বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৭
webmail
Sat, 29 Apr, 2017 06:17:24 PM
নতুন বার্তা ডেস্ক

ঢাকা: বাংলা ভাষায় শতাধিক বই বেরিয়েছে প্রবীণ উপন্যাসিক কাসেম বিন আবুবাকারের। কেউ কেউ তাকে বলছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকদের একজন। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হাসান আজিজুল হকের চেয়েও কাসেম বিন আবুবাকারের লেখা শক্তিশালী বলেও কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলছেন। সমালোচকরা তাকে বলছেন বটতলার উপন্যাসিক। মূলধারার বাংলা সাহিত্যের চর্চা যারা করেন, খোঁজ-খবর রাখেন, তাদের অনেকে নাকি এই লেখকের নামই শোনেননি। দেশীয় মিডিয়ায় সবসময় উপেক্ষিত ছিলেন। সম্প্রতি এএফপি তার সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন তিনি। এসব নিয়েই নতুন বার্তার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। আড্ডার চুম্বক অংশ তুলে ধরেছেন তরুণ কবি ও সাংবাদিক জিয়া হক

নতুন বার্তা:  বাংলাদেশের গণমাধ্যম আপনাকে পাত্তা দেয়নি কিন্তু হঠাৎ করেই এএফপি কেন আপনাকে নিয়ে এত লম্বা স্টোরি করলো? এখন বইমেলার সময় নয়, ইসলামি কোনো উৎসবের উপলক্ষ্য নয়, আপনার জন্মদিনও নয়; তাহলে এখন কেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: কারো সাথে যোগাযোগ হয়নি। হঠাৎ করেই হয়েছে। কেন যে হলো বুঝতে পারছি না। তারা এসেছে। ফোন করেছে। কথা বলেছে। এর কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে এটা আমার জন্য সৌভাগ্য। কিছুটা আনন্দ দিচ্ছে আমাকে। একটা দুঃখ আরো আগে হলে আমি কিছু লিখেতে পারতাম। তবে যারা ইসলামী চিন্তাধারার তারা আগেও চেষ্টা করেছে আমাকে মিডিয়ায় নিয়ে যেতে। আমি ইচ্ছা করেই যাইনি। আমি তো নাম-যশ-খ্যাতি চাই না।

নতুন বার্তা: তার মানে আপনি মিডিয়ার সামনে যেতে চাননি?

কাসেম বিন আবুবাকার: না চাইনি। আমি মিডিয়ায় যেতে চাই না। ঝামেলা হবে মনে করে। ইচ্ছা করেই যাইনি। অনেকে বলেছে মিডিয়ার কাছে যান, সবাই আপনাকে জানবে। তবুও আমি মিডিয়ার ধার ধারিনি।

নতুন বার্তা: লেখালেখির ক্ষেত্রে কখনো বাণিজ্যের চিন্তা মাথায় এসেছে?

কাসেম বিন আবুবাকার: না। কখনোই আসেনি।

নতুন বার্তা: কোনো অতৃপ্তি আছে আপনার?

কাসেম বিন আবুবাকার: না না না। কোনো অতৃপ্তি নেই। আমি জীবনে যা চেয়েছি তারচেয়ে অনেক বেশি আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। আমি পরিতৃপ্ত।

নতুন বার্তা: আপনি পাঠকের ভালোবাসা পেয়েছেন নাকি নিন্দাও?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমার ভক্তের সংখ্যাই বেশি। শত্রু নাই। আমি বহু বড় বড় আলেম ও মুফতিকে আমার বই দিয়েছি। তারা কোনোদিন বলেননি আপনার বইতে ভুল আছে। তাই আমি ভালোবাসাই পেয়েছি।

নতুন বার্তা: উপন্যাসের কোন বিষয়টি আপনার কাছে বিরক্তির মনে হয়? যেটা ঠিক সমাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য নয় বলে আপনি মনে করেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: না এমন কিছু কখনো মনে হয়নি।

নতুন বার্তা: আপনার লেখায় বাঙালি সংস্কৃতির অভাব স্পষ্ট। যেটার সঙ্গে আপনার লেখা সাংঘর্ষিক, এর কী ব্যাখ্যা দেবেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: জি, বাঙালি সংস্কৃতির অভাব। এটা ইসলামের বাইরে। ইসলাম সীমা বেধে দিয়েছে। সব করা যাবে না। তাই এমনটা মনে হচ্ছে। ইসলাম বলে দিয়েছে, এর বাইরে তুমি যেও না।

নতুন বার্তা: ‘শফিক বিসমিল্লাহ বলে শফিকুনের ঠোঁটে কিস করা শুরু করলো’, ‘আপনি শরিফ ঘরের মেয়ে। আপনার জন্য আল্লাহপাক আমাকে কবুল করুন। আমিন’, ‘সুবাহানাল্লাহ। ‘রফিকুন বোরখা পরে ডেটিং-এ যায়। কারণ বোরখা ছাড়া ডেটিং নাজায়েজ’ এভাবেই আপনি যৌনতাকে হালাল করেন বলে অভিযোগ। আপনার মতামত?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমি এমনটা করেছি। উপন্যাসের ছাঁচে লেখা হয়েছে বলেই উপন্যাসের কিছু রস চলে এসেছে। এটা অস্বীকার করা যাবে না।

নতুন বার্তা: আগামী প্রজন্মের কাছে কী হিসেবে চিহ্নিত হতে আপনার ভালো লাগবে?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমার পাঠকরাই বই পড়ে সেটা বুঝতে পারবে। আমি চেয়েছি এই দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা, দেশের মানুষ চরিত্রবান হোক। একজন শিক্ষিত লোক কেন অসৎ কাজ করছে? বাজে কথা বলবে? এটাই আমি ভেবেছি। মানুষ কেন চরিত্রহীন কাজ করবে? তাই আমি সবার জন্য লিখেছি। আমার বই পড়ে একজন চাকরও যেন বলে আমার তো এমন হওয়া উচিৎ ছিল, কেন আমি খারাপ হচ্ছি? বিবেককে নাড়া দেয়ার জন্য লিখেছি। আদর্শ শিক্ষক, আদর্শ মা, আদর্শ বাবা না হলে আদর্শ ছেলে-মেয়ে হবে না। নেপোলিয়নের কথাটা মনে করেন…।

নতুন বার্তা: আপনার পাঠক কারা?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমি মেয়েদের জন্যই লিখেছি। মেয়েরাই আমার ৬০% পাঠক।

নতুন বার্তা: পাঠক সৃষ্টির জন্য কিছু করেছেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমি শুধুই লিখেছি। পাবলিসিটির জন্য আমি একটা পয়সাও খরচ করিনি। এমনকি আমার ৫০টা বই করার পর আমার প্রকাশক চাইলো একটা অনুষ্ঠান করবে। বড় বড় লেখক আসবে। আমার সম্পর্কে বলবে। যখন শুনলাম টাকা লাগবে তখন আমি রাজি হইনি। কেউ টাকা দিলেও নিতাম না।

নতুন বার্তা: অনেকে আপনাকে একটা রাজনৈতিক দলের মধ্যে ফেলতে চাচ্ছেন। অশ্লীলতার অভিযোগও তুলছেন কেউ কেউ। আপনার কী মনে হয়?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমাকে তারা ভুল বুঝছে। আমি তাদের জন্য দোয়া করি, যেন ভুল ভেঙে যায়। ইসলামকে ভুল বোঝে তারা। ইসলামকে জানছেও না। আবারও বলি আমি দোয়া করি ওদের জন্য। ইসলাম ভালো না মন্দ এটা জানার জন্য পড়তে হবে। না জেনে কেন আজেবাজে কথা বলছে। প্রত্যেকটা জিনিস পড়ে যাচাই করতে হবে। আমার বই পড়ুক তারা। আমাকে জানুক। না জেনে কথা বলার কোনো যুক্তি নেই।

নতুন বার্তা: মাদরাসা পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরাই নাকি আপনার পাঠক? সম্প্রতি মাদরাসা শিক্ষাকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। জঙ্গি তৈরি করা হচ্ছে মাদরাসায়, কেউ কেউ এই অভিযোগও তুলছেন। যদিও সরকারের শীর্ষস্থানীয়রা এটা অস্বীকার করেছেন। আপনি কী বলবেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: মাদরাসা থেকে কোনো ছেলে জঙ্গি হয় না। যদি কোনো ছেলে হয়েও থাকে, সেটা মাদরাসার দোষ হবে কেন? ঢালাওভাবে মাদরাসায় দোষ দিতে পারি না আমরা।

নতুন বার্তা: আপনি দুই বছর আগে লেখালেখি ছেড়ে দিয়েছেন, কোনো ক্ষোভ থেকে কি লেখা ছেড়ে দিলেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: পরকালের চিন্তায় লেখা ছেড়েছি। জীবনে যা চেয়েছি সব-ই পেয়েছি। আর কী চাই? পরকালের পুঁজি সংগ্রহ করার জন্য লেখালেখি ছেড়ে দিয়েছি, আর কি! লেখার মধ্যে থাকলে তো ইবাদত করতে পারতাম না। রাত-দিন লিখেছি। এখন লিখলে ইবাদত করতাম কখন?

নতুন বার্তা: সাহিত্য বা উপন্যাসের জন্য গল্পটা প্রধান নাকি বর্ণনা? আপনার লেখার মান নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলে। তবে আপনার ব্যাপক পাঠক। আপনি কি লেখার মান নিয়ে ভাবেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমার উদ্দেশ্যকে ফোটানোর জন্য আমি আমার মতোই লিখি। তাই তো এখনো ‘ফুটন্ত গোলাপ’ নতুনের মতোই চলে। আমার উপন্যাস ইসলামী উপন্যাস না, ইসলামী ভাবধারায়। ইসলামকে জানার জন্য এমনটা করেছি। তবুও মানুষ ভুল করে। বলে ইসলামী উপন্যাস। ইসলামী উপন্যাস হবে কেন? ইসলামে তো প্রেম-ভালোবাসা নাই। এটা হারাম। এতটুকু অধিকার দেয়া হয়েছে, কাউকে পছন্দ হলে পারিবারিকভাবে বিবাহ করা যাবে।

নতুন বার্তা: আপনি কোথা থেকে কিভাবে উঠে আসলেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমি চাষীর ছেলে। আমি শ্রমের কাজ করে লেখাপড়া করেছি। অনেক নিম্নশ্রেণী থেকে টপ শ্রেণীতে উঠে এসেছি। তাদের সাথে মেলামেশা করেছি।

নতুন বার্তা: লেখালেখির জন্য পরিবারের থেকে বাধা পেয়েছেন কখনো?

কাসেম বিন আবুবাকার: প্রথম দিকে পেয়েছি। এজন্য আট বছর আমার কোনো বই বের হয়নি। আট বছর আমি সারাদিন পরিশ্রম করেছি। রাত ১২টায় লিখতে বসতাম। স্ত্রী খাতাপত্র ফেলে দিত। আমি ঘুমিয়ে পড়তাম। আবার গোপনে উঠে লেখা শুরু করতাম। আমার ভেতরে ছিল লেখা। কী করি বলেন! এতটুকুই বাধা পেয়েছি। তবে লেখার জন্য কেউ উৎসাহও দেয়নি। প্রকাশকরা উৎসাহ দিয়েছে মাঝে মাঝে। তারা বলেছে, আপনি লিখেন। আপনি যা লিখবেন, তাই চলবে।

নতুন বার্তা: লেখক হওয়ার ইচ্ছাটা কখন থেকে?

কাসেম বিন আবুবাকার: লিখবো লিখবো করতে করতে ১৯৭৮ সালে…। একজন মেয়ে কাস্টমার আসতো আমার দোকানে। বোরকা পরে। পর্দা করতো। আমার কাছ থেকে বই কিনতো। বহুদিনের দেখা-সাক্ষাতে একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে। মেয়েটি বিবিএর শিক্ষার্থী ছিল। ওর পরনে মোটা কাপড়ের বোরকা থাকত। পাকিস্তান আমলে সেই বোরকাকে বলা হতো ফকিরনি বোরকা। আর্থিক অবস্থা যাদের খারাপ তারাই এ  বোরকা পরত। এই বোরকা পরার কারণে অনেকেই তাকে ডাকত ‘ফকিরনি’ বলে। এক দিন বোরকার আড়ালে চোখে পড়ল, ভিতরে সে দামি পোশাক পরেছে। রীতিমতো ‘রয়েল ড্রেস’। আমরা অবাক হয়ে গেলাম। কারণ এ ধরনের দামি পোশাক আর্থিকভাবে সামর্থ্যবানরাই পরে। আমি মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলাম, ভিতরে রয়েল ড্রেস আর উপরে ফকিরনি বোরকা কেন? সে বলল, আপনি ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন? ইসলামের বিধান জানেন? ইসলাম বলেছে, বের হওয়ার সময় অনাকর্ষক পোশাক পরে বের হতে। তবে স্বামীর সামনে আকর্ষণীয় পোশাক পরতে বলেছে। মেয়েটির এ কথা আমাকে চমকে দিল। পরে তাকে ঘিরেই আমি উপন্যাস লিখতে শুরু করি। আমার প্রথম উপন্যাস ‘ফুটন্ত গোলাপ’-এর নায়িকার নামও আমি মেয়েটির নামে রাখি। আমি বলেছিলাম, এই উপন্যাস এক দিন না এক দিন সবাই গ্রহণ করবে। তা-ই সত্য হয়েছে।

নতুন বার্তা: কখনো ভেবেছেন যে আপনি লেখক হবেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমি ৪৫ বছর পর্যন্ত কোনোদিন ভাবিনি লিখবো। নিউমার্কেটের মল্লিক ব্রাদার্সে চাকরি করতাম। তখন মেডিকেল, কলেজ, ভার্সিটির ছেলে-মেয়েরা আসতো। তাদের অশালীন পোশাক ও কথাবার্তা এত নোংরা শোনাতো যে, আমি ভাবতাম শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা কেন এমন হবে? তারা শিক্ষিত, সুন্দর-শুদ্ধ ভাষায় কথা বলবে। আমার মনে আঘাত লাগতো। তখন ভাবতাম এরা ইসলামকে জানে না। ইসলাম শান্তির ধর্ম। মারামারি বন্ধ। যুদ্ধ বন্ধ। চুরি বন্ধ। আমি এটাই প্রচার করতে কলম ধরেছি। এরা যেন প্রকৃত মানুষ হয়। তারা যেন মানবধর্ম পালন করে। মানবধর্মেই তো ইসলাম।

নতুন বার্তা: আপনি লেখা দিয়ে সমাজ বদলে দিতে চেয়েছেন। সেটা কতটুকু পেয়েছেন বলে মনে করেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: হ্যাঁ। পেরেছি অনেকটা। আমার লেখা পড়ে বহু লোক নামাজ শিখেছে। রোজা শিখেছে। ধর্ম পালন শিখেছে। মানুষ হতে শিখেছে। বিশেষ করে মেয়েরা…। মেয়েরা বহু চিঠি দিত। এখনো দেয়।

নতুন বার্তা: এখন সময় কাটে কিভাবে?

কাসেম বিন আবুবাকার: নিজের লেখা বই পড়ি। নামাজ পড়ি। ইবাদত করি। আমার শখ ছিল বই পড়া। এখনো তা রয়ে গেছে।

নতুন বার্তা: আপনাকে নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন…. তাদের সম্পর্কে কিছু যদি বলতেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমি তাদের জন্য দোয়া করি। তারা আমার বই পড়ুক। বুঝুক। অহেতুক সমালোচনা করে কী হবে? এএফপি নিউজ করেছে বলেই হুলুস্থূল শুরু হয়েছে।

নতুন বার্তা: আপনার বেড়ে ওঠার সময়টা…। আপনি কেমন পরিবারে বেড়ে উঠেছেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমি ছেলেবেলা থেকেই ধার্মিক। আমার পরিবারও তাই। আমার মা-বাবা আল্লার ওলির মতো ছিলেন। আমার মা-বাবা বলেছিলেন, তোমার কাছে দেশ কিছু পাবে।

নতুন বার্তা: প্রায় ১০০ বই লিখেছেন আপনি! ‘ফুটন্ত গোলাপ’ পনেরো-বিশ লাখ কপি বিক্রি হয়েছিল বলে শুনছি! এ তথ্য কতটা সত্য? অথচ কোনো পুরস্কারও পাননি। এসব নিয়ে ভাবেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: হ্যাঁ সত্য। ‘ফুটন্ত গোলাপ’ এখনো চলে নতুনের মতো। পুরস্কার পাওয়ার লোভে বা অর্থিক উপার্জনের জন্য আমি কলম ধরিনি। আমি দেশের মানুষ ও ছেলে-মেয়েদের চরিত্রবান করার জন্য কলম ধরেছি। আমি নাম-যশের জন্য কলম ধরিনি। তাহলে আমি অনেক আগেই মিডিয়াতে যেতাম। পুরস্কারও পেয়ে যেতাম। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমি বেঁচে থাকতে হোক বা মরে গেলে হোক আমি পুরস্কার পাবো ‘ফুটন্ত গোলাপ’-এর জন্য।

নতুন বার্তা: আপনি আপনার যৌবনে সামাজিক অবক্ষয় দেখে চিন্তিত ছিলেন, এখন?

কাসেম বিন আবুবাকার: এখন তো আরো বেশি চিন্তত।

নতুন বার্তা: আপনি মূলধারার লেখক না, অনেকে এ অভিযোগ করেন। মূলধারা বলতে আপনি কী বোঝেন আসলে?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমার ‘ফুটন্ত গোলাপ’-এর ভুমিকাতেই এ কথা বলা আছে। ভূমিকা পড়লেই পাঠক বুঝতে পারবেন। সাহিত্য যেভাবে এগোচ্ছে এতে কিছু দিন পর সাহিত্যের মূলধারা পাল্টে যাবে। তাই হয়েছে। আমি এ নিয়ে কবিতাও লিখেছি।  

নতুন বার্তা: আপনি কাকে আপনার আদর্শ মনে করেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: সারা পৃথিবীতে একমাত্র হযরত মুহাম্মদ (স.)।

নতুন বার্তা: সমসাময়িক লেখকদের সাথে আপনার যোগাযোগ ছিল?

কাসেম বিন আবুবাকার: বড় বড় অনুষ্ঠানে বড়দের সাথে পরিচয় হয়েছে। যোগাযোগ কম হতো। তবে আমার যোগাযোগ ছিল পাঠকদের সঙ্গে।

নতুন বার্তা: আপনার প্রিয় লেখক কারা? কাদের বই পড়তেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমি এখানে কাউকে প্রিয় খুঁজে পাইনি। তবে সময় পার করার জন্য হুমায়ুন আহমেদ দারুণ। আমার প্রিয় লেখক বলতে ওপারে ছিল ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়। শরতের সব বই পড়েছি। বঙ্কিমের বই একটু কঠিন ভাষায় লেখা। তবে পড়েছি। ইমদাদুল হক মিলন, আল মাহমুদ, আনিসুল হকও পড়েছি

নতুন বার্তা: আপনি কারো দ্বারা প্রভাবিত হননি, আপনি আপনার মতো লিখে গেছেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমি যা বলতে চেয়েছি, সেটাই বলেছি। কে কী লিখছে, তা নিয়ে কখনো ভাবিনি। আমি আমার কাজটাই করেছি। ধরেন, তসলিমাকে সবাই খারাপ বলে। আমি খারাপের কিছু দেখি না। তিনি সমাজের ক্ষতটা দেখিয়েছেন। তবে দুঃখ এখানেই তিনি ক্ষতের প্রতিকারটা দেননি। ক্ষতে মলমটা দেননি।

নতুন বার্তা: পুরস্কার ও স্বীকৃতি নিয়ে কখনো ভাবেন না?

কাসেম বিন আবুবাকার: অনেকে ‘অখাদ্য’ লিখেও বাংলা একাডেমি পেয়ে গেছে। অথচ আমি এখনো বাংলা একাডেমির সাধারণ সদস্য।

নতুন বার্তা: উপন্যাস ছাড়া আর কিছু লিখেছেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমি অনেক কবিতা লিখেছি তবে সেগুলো আলোর মুখ দেখেনি।

নতুন বার্তা: আপনার সেরা উপন্যাস কোনটি?

কাসেম বিন আবুবাকার: ফুটন্ত গোলাপ, বিদায় বেলায়, ক্রন্দসী প্রিয়া, সংসার সুখের হয় রমনীর গুণে। এখন মনে নেই সব।

নতুন বার্তা: আপনাকে অনেকে বটতলার উপন্যাসিকও বলেন, এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী? আবার কেউ কেউ আখতারুজ্জমান ইলিয়াস, হাসান আজিজুল হকের চেয়ে আপনার লেখা শক্তিশালী বলে মনে করেন, আপনি কী বলেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমি ওসব নিয়ে চিন্তা করি না। নিজের লেখার মান নিয়ে ভাবি না। শরৎ, বঙ্কিমসহ বড় বড় সব লেখকের লেখা পড়েছি। আমার মনে হয় তাদের তুলনায় সাহিত্যের অলঙ্কার আমারটা কিছুটা নিম্নমানের। আমারটা আমি বড় মনে করি না।

নতুন বার্তা: লেখা-পড়া করেছেন কোথায়?

কাসেম বিন আবুবাকার: কোলকাতায় লেখাপড়া করেছি। যেহেতু আমার জন্ম ইন্ডিয়ায়। স্কুল ফাইনাল পাস করেছি। তখন পি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল সেখানে এক বছর পড়েছি। কিন্তু পরীক্ষা দিতে পারিনি।

নতুন বার্তা: আপনি যদি যৌবন ও লেখনি শক্তি ফিরে পেতেন, কী করতেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: পরপারের চিন্তায় ধরেছে। লেখালেখি করবো না। তবে আত্মজীবনী লেখার ইচ্ছা আছে। কিছুটা লিখেছিও।

নতুন বার্তা: ইসলামকে কিভাবে দেখেন?  ইসলাম একটা মতবাদ নাকি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা?

কাসেম বিন আবুবাকার: ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা তাতে সন্দেহ নেই। আমি ইসলাম ধর্ম পালন করি। আমার লেখা উপন্যাসেও এর ছাপ আছে।

নতুন বার্তা: আপনি ব্যক্তিগতভাবে ইসলামকে কিভাবে পালন করেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমি ছেলেবেলা থেকেই নামাজ-রোজা করি। ছেলেবেলায় রোজা থেকে অজ্ঞানও হয়ে গেছি। তখন আমার মাথায় পানি ঢালতে হয়েছে।

নতুন বার্তা: উপন্যাস দিয়ে কী চেয়েছিলেন? যুবশক্তির কাছে ইসলাম যা চায় তার সঙ্গে আপনার লেখনির চাওয়ার ব্যবধান আছে কি?

কাসেম বিন আবুবাকার: উপন্যাস দিয়ে আমি মূলত মানুষের চরিত্রকে বদলে দিতে চেয়েছি। ব্যবধান তো আছেই।

নতুন বার্তা: চরিত্র ও নীতির কাছে অনেক সময় উপন্যাসের চরিত্র হেরে যায়, আপনি এটাকে কিভাবে দেখেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: আমি কখনো আপস করিনি। আমি আমার চরিত্রে অটল থেকেছি। ছোটবেলায় একজন একটা অপকর্ম করেছিল। সবাই বলেছে এটা চেপে যাও। আমি বলেছি, না এর বিচার হতে হবে। যেহেতু আমরা মুসলামন।অনেক বড় বড় লোক বলেছে, তুমি ছোট মানুষ। তোমার এসব ভাবা দরকার নাই। তবুও আমি আপস করিনি। ছেলেবেলা থেকেই আমি প্রতিবাদী ছিলাম।

নতুন বার্তা: কখনো প্রেম করেছেন?

কাসেম বিন আবুবাকার: প্রেমটা ছিল একমুখী। মেয়েরা দলে দলে আমার কাছে আসতো। আমাকে ভালোবাসতো।

নতুন বার্তা: আপনাকে ধন্যবাদ।

কাসেম বিন আবুবাকার: আপনাদেরও ধন্যবাদ। আমার জন্য দোয়া করবেন।

নতুন বার্তা/টিটি
 


Print
আরো খবর
সর্বশেষ সংবাদ


শিরোনাম
Top