বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

জি বাংলা’য় বাংলাদেশের প্রতিযোগী এবং কিছু কথা!

মাহমুদুর রহমান: ‘রিয়্যালিটি শো’ কথাটার কোন বাংলা পারিভাষিক শব্দ সম্ভবত তৈরি হয়নি। আসলে প্রয়োজন হয়নি। বিশ্বায়নের যুগে আমরা প্রচলিত বিদেশী শব্দ গ্রহণ করি। রিয়্যালিটি শো, সে রকমই একটা শব্দ বা কথা। মূলত একটা টেলিভিশন অনুষ্ঠান, যেখানে কিছু সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে নিজের প্রতিভা প্রমাণ করতে চেষ্টা করেন, সেটাকেই আমরা রিয়্যালিটি শো বলে থাকি।
উপমহাদেশে রিয়্যালিটি শো সবচেয়ে জনপ্রিয় হয় ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মাধ্যমে। সঙ্গীত প্রতিভা খোঁজার এই মঞ্চটি, ‘আমেরিকান আইডল’ নামক অনুষ্ঠান থেকে অনুপ্রাণিত। কিন্তু, সে কথা তখন কতজন মানুষই জানতো। ২০০৪ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি তুমুল জনপ্রিয় হয়। কেবল ভারতে না, স্যাটেলাইটের কল্যানে বাংলাদেশেও অনুষ্ঠানটি নিয়ে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে ভারতে প্রচুর রিয়্যালিটি শো হয়েছে। কোনটা নাচের, কোনটা গানের, কোনটা অ্যাডভেঞ্চারের। বাংলাদেশে এই অনুষ্ঠানের আদলে ২০০৫ সালে তৈরি হয়েছিল ‘ক্লোজআপ-১’। তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিল এই অনুষ্ঠানটি।
ভারতে প্রচুর টেলিভিশন চ্যানেল, এবং সেই অনুপাতে রিয়্যালিটি শো ও প্রচুর। বিভিন্ন মানের রিয়্যালিটি শো হয়ে থাকে সেখানে। এবং আমাদের দেশেও ‘ক্লোজআপ ১’ এর পর আরও অনেক রিয়্যালিটি শো হয়েছে। সে সবের একেকটির মান একেক রকম।
কলকাতার টেলিভিশন চ্যানেল ‘জি বাংলা’-র একটি অনুষ্ঠানের নাম ‘সা রে গা মা পা’। নাম থেকেই বোঝা যায় এটি গানের অনুষ্ঠান, রিয়্যালিটি শো। কলকাতার অনুষ্ঠানের প্রচুর বাংলাদেশি দর্শক রয়েছে। এবং এ বছর এই অনুষ্ঠানে আয়োজকরা বাংলাদেশের প্রতিযোগী গ্রহণ করেছেন। তাদের একজন নোবেল, আরেকজন সিঁথি। কয়েকদিন হলো তাদের চমৎকার পারফর্মেন্সের ভিডিও বাংলাদেশি ফেসবুকাররা শেয়ার করে প্রশংসা করছেন।
কিছুদিন এই প্রশংসা চলার পর কেউ কেউ এই নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। কয়েকটি প্রশ্ন এমন
১. বাংলাদেশে কি এমন অনুষ্ঠান হয় না যে আমাদের ছেলেমেয়েরা ভারত চলে গেলো?
২. তারা তো বাংলাদেশি দর্শক ধরার জন্যই এদের নিয়েছে। এতো আমাদের খুশি হওয়ার কি আছে?
৩. গান শুনে বিচারক আপ্লুত হয়ে যাচ্ছেন, মেডেল দিচ্ছেন। এসব কতোটা সত্য আর কতোটা সাজানো?
প্রথমত, তারা কেন গেলো সে প্রশ্নে আসতে হলে, বলতে হবে আমাদের দেশে ‘ক্লোজআপ ১’ এর প্রথম আসরের পর অনুষ্ঠানের সেই জনপ্রিয়তা ছিল না। সেই শিল্পিরা অনেকে হারিয়ে গেছেন।
আমাদের খুশি হওয়ার কারন কেবল এই টুকুই যে আমাদের ছেলেমেয়েরা তাদের দেশে গিয়ে নিজের দেশের নাম উজ্জ্বল করবে।
তৃতীয় প্রশ্নে আসলে বলতে হয়, আমাদের দেশের ‘রিয়্যালিটি শো’ গুলোতে এমন অনেক কাজ উপস্থাপক, বিচারকরা করে থাকেন। কেউ প্রতিযোগীকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করেন, কেউ উঠে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন। এসব আসলে দর্শকের মনোযোগ পাওয়া, এবং ধরে রাখার জন্য নাটকীয়তা, যা পাশ্চাত্যের টেলিভিশন শো গুলোতেও দেখা যায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কলকাতার ‘ষড়যন্ত্র কেন্দ্রিক ডেইলি সোপ’ এর তুলনায় ‘সা রে গা মা পা’ একটি চমৎকার অনুষ্ঠান। তাদের প্রতিযোগীদের প্রতিভা, চেষ্টা প্রশংসাযোগ্য। তাদের মিউজিশিয়ানদের কাজ মুগ্ধ করার মতো, অন্যান্য অনেক হিন্দি চ্যানেলের কাজের চেয়ে বহুগুণ মানসম্পন্ন। সেই সঙ্গে অচেনা ব্যান্ড, বাউল, সঙ্গীত সাধকদের মঞ্চে এনে প্রতিযোগী এবং দর্শকদের সাথে পরিচিত করা হয় এ অনুষ্ঠানে। গত আসরে আয়োজকরা ‘জলের গান’কে আমন্ত্রণ করেছিলেন। এমন একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিযোগী গ্রহণ করা খারাপ কিছু না। বরং, তাদের ভালো দিক থেকে আমাদের হয়ত গ্রহণ করার কিছু আছে।বাংলাদেশের ও উচিত ভালো মানের রিয়্যালিটি শো করা। যাতে নোবেল ,সিঁথিদের  নিজেদের চেনাতে অন্য দেশে  যেতে না 
হয়।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker