বুধবার, ২০ জুন ২০১৮
Thu, 15 Feb, 2018 05:51:59 PM
রাবি প্রতিনিধি
নতুন বার্তা ডটকম

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে মারধর করেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ভুক্তভোগী শিক্ষক হলেন, আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এটিএম এনামুল জহির। বুধবার দিবাগত রাতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মারধরের শিকার হন ওই শিক্ষক। শিক্ষক মারধরের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করছে বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ^বিদ্যালয় প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী প্রায় চার ঘন্টা মহাসড়ক অবোরধ করেন।

মেডিকেল সূত্রে জানা গেছে, রামেক থেকে চিকিৎসা নিয়ে ৩০ নং ওয়ার্ড থেকে ফিরছিলেন আইন বিভাগের ওই শিক্ষক। মেডিকেল হতে বের হওয়ার সময় ইন্টার্নি ডাক্তার পিংকি নামের একজনের সাথে ভুলবশত ধাক্কা লেগে যায়। এতে শিক্ষক জহির কথার প্রেক্ষিতে তাকে বেয়াদব বলেন। পরেই বিষয়টি ওয়ার্ডে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জানালে বেশ কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক এটিএম জহিরকে বেধড়কভাবে পেটায়। তাদের বেধড়ক মারধরে তিনি গুরুতর আহত হন।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে সকালে বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হন। ক্যাম্পাসে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরবর্তীতে প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এবং বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিশ^বিদ্যালয় থেকে বহিস্কারের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন এবং মারধরকারী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে যতক্ষণ না আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ততক্ষণ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। এমনকি ঘটনায় জড়িত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্লাস বর্জন করার হুমকিও দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

পরে বেলা ১১ টা ১৫ এর দিকে ঘটনাস্থলে প্রক্টর ড. অধ্যাপক লুৎফর রহমান উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কøাসে ফিরে আসার জন্য বলেন। কিন্তু তার আন্দোলন থেকে ফিরে আসেন নি। পরবর্তীতে বিশ^বিদ্যালয় উপ-উপাচার্য  প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা আন্দলনরত শিক্ষার্থীদের ফিরে যাওয়ার আহবান করলেও তার অবরোধ চালিয়েছেন। পরবর্তীতে মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচী থেকে ফিরে এসে প্রশাসন ভবন ঘেরাও করেন। পরে বিশ^বিদ্যালয় উপাচার্য ড. এম আব্দুস সোবহান তাদের সান্ত¡না দিয়ে বলেন,  ‘ কেন শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে তার ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।  শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রায় ৪ ঘন্টা যাবৎ যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে রাস্তায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মির্জা কামাল বলেন, ‘ওই শিক্ষকের মানসিক সমস্যা ছিল এটা আগে জানতামনা। জহির স্যারের সাথে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকে ধাক্কা লাগায় তিনি অশালীন কথা বলেন। সেই জন্য কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ক্ষিপ্ত হন স্যারের প্রতি’।  

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. লুৎফর রহমান জানান, ‘ মারধরের ঘটনাটি জানতে পারি সহকারী প্রক্টরের মাধ্যমে। পরে রাজপাড়া থানার সহযোগিতায় আইন বিভাগের শিক্ষককে রাজশাহী মেডিকেল থেকে উদ্ধার করা হয়।

রামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি ফোনে কোন মন্তব্য করতে চাই না। কথা বলতে চাইলে আমার অফিসে আসতে হবে’।

নতুন বার্তা/এমআর


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top