বিনোদন

এটাই বন্ধুত্ব, শ্রীদেবীর জন্য রজনীকান্তের

মুম্বাই: ‘চালবাজ’ ছবিতে কে অঞ্জু আর কে মঞ্জু তা গুলিয়ে ফেলেছিল জগ্গু। কিন্তু না, রজনীকান্ত কোনও ভুল করেননি। শ্রীদেবী যে তাঁর প্রিয় বান্ধবী সে কথা কবুল করতে দ্বিধা করেননি। আর বান্ধবীর আকস্মিক প্রয়াণে প্রায় ৩৭ বছরের এক প্রথা থেকে এবছর সরে এসেছেন দক্ষিণী সুপারস্টার।

কী সেই প্রথা বা রেওয়াজ? এ বছর হোলির আগে গোটা বলিপাড়া জুড়ে শোকের আবহ। শাবানা আজমি থেকে শুরু করে শ্রীদেবী যে আবাসনে থাকতেন সেখানকার সদস্যরা বাতিল করেছেন হোলির সেলিব্রেশন। স্টুডিওপাড়ার দরজায় দরজায় শোকের ছায়া। অনেকে ভেবেছিলেন শ্রীদেবীর জন্য মন খারাপ, তাই হয়তো হোলির সেলিব্রেশন বন্ধ রেখেছেন রজনীকান্ত। কিন্তু তা নয়। নিজের জীবনের একান্ত এক রেওয়াজেও তিনি এবার ইতি টেনেছেন। শোকের আবহে আনন্দে মশগুল হতে চাননি। ৩৭ বছর আগের কথা। ২৬ ফেব্রুয়ারিই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সুপারস্টার। তারপর থেকে সাড়ে তিন দশক ধরে এই দিনটি কাটে অন্যরকম। পারতপক্ষে শুটিংয়ে যান না। নিজের ব্যস্ত শিডিউলকে এই দিন ছুটি দিয়ে দেন। স্ত্রী লতা ও মেয়েদের নিয়ে সময় কাটান। সময় দেন ফ্যানদের। সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় ধরে এটাই চলছে। কিন্তু এবছরই ছন্দপতন। সুপারস্টারের ইচ্ছেতেই বাতিল হয়েছে সমস্ত অনুষ্ঠান। কেননা ঠিক তার আগেই খবর পেয়েছেন, দুবাইয়ের হোটেলে চিরঘুমে তলিয়ে গিয়েছেন তাঁর প্রিয় বান্ধবী শ্রীদেবী। বিয়ের দিন, অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি মেয়েদের নিয়ে মুম্বই ছুটে এসেছিলেন রজনীকান্ত। শ্রীদেবীর মরদেহ তখনও ফেরেনি। তবু পরিবারের বাকিদের সঙ্গে দেখা করে যান।

দক্ষিণের যে ছবিতে শ্রীদেবী প্রথম ব্রেক পান, সেখানে তাঁর দুই নায়কের মধ্যে একজন ছিলেন রজনীকান্ত। অপরজন কমল হাসান। তারপর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। বহু ছবিতে একসঙ্গে কাজ করা। পেশাদারিত্বের বাইরে বেরিয়ে অন্যরকম আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হওয়া। শ্রীদেবী, রজনীকান্ত দু’জনেই নিজের নিজের ক্ষেত্রে স্টার হয়েছেন। তবু সেই কেরিয়ারের গোড়ার দিকের সম্পর্কের মাধুর্যই আলাদা। তাই-ই বুকে লালন করে চলেছেন রজনীকান্ত। সেই বান্ধবীর সঙ্গে চিরবিচ্ছেদের মুহূর্তে তাই ব্যক্তিগত আনন্দে গা ভাসালেন না সুপারস্টার।

নতুন বার্তা/এমআর

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker