি শুরু হয়। ‘ফ্যাকেল’ নামে তার প্রথম লেখাটি তিনি এ সময়েই লেখেন।

পড়াশোনা চলাকালীনই পিটার লেখালেখিতে মনযোগী হন। প্রথমে তিনি তরুণ লেখকদের সংঘ গ্রেজার গ্রুপে যোগ দেন। গ্রুপটি সাহিত্য বিষয়ক বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করতো। জার্মান প্রকাশনী সুহারক্যাম্প ভার্লেগ তার লেখা উপন্যাস “ডাই হর্নিজেন” প্রকাশের জন্য গ্রহণ করার পর তিনি ১৯৬৫ সালে লেখাপড়া ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে গ্রুপ ৪৭ এর একটি সভা আমেরিকার নিউ জার্সিতে তিনি তার লেখা নাটক ‘অফেন্ডিং দ্য অডিয়েন্স’ মঞ্চস্থ করে। হ্যান্ডকে চলচ্চিত্রের জন্য অসংখ্য স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পাওয়া en:Die linkshändige Frau এর পরিচালকও ছিলেন তিনি।

তাকে নিয়ে ২০১৬ সালে করিনা বেলজ পরিচালনায় পিটার হ্যান্ডকে: ইন দ্য ওডস, মাইট বি লেইট নামক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র তৈরি করেন।

ওলগা তোকারচুক একজন পোলিশ লেখক, সমাজকর্মী। তোকারচুক ১৯৬২ সালের ২৯ শে জানুয়ারি পোল্যান্ডের জিয়েলোনা গোরার নিকটবর্তী সুলেচো শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮০ সালে ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানী হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ওলগার প্রথম বই প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে। একটি কবিতা সংকলন দিয়ে তার লেখালেখির যাত্রা শুরু। ১৯৯৩ সালে তার প্রথম উপন্যাস ‘দ্য জার্নি অফ দ্য বুক পিপোল’ প্রকাশিত হয়। এর পরবর্তী সময়ে লেখা ‘ই. ই.’ এর প্রধান চরিত্র একজন নারী যে কিনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের একজন প্রতিনিধি।

ওলগা একজন সমাজকর্মী হিসেবে সমাজকে দেখেছেন খুব কাছ থেকে। তাঁর লেখায় তাই সমাজের নানা শ্রেণীর মানুষ, মানুষের মনোভাব ফুটে উঠেছে। আবার তাঁর লেখায় উঠে আসে দার্শনিক সত্য, মানুষের বিশ্বাস ইত্যাদি। তাঁর জনপ্রিয় বই ‘ফ্লাইটস’ এরকম একটি কাজ।

গত কয়েক বছর যাবত বাংলাদেশে যে কথাটি শোনা যায় তা হলো, “নোবেল বিজয়ী অপরিচিত”। প্রশ্ন আসে সত্যিই কি এলিস মুনরো, কাজুও ইশিগুরো কিংবা হ্যান্ডকে-তোকারচুকরা এতো অপরিচিত?

মূলত তারা ততোটা অপরিচিত না, যতোটা আমরা মনে করি। হ্যান্ডকে, তোকারচুকের পরিচিতি, পুরস্কারের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বহির্বিশ্বে তারা ঠিকই পরিচিত। হ্যান্ডকে পেয়েছেন ফ্রাঞ্জ কাফকা পুরস্কার, আন্তর্জাতিক ইবসেন পুরস্কার। অন্যদিকে গত বছরই তোকারচুক পেয়েছেন ম্যান বুকার পুরস্কার। তাদের লেখায়ও সম্মানিত করার মতো উপাদান আছে বলেই নোবেল কমিটি  তাদের মনোনীত করেছে।

ওঅলগা সম্পর্কে নোবেল কমিটি বলেছে, “গল্প বলার তাঁর যে ধরন, সেখানে কল্পিত জীবনের সঙ্গে বাস্তব মিলেমিশে এক বৈশ্বিক আবেগ তৈরি করে”।

নোবেল পুরস্কার পাওয়া এসব লেখক সম্পর্কে জানার পরে এটাই প্রতীয়মান হয় যে আমরা আমাদের দেশে সাহিত্যে একটা গণ্ডির মধ্যে আঁটকে আছি। সেটি পেরিয়ে আমাদেরও বিশ্বে প্রবেশ করার সময় এসেছে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker