শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮
Thu, 01 Mar, 2018 07:28:14 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বার্তা ডটকম
ঢাকা: "রঙ যেন মোন মর্মে লাগে, আমার সকল কর্মে লাগে
সন্ধ্যা দ্বীপের আগায় লাগে, গভীর রাতের জাগায় লাগে
রাঙিয়ে দিয়ে যাও গো এবার যাবার আগে।"
রবি ঠাকুর এভাবেই ব্যাক্ত করেছিলেন দোল ফাগুনের আকুতি। আজ ছিলো সেই দোল পূর্ণিমা, আবির খেলেবার দিন।
 
সনাতন ধর্মে আজকের দিনটিকে দোলযাত্রা বা দোল পূর্ণিমা বা হোলি উৎসব হিসেবে পালন করা হয়। হিন্দুদের বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমার রাতে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির ও গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীদের সঙ্গে রং খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার শুরু হয়। এই দোল পূর্ণিমার সকাল থেকেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে আবির, গুলাল ও বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হয়।
 
দোল আমাদের ঋতুচক্রের শেষ উৎসব। পাতাঝরার সময়, বৈশাখের প্রতীক্ষা। এই সময় পড়ে থাকা গাছের শুকনো পাতা, তার ডালপালা একত্রিত করে জ্বালিয়ে দেয়ার মধ্যে এক সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে। পুরনো জঞ্জাল, রুক্ষতা, শুষ্কতা সরিয়ে নতুনের আহ্বান হচ্ছে এই হোলি। বাংলায় দোলের আগের দিন ‘চাঁচর’ উদযাপনকে এভাবেই ব্যাখ্যা করা হয়।
 
আজ হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি উৎসবপ্রিয় মানুষেরা এই দোলযাত্রা উৎসব পালন করেছে উৎসবের সাথে। সকাল বেলায় মুখে রং লাগিয়ে বড়দের আশীর্বাদ নিয়ে শুরু হয়েছে দোলযাত্রা উৎসবের। মন্দিরে মন্দিরে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ পূজার। সকাল থেকে মন্দিরে মন্দিরে পূজা দেওয়ার জন্য মানুষের ভিড় দেখা গেছে।
 
হোলি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি অন্যতম উৎসব যা সাধারণত ‘হোলিকা’ নামে পরিচিত। চৈত্র মাসের শেষ পূর্ণিমা তিথিতে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হোলি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। একে দোল পূর্ণিমাও বলা হয়। এই উৎসবের পৌরাণিক ইতিহাসও বেশ চমকপ্রদ। যুগ যুগ ধরে হিন্দু সম্প্রদায় হোলি উৎসব পালন করে আসছে।
 
এই হোলি উৎসবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নানা আনুষ্ঠানিকতায় দিনটি পালন করে থাকে। পৌরাণিক কাহিনীগুলোর দিকে ফিরে তাকালে এই হোলি উৎসবকে ঘিরে দুইটি উল্লেখযোগ্য কাহিনী প্রচলিত। একটি প্রহ্লাদ ও হোলিকার কাহিনী এবং অন্যটি রাধাকৃষ্ণের কাহিনী। হোলি মূলত বসন্তের উৎসব হলেও হোলিকে রংয়ের উৎসবও বলা হয়ে থাকে।
 
শ্রীকৃষ্ণ একদিন বৃন্দাবনে রাধা এবং তার সখীদের সঙ্গে খেলা করছিলেন। সে সময় হঠাৎ শ্রী রাধা এক বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখী হয়ে লজ্জিত হন। শ্রীকৃষ্ণের মাথায় তখন একটি বুদ্ধি আসে। তিনি রাধার লজ্জা ঢাকতে এবং বিষয়টি তার সখীদের কাছ থেকে আড়াল করতে রাধা এবং তার সখীদের সাথে আবীর খেলা শুরু করেন। তাদের সবাইকে আবীর দিয়ে রাঙিয়ে দেন। শ্রীকৃষ্ণ-শ্রীরাধা এবং তার সখীদের এই আবীর খেলার স্মরণে হিন্দু সম্প্রদায় এই হোলি উৎসব পালন করে থাকে বলে প্রচলিত।
 
অনেক ধর্মীয় উৎসবেই আঞ্চলিক লোকসংস্কৃতি ও রীতির প্রভাব দেখা যায়, হোলিও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলার দোলযাত্রায় গৌড়ীয় বৈষ্ণব রীতির প্রাধান্য পায়। ঐতিহাসিকরা বিশ্বাস করেন পূর্বভারতে আর্যরা এই উৎসব পালন করতেন। যুগে যুগে এর উদযাপন রীতি অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। পুরাকালে বিবাহিত নারী তার পরিবারের মঙ্গল কামনায় রাকা পূর্ণিমায় রঙের উৎসব করতেন।
 
দোল হিন্দু সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন উৎসব। নারদ পুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ ও জৈমিনি মীমাংসায় রঙ উৎসবের বিবরণ পাওয়া যায়। ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এক শিলালিপিতে রাজা হর্ষবর্ধন কর্তৃক ‘হোলিকোৎসব’ পালনের উল্লেখ পাওয়া যায়। হর্ষবর্ধনের নাটক ‘রত্নাবলী’তেও হোলিকোৎসবের উল্লেখ আছে।
 
পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার, শাঁখারি বাজার এবং লক্ষ্মীবাজারসহ বেশ কিছু এলাকাতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দোল উৎসব উদযাপন করে থাকেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ও জগন্নাথ হলে নিয়মিতই আয়োজন করা হচ্ছে এ উৎসবের। ক্যাম্পাসে বের হয় দোলযাত্রা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বী তরুণ-তরুণীরাও অংশ নিচ্ছেন উৎসবটিতে। বিভিন্ন রঙে রাঙাচ্ছেন নিজেদের। মূলত দোলযাত্রা একটি বৈষ্ণব উৎসব। বহির্বঙ্গে পালিত হোলি উৎসবটির সঙ্গে দোলযাত্রা উৎসবটি সম্পর্কযুক্ত।
 
নতুন বার্তা/এফকে
 

Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top