রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮
Mon, 09 Apr, 2018 11:02:56 PM
কোটা সংস্কারের দাবি
ঢাবি প্রতিনিধি
নতুন বার্তা ডটকম

ঢাবি: আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের কমিটিকে ‘অবাঞ্ছিত ঘোষণা’ করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি দিয়েছে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নতুন সমন্বয়ক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী বিপাশা চৌধুরী বলেছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সোমবার রাত সাড়ে নয়টায় রাজু ভাস্কর্যে সংবাদ সম্মলনে তিনি আরও বলেন, আগামীকাল বেলা ১১টায় টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে আবারো অবস্থান নেবে আন্দোলনকারীরা।

এছাড়াও ১৬ এপ্রিল ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ নামে নতুন কর্মসূচিরও ঘোষণা এসেছে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে।

আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে কোটা সংস্কারের দাবি না মানলে পরদিন ১৬ এপ্রিল সারাদেশের শিক্ষার্থীরা ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকা এসে কোটা সংস্কারের পক্ষে আন্দোলন করবে বলে জানান বিপাশা চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমরা আগের কমিটির সিদ্ধান্তে একমত নই। ক্লাস ও পরীক্ষা সরকারি ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থগিত থাকবে।

বিপাশা বলেন, আমরা বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপদ নই,বহিরাগতরা অস্ত্রসহ অবস্থান নেওয়ায় আমরা আজকের মতো কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করছি।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শোডাউন দিচ্ছে বলেও অভিযোগ বিপাশার।

এর আগে সরকারের আশ্বাসে ১ মাসের জন্য কোটা সংস্কার আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান এ আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

সোমবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে সরকারের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত আসে।

আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের বলেন, মে মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত কোটা সংস্কার আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে আগামী মাসের ১ম সপ্তাহের মধ্যে কোটা সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জ্বল মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবি আমলে নিয়েছেন। উনি দেশের বাইরে থেকে আসার পর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে কোটা বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।

এর আগে সচিবালয়ে ওই প্রতিনিধি দলের আলোচনা শুরু হয় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের একটি প্রতিনিধি দলের।

বৈঠক শেষে সচিবালয় থেকে পরিষদের ১৯ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আসেন। এসময় সেখানে সাধারণ আন্দোলনকারীরা জড়ো হন। পরিষদের পক্ষ থেকে আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানোর সঙ্গে সঙ্গে ‘মানি না মানি না’ স্লোগান দিয়ে উঠেন সাধারণ আন্দোলনকারীরা।

এসময় পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের সিদ্ধান্ত না মানেন তাহলে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে সরে যাব।’

রোববার পাঁচ দফা দাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর শাহবাগে পূর্ব ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা।

রাতভর সংঘর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের তাণ্ডব।

এরপর সোমবার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

নতুন বার্তা/কেকে
 


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top