লাইফস্টাইলহোমপেজ স্লাইড ছবি

বইয়ের রাজ্যে ডুব

মৃন্ময়ী মোহনা: একটা সময় ছিলো, যখন দেশের অধিকাংশ মানুষই ছিলো বইপ্রেমী। সময়ের পরিক্রমায় সে সংখ্যা কমে গেছে বহুগুণে। তবু, সব মানুষই তো আর ফেসবুক আর ই-বুকে মুখ গুঁজে থাকে না। তারা এখনো চায় বইয়ের পাতার ভাঁজে ভালোবাসা খুঁজে নিতে। লাইব্রেরিতে বসে মেটায় তারা মনের খোঁড়াক। তাদের জন্যই আজকের এই লেখা।

বেঙ্গল বই: বই পড়ার জন্য বেঙ্গল বইয়ের জুরি নেই। বাচ্চা থেকে বুড়ো, সব বয়েসী মানুষের জন্যই রয়েছে বই পড়া, কেনা ও দেখার ব্যবস্থা। আর সাথে চা,সিঙ্গাড়া, চপ তো আছেই। ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেওয়া যায় এখানে বইয়ের সাথে। ঠিকানা: ১/৩,ব্লক ডি,লালমাটিয়া।

পাঠক সমাবেশ কেন্দ্র: দেশি-বিদেশি হরেকরকম বইয়ের পসরা সাজিয়ে রেখছে এই লাইব্রেরি। এখানেও রয়েছে বই পড়ার সুব্যবস্থা। একবার বইয়ের রাজ্যে ডুবে গেলে সময় কীভাবে কেটে যাবে টের পাওয়া যাবে না! ঠিকানা : জাতীয় জাদুঘর, ভবন ৪,শাহবাগ।

বাতিঘর: এ যেন বই দিয়ে গড়া এক সুবিশাল প্রাসাদ। এর ভেতরে একটি বনেদি ভাব আছে। ভেতরের বিশাল জায়গা থেকে বারান্দার ছোট্ট গলি সবখানেই টেবিল চেয়ার পাতা। এক চুমুক কফির সাথে সাথে বইয়ের পাতা ওল্টানো…সে এক অনন্য অনুভূতি। ঠিকানা: বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্র,বাংলামোটর।

পাবলিক লাইব্রেরি: এর মূল নাম সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার হলেও পাবলিক লাইব্রেরি নামেই বেশি পরিচিত। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাঠাগার, যা ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন হাজারো বইপ্রেমী মানুষের দেখা মেলে এখানে। ঠিকানা: শাহবাগ, ঢাকা।

জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠ: ২০১৫ সালের ৯ নভেম্বর আব্দুর রাজ্জাকের সংগ্রহের প্রায় ৬০০০ বই নিয়ে খোলা হয় এ বিদ্যাপীঠ। বর্তমানে এটি ঢাকার বইপ্রেমীদের অত্যন্ত পছন্দের জায়গা। সুবিশাল জায়গায় নিজের মনের মত বই পড়ে সময় কাটানো যায় এখানে। ঠিকানাট: ধানমন্ডি ৭/এ,ঢাকা।

এশিয়াটিক সোসাইটি লাইব্রেরি: এশিয়াটিক সোসাইটি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারনে এর লাইব্রেরিটারও রয়েছে বিশেষত্ব। এখানকার বেশিরভাগ বই ই ইতিহাস নির্ভর। সুন্দর পরিবেশ এবং বিশেষত্বের কারনে প্রতিদিনই অনেক মানুষ এখানে পড়তে আসে। ঠিকানা: চানখারপুল, ঢাকা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরি: ঢাকার কেন্দ্রে অবস্থিত হলেও এই লাইব্রেরির বিশালতার কথা খুব কম মানুষই জানেন।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণাসহ সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে ইসলামী জ্ঞান বিকাশের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরীর কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে ইসলামে বিজ্ঞান,সাহিত্য,চিকিৎসা প্রভৃতি বিষয়ে লক্ষাধিক বই রয়েছে। ইসলামের আলোতে আলোকিত হতে চাইলে এবং নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য ঢুঁ মারতে পারেন এখানে। ঠিকানা: বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ, ঢাকা।

আলোঘর লাইব্রেরি: ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ লাইব্রেরিতে প্রায় ৩,৫০০ টি বই আছে। এছাড়া বিভিন্ন পাঠ্যবই এবং সকল জাতীয় দৈনিক পত্রিকা পড়ারও ব্যবস্থা আছে।এখানে, টিভি ও ডিভিডির মাধ্যমে শিক্ষামূলক নাটক, সিনেমা, নাটিকা, ভিডিও চিত্র ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক চ্যানেলের অনুষ্ঠান দেখানো হয়। ঠিকানা: ই/১১, বর্ধিত পল্লবী, মিরপুর সাড়ে এগার,ঢাকা।

রামকৃষ্ণ মিশন লাইব্রেরি: প্রায় ১৭০০০ বইয়ের সুবিশাল এ ভাণ্ডারে মানুষের ভীড় লেগে থাকে নিত্য। সুন্দর পরিবেশ আর মৌলিক বইয়ের প্রাচুর্যের দিক দিয়ে এটি বইপ্রেমীদের অত্যন্ত পছন্দের জায়গা। ঠিকানা: রামকৃষ্ণমিশন,গোপীবাগ,সংস্কৃতি ভবন।

দীপনপুর: হাজারো বইয়ের পসরা সাজিয়ে নিয়ে সবসময় তৈরি হয়ে থাকে এই পাঠাগারটি। মাঝে মাঝে বসে সাহিত্য আড্ডা। সাথে আছে খাবার ব্যবস্থাও! ঠিকানা: কাঁটাবন, ঢাকা।

ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরি: IELTS -এর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে হরেকরকম ইংরেজি বই, সিনেমা ও ভিডিও দেখার সুযোগ পেতে ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরিতে যাওয়ার জুড়ি নেই। ব্রিটিশ কাউন্সিলের নানা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং আইএলটিএস-এর উপর আয়োজিত নানা কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগও পাওয়া যায় এই লাইব্রেরির সদস্য হওয়ার মাধ্যমে। ঠিকানা: ফুলার রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

নার্ডি বিন কফি হাউস: মূলত একটি রেস্টুরেন্ট হলেও বইপ্রেমীদের জন্য এটি ছোটোখাটো লাইব্রেরিই বটে। আলো আঁধারি পরিবেশ, সুস্বাদু কফি আর বই- এ যেন এক অন্য রাজ্য! ঠিকানা: রোড ২, ধানমন্ডি(আহমদ -কাজী টাওয়ার, ৩৫)

নর্থ ইন্ড কফি রোস্টার্স: বিশাল এই কফিশপের একটি অংশ যার নাম ‘বুকওয়ার্ম বাংলাদেশ’ -একটি চমৎকার বই পড়ার স্থান। বইয়ের সংখ্যা কম হলেও সবগুলোই পছন্দ হওয়ার মতো। ঠিকানা : নার্ডি বিন কফি হাউজের ভবন (তিন তলা উপরে)।

দিন দিন এই চমৎকার লাইব্রেরিগুলোতে মানুষের সংখ্যা উপচে পড়ুক। নতুন প্রজন্ম ফেসবুকে মুখ গুঁজে না থেকে বইয়ের ভাঁজ থেকে খুঁজে পাক জীবনের আসল আনন্দ।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker