বুধবার, ২৮ জুন ২০১৭
webmail
Sun, 07 Sep, 2014 08:34:18 PM
উত্ত্যক্তের শিকার কিশোরীর আত্মহত্যা:
কাজী মুস্তাফিজ
নতুন বার্তা ডটকম

ঢাকা: রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বখাটেদের উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে কিশোরী আত্মহত্যার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও আসামিদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

অপরদিকে এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করা হলেও সেখানে মূল অভিযুক্ত যুবকের নাম নেই। আসামিদের বিচারের দাবিতে রোববার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে ঋতুর সহপাঠীরা। সোমবারও কর্মসূচি পালন করবেন তারা।  

ঘটনার শিকার উম্মে কুলসুম ঋতু (১৫) শনিবার সন্ধ্যায় বিষপানে আত্মহত্যা করে। সে স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী।

পরিবার ও সহপাঠীর অভিযোগ, স্থানীয় এক বখাটের উত্ত্যক্তকরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা সইতে না পেরে ঋতু আত্মহত্যা করেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রোববার সন্ধ্যায় কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বাবার কবরের পাশে তার দাফন হয়েছে।
 
খিলগাঁও থানা থেকে চার কিলোমিটার দূরে নন্দীপাড়া ছোট বটতলা ১নং স্কুল রোডের এক বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকত ঋতু। ওই এলাকার ইস্ট পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীতে পড়ত সে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে বড়। তার মা সাথী আক্তার ডেমরায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। চার বছর আগে ঋতুর বাবা বিল্লাল হোসেন মারা যান। এরপর পোশাক কারখানার কর্মী মো. আশিকের সঙ্গে সাথী আক্তারের বিয়ে হয়। ঋতুর নানি ফাতেমা বেগমও তাদের সঙ্গে থাকেন।

আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে শনিবার দিবাগত রাতেই খিলগাঁও থানায় মামলা করেছেন ঋতুর মা সাথী বেগম। এতে আসামি করা হয়েছে শিমুল চন্দ্র মন্ডল (২৫), তার বাবা রঞ্জন চন্দ্র মন্ডল (৫০), মা মালতী রানী মন্ডল (৪০), শিমুলের চাচাত ভাই পিন্টু চন্দ্র মন্ডল (৩০) ও জয় গোপাল(২৮)।

ঋতুর স্কুলপড়ুয়া ছোট বোন মরিয়ম আক্তার জানায়, রফিক নামের এলাকার এক যুবক তার বোনকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং তাতে সাড়া না দেয়ায় প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। এলাকার বখাটে যুবক শিমুলসহ তাদের আরো কয়েকজন বন্ধু মিলে ঋতুকে প্রেমে বাধ্য করার চেষ্টা করত।  

ঋতুর ফুপু আমেনা আক্তার নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, শনিবার বাসায় গিয়ে উত্ত্যক্তকারীদের সঙ্গে রফিকও ছিল, তা রাতে মামলা করার সময় তারা জানতেন না। বাসায় ফিরে জেনেছেন রফিকের সংশ্লিষ্টতার কথা। এজন্য রফিকের নাম মামলা থেকে বাদ পড়েছে। পরে তার নাম অভিযুক্তদের তালিকায় যোগ করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধ করবেন বলে জানান তিনি।

মামলার নথি থেকে এবং নানু ফাতেমা বেগম ও ছোট বোন মরিয়মের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার সকালে ঋতুর মা-বাবা কর্মস্থলে ছিলেন। এ সময় শিমুল চন্দ্র তাদের বাসায় ঢোকেন। শিমুলের সঙ্গে আসা আরো কয়েকজন ছিলেন বাইরে। শিমুল বাসায় ঢুকেই উম্মে কুলসুমকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে গালিগালাজ করে তারা চলে যান।

বিকেল তিনটার দিকে আবারো কয়েকজন যুবকসহ রফিক ও শিমুল বাসার সামনে গিয়ে ঋতুকে গালিগালাজ করতে থাকেন। বিভিন্ন ধরনের কথা বলে অপমান করেন। তখন তাদের বুঝিয়ে শান্ত করেন ঋতুর নানু। মেয়েটির ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর এমনটি না করতে তাদের প্রতি অনুরোধও জানান তিনি। পরে তারা চলে যান।
 
সন্ধ্যা সাতটার দিকে হঠাৎ করে বাসার একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় উম্মে কুলসুম। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা খুলে দেয় সে। তখন তার নাক-মুখে ফেনা দেখা যায়। পরে জানা যায় বাসায় পোকা-মাকড়ের উৎপাত বন্ধ করতে রাখা বিষের বোতল থেকে সে বিষপান করেছে। একপর্যায়ে কাত হয়ে মেঝেতে পড়ে যায় সে। ধরাধরি করে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  
 
শনিবার ঋতুর স্কুলের অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “হাসপাতালে আনার সময় কুলসুম অল্প অল্প কথা বলছিল। তখন সে আমাকে বলেছে- স্যার, আমি তো মারা যাব। ওই বখাটেরা যেন মাফ না পায়।”
 
রোববার দুপুরে খিলগাঁও এলাকায় রফিক ও শিমুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় দরজার বাইরে থেকে তালা দেয়া। ভেতরেও কারো উপস্থিতির শব্দ নেই।

প্রতিবেশিরা জানান, রফিক মোটরযান মেরামতের কাজ করেন। শনিবার রাত থেকে তাদের ঘরে তালা দেয়া। তার পরিবারের অন্যরা কে কোথায় চলে গেছেন কেউ জানে না।

খিলগাঁও থানার পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। শনিবার রাত থেকে অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। আশা করছি খুব শিগগির তারা গ্রেফতার হবে।”

তিনি বলেন, “রফিকের নাম মামলার এজাহারে না থাকলেও তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আমরা জেনেছি। তাকেও তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে।”
 
ঋতুর ছোট বোন মরিয়ম রোববার দুপুরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ প্রতিবেদককে বলে, “আমার আপুর অনেক স্বপ্ন ছিল। সে বলেছে পড়ালেখা শেষে চাকরি করবে। তখন বাবা-মাকে আর কষ্ট করতে হবে না। এই রফিকের কারণে আমার আপুর মৃত্যু হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
 
এদিকে আসামিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে রোববার সকালে আসামি শিমুলের বাড়ির সামনে মানববন্ধন করেছে ঋতুর সহপাঠীরা। সোমবার সকালেও খিলগাঁও এলাকা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত একটি র্যালি হবে বলে জানান ঋতুর ফুপু আমেনা আক্তার।

নতুন বার্তা/কেএমআর/জিহ


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top