বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
webmail
Thu, 07 Dec, 2017 04:48:31 PM
জাবি প্রতিনিধি
নতুন বার্তা ডটকম
সাভার: রাত্রির শেষে পূর্ব দিগন্তে যখন উঁকি দেয় সূর্য, এখানে তার আগেই পাখিরা জেগে উঠে। সকালের স্নিগ্ধতা ছোঁয়া সূর্যের লাল আভাময় পরিবেশে পাখির ডাক যেন হয় অনন্য এক সম্মিলন। শীতের মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ ধীরে ধীরে কুহু কূজনে জেগে উঠে, হয়ে উঠে কর্মব্যস্তময়। এমনই মনোহর প্রকৃতি চোখে পড়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এ দৃশ্য আকৃষ্ট করে ইট-পাথরের পরিবেশের মানুষকে। তাইতো এখানে দলবেঁধে আসে তারা পাখি দেখতে।
 
দক্ষিণ-পূর্ব এবং মধ্য এশিয়ায় শীতের প্রকোপ ও খাবারের অভাবে পাখিরা ঝাঁক বেঁধে উড়াল দেয় নাতিশীতোষ্ণ বাংলাদেশে। আগতদের তাই আমরা বলি অতিথি পাখি। আমাদের প্রকৃতিও যেন তাদের সাদরে সম্ভাষণ করে নেয়।
 
পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীতে প্রায় ৫ লাখ প্রজাতির পাখি আছে। এসব পাখির মধ্যে অনেক প্রজাতির পাখি শীতকালে অন্য অঞ্চলে চলে যায়। শুধু ইউরোপ আর এশিয়াতেই আছে প্রায় ৬০০ প্রজাতির পাখি। কিছু কিছু পাখি তাই প্রতি বছর ২২ হাজার মাইল পথ অনায়সে পাড়ি দিয়ে চলে যায় দূরদেশে। উত্তর মেরু অঞ্চলের এক জাতীয় সামুদ্রিক শঙ্খচিল প্রতিবছর এই দূরত্ব অতিক্রম করে দক্ষিণ দিকে চলে আসে। আমাদের দেশে অতিথি পাখিরা অতটা পথ পাড়ি না দিলেও তারা অনেক দূর থেকেই আসে। বরফ শুভ্র হিমালয় এবং হিমালয়ের ওপাশ থেকে বেশির ভাগ অতিথির আগমন ঘটে।
 
মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্ত্বর সংলগ্ন হ্রদ, প্রশাসনিক ভবনের পিছনের হ্রদ, বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং বণ্য প্রাণী আশ্রয় কেন্দ্রের হ্রদে পাখি দেখা যায় সবচেয়ে বেশি। এ হ্রদগুলোকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হ্রদগুলোতে ফুটে থাকা লাল পদ্মের পাশে পাখির জলকেলি, খুনসুটি আর উড়াউড়ি যেন অনন্য এক দৃশ্য! ক্যাম্পাসের  এই মনোহর দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ভীড় করছেন দর্শনার্থীরা। ছুটির দিনে বিশেষত, শুক্র ও শনিবারে এটি যেন বহুমাত্রিকতা পায়।
 
শত শত দর্শনার্থীর ভীড়ে ছেঁয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। নানান বয়সের মানুষ প্রকৃতির মনোহর দৃশ্যের সাথে পাখি দেখতে আসে এখানে। এখানকার প্রধান পাখি মূলত সরালি, যেটা আসে মূলত দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার, জলপাইগুড়ি প্রভৃতি জেলা থেকে। এছাড়া রয়েছে বালিহাঁস, পাতিহাঁস, সারস, মদনটেক, কলাই, নকতা প্রভৃতি পাখি। এগুলো আসে মঙ্গোলিয়া, কাশ্মীর, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া প্রভূতি অঞ্চল থেকে।
 
প্রতিদিন ঢাকা ও আশেপাশের এলাকা থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী পাখির ডাক শুনতে ভীর জমায় জাহাঙ্গীরনগরে। সৃষ্টি হয় একটি উৎসবময় পরিবেশের। ঢাকার বিক্রমপুর থেকে আগত স্কুল পড়–য়া নাজনীন এসেছে পাখি দেখতে। তার কথায়, ‘আগে বহুবার শুনেছি এখানকার পাখির কলরবের কথা। আজ বাস্তবে দেখে সত্যিই অনেক ভাল লাগছে। মনে হচ্ছে যেন বার বার চলে আসি এখানে পাখি দেখতে।’  
 
কয়েকবছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হল সংলগ্ন হ্রদ এবং মেডিক্যালের সামনে আনন্দ পুকুরে পাখি দেখা গেলেও তা এখন চোখে পড়েনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাজী রিয়াদ মনে করেন এর পিছনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা দায়ী। তিনি মনে করেন, পাখির অবাধ বিচরণ ও খাদ্যের প্রতুলতা থাকলে শীতকালীন পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে বিচরণ করবে।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজ মনে করেন, আল-বেরুনী হল সংলগ্ন হ্রদ ইজারা দেয়ায় এখানকার বাস্তুসংস্থানের পরিবর্তন ঘটেছে। ফলে এই লেকে আসছেনা কোন পাখি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু করার কারনে ছুটির দিনে ব্যাপক গাড়ী প্রবেশ করে। এর ফলে শব্দ দূষণে পাখির বিচরণ বিঘিœত হয় বলে মনে করেন তিনি।
 
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম পাখি আসে ১৯৮৬ সালে। বর্তমানে এখানে ১৯৫ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১২৬ টি দেশীয় এবং ৬৯ টি বিদেশী প্রজাতির পাখি রয়েছে।
 
নতুন বার্তা/এফকে

Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top
    close