মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮
Thu, 24 May, 2018 11:00:47 PM
ফাহমিদা খানম।
 
এই দুনিয়ায় সবচেয়ে কঠিন কাজ মনে হয় মানুষ চেনা। আমিতো দেখি বেশীরভাগ মানুষের ভিতর আর বাহির এক নয়। ব্যাপারটা এমন হয়ে গেছে আমার মতে মিল না হলেই তুমি আর আমার বন্ধু থাকছো না। আমার পছন্দ-অপছন্দের যে দাম দিবেনা- সে আবার বন্ধু থাকে কি করে?
 
আগে ভুল করলে বন্ধুরাই শুধরে দিতো আর এখন! দিন আসলেই বদলাইয়া গেছে। বন্ধুত্বের সংজ্ঞাও পালটেছে।
 
আমাদের মন মানসিকতা, আমাদের রুচিবোধ সব পালটে গেছে। জোর করে কি বন্ধুত্ব টেকানো সম্ভবপর! একবার ছিঁড়ে গেলে দুনিয়ার সব সুতো দিয়েও তা রিপু করা যায়না। চোখের সামনে বন্ধু ভুল করুক, পচা শামুকে পা কাটুক তবুও তাকে বলা যাবেনা- বন্ধুত্ব কি এতোই হাল্কা?!
 
আজকাল মনে হয় সুন্দর মন আর বন্ধুর ভুল ধরাই ভুল। একেকজন বন্ধু কয়টা মুখোশের চাদরে নিজেকে লুকিয়ে রাখে সেটাও বোঝা মুস্কিল। সবাই নিজের ভিতরেই অচেনা অবিশ্বাসের পোকা সযত্নে লুকিয়ে রাখে, স্বার্থে সামান্য ঘা লাগলেই সেই পোকাটা সগর্বে বেরিয়ে আসে, বন্ধুর আসল চেহারা টের পাওয়া যায়। আজকাল শুধুম মানুষ চেনা মুস্কিল নয়; বন্ধু চেনা আরো বেশী মুস্কিল।

আগে বন্ধু শব্দটা ছিলো ভরসার একটা ব্যাপার আর এখন বন্ধু হয় স্বার্থচিন্তা নিয়ে। সরল বিশ্বাসী মনকে কষ্ট দিতে ওস্তাদ বন্ধুরাই। যারা নিজেদের স্বার্থে বন্ধুদের ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে, তাদের দেখে আর অবাক হইনা। বন্ধু হলো এমন একটা জায়গা যেখানে মন খুলে সুখ-দুঃখের পাটি বিছিয়ে মন খুলে গল্প করা যায়। কিন্তু বোকার চোখ দিয়ে বিশ্ব চলেনা। সবাই হিসাব কষেই বন্ধুত্ব করে, তাই প্রয়োজন শেষ হলে ছুঁড়ে ফেলতে এক মুহুর্ত দেরী করে না। প্রাণী জগতে মানুষই একমাত্র প্রাণী যারা স্বার্থের জন্য এভাবে নিজেকে বদলায়, অন্যকোন প্রাণী এটা করবেনা।

প্রতিটি মানুষের জীবনে বন্ধু ব্যাপারটাই অন্যরকম, বন্ধুর সংগ পছন্দ করে না এমন মানুষ বিরল। মাঝেমধ্যে আমরা ভুল অংক কষি। পাওয়ার খাতায় যাকে সবচেয়ে কাছের বন্ধু ভাবি- সেই আঘাত করে বসে। পাকা, নিশ্চিন্ত দলিল পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখি সব ভুয়া, ভেজাল। বিশ্বাস নামক শব্দটা হারিয়ে যায়। ওপাশের মানুষটা জানেই না বিশ্বাস হারানো কতোটা ভয়াবহ! কেউ মারা গেলে শোকের হাহাকার প্রকাশ করা যায় কিন্তু বিশ্বাসের মৃত্যু হলে ভিতরটা আছড়ে-পিছড়ে হাহাকার করে মরে- কাউকে দেখানো যায় না।
 
যে বন্ধুত্ব এতকাল মুল্যবান মনে হতো, সবার কাছে ঈষর্নীয় ছিলো- স্বার্থের কারণে এক নিমিষে মুল্যহীন হয়ে যায়। কেবল মনে হয় কিসের উপর এতদিন টিকে ছিলো, কাকে এতো বিশ্বাস করেছি!! পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সত্য হয়তো স্বার্থ- বোকারা বুঝতে অনেক দেরী করেই ফেলে।
 
বন্ধুত্বের মাঝে যে কফিনে পেরেক ঠুকে- তাকে আর যাই হোক বন্ধু বললে বন্ধু শব্দটিকেই অপমানিত করা হয়। মুখোশধারী বন্ধুর চেয়ে নিজের একার জগত অনেক বেশী সম্মানীয়।
 
কাউকে মুখে বন্ধু বললাম- পিছনে ছুরি চালানো এমন বন্ধুত্বে বিশ্বাস রাখা উচিত নয়। বন্ধুত্ব এতো হাল্কা বিষয় হতে পারে না। কারো উপকার করতে না পারি অন্তত তাকে ছোট করবো- এই মানসিকতা যেন না হয়। কেউ ঠকালে একদিন সুদসহ সব ফেরত আসবে। ছলনা, ন্যাকামি আর অভিনয় দিয়ে বন্ধুতা রক্ষা করার দলে পড়তেও চাইনা। সহানুভূতি আর করুণা গীত দিয়েও বন্ধুত্ব টেকানো যায়না।
 
সময়ে সবাই টের পায়, দুদিন আগে বা পরে। মীরজাফর নবাবের বন্ধু ছিলো কিন্তু তার নাম নেই ঘৃণার সাথে। দেরী করে হলেও মুখোশধারী বন্ধু চেনা উপকারী। ফেইক আইডি তবু চেনা যায়, ফেইক বন্ধু চেনার উপায় কি?!

আধুনিকতার স্রোতে সব ভেসে গেছে, খাঁটি বন্ধুত্বও। আজকাল আর অবিশ্বাস্য বলে কিছুই নেই। শব্দটা বড্ড সেকেলে হয়ে গেছে।

#প্রতিটা ভুলই আমাদের জীবনে এক একটা শিক্ষা হয়ে আসে! এই ভুল গুলো যদি না হতো তাহলে আমরা অনেক কিছুই শিখতে পারতাম না!
 
নতুনবার্তা/কিউএমএইচ



 

 
 

 


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top