বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

আন্দ্রেই তারাকোভস্কি সম্পর্কে আপনি যা জানেন না

মাহমুদুর রহমান:  বিশ্বের সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তাঁর নাম তো আসবেই, কিন্তু শুধু সেখানেই নয়। সিনেমা নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা করতে গেলেও তারাকোভস্কির নাম অবশ্যই আসবে। সিনেমা এবং সিনেমার ইতিহাসের সাথে তাঁর নাম উচ্চারণ করতেই হবে। কাজের মাধ্যমে নিজেকে তিনি সেই উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

তারাকোভস্কিকে নিয়ে প্রশংসা আছে, তর্ক আছে। কারও কাছে তিনি একঘেয়ে, কারও কাছে নৈশব্দের কবি, আবার কারও কাছে তিনি সিনেমার গুরু। কেউ কেউ তাঁকে চলচ্চিত্রকারদের চলচ্চিত্রকার বলেছেন। অর্থাৎ, কেউ যদি সিনেমা তৈরি করতে চায়, তাঁকে তারাকোভস্কির কাছ থেকে শিখতে হবে, সিনেমা কি করে তৈরি করতে হয়।

১৯৩২ এর ৪ঠা এপ্রিল এই কিংবদন্তীর জন্ম তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের এক গ্রামে। আপনি হয়তো জানেন না যে তারাকোভস্কির পিতা আর্সেনি তারাকোভস্কি একজন কবি ছিলেন। কেবল কবিই নন, বিংশ শতাব্দীর রুশ কবিদের মধ্যে তিনি বিখ্যাত একজন। পিতার সেই কবিসত্ত্বা প্রভাবিত করেছিল আন্দ্রেই তারাকোভস্কিকে।

স্কুলজীবনে তারাকোভস্কি খুব ভালো ছাত্র ছিলেন না বরং তিনি নানা রকম দুর্বুদ্ধি এবং দুর্ঘটনা ঘটানোয় ওস্তাদ ছিলেন। স্কুল জীবনে তিনি আরেক কবি আন্দ্রেই ভজনেসন্সকিকে তাঁর সহপাঠী হিসেবে পেয়েছিলেন।

১৯৫৪ সালে তারাকোভস্কি ‘ষ্টেট ইন্সটিটিউট অফ সিনেমাটোগ্রাফি’-তে ভর্তি হন এবং একজন চিত্রনির্মাতা হওয়ার কথা ভাবেন। এখানেই তিনি ইরমা রুশকে তাঁর সহপাঠী হিসেবে পেয়েছিলেন এবং ১৯৫৭ সালে তাঁকে বিয়েও করেন।

আপনি হয়তো জানেন না বিখ্যাত এই পরিচালকের পরিচালিত প্রথম সিনেমার দৈর্ঘ্য মাত্র ১৯ মিনিট। ছাত্রাবস্থায় তিনি ‘দ্য কিলারস’ নামের এই চলচ্চিত্র তৈরি করেছিলেন।

তিন বছর পর তিনি নির্মাণ করেন আরেকটি চলচ্চিত্র যার নাম ‘দেয়ার উইল বি নো লিভ টুডে’, এবং দুই বছর পর নির্মিত হয় ‘দ্য স্টিমরোলার অ্যান্ড দ্য ভায়োলিন’। আপনি হয়তো জানেন না, দুটি চলচ্চিত্রই ৪৬ মিনিটের।

আপনি হয়ত জানেন না, তারাকোভস্কির প্রথম ফিচার ফিল্ম, বিখ্যাত ‘ইভানস চাইল্ডহুড’ প্রথমে শুরু করেছিলেন এডওয়ার্ড আবালোভ। তিনি এই প্রোজেক্ট ছেড়ে দিলে তারাকোভস্কি তা নিজে হাতে তুলে নেন, এবং এখান থেকেই এক কিংবদন্তী নির্মাতাকে দেখতে পায় পৃথিবী।

‘আন্দ্রেই রুবেলভ’ নামক তারাকোভস্কির সিনেমাটি মূলত তৎকালীন রাশিয়ার বিখ্যাত চিত্রকর আন্দ্রেই রুবেলভের জীবন ভিত্তিক চলচ্চিত্র, যা ১৯৬৫ সালে নির্মিত হয়।

আপনি হয়ত জানেন না, এই সিনেমার একজন প্রোডাকশন সহকারী ল্যারিসা কিজিলোভার সঙ্গে সেই সময় থেকে বসবাস করতে শুরু করেন তারাকোভস্কি। ১৯৭০ সালে তিনি ইরমাকে ডিভোর্স করে ল্যারিসাকে বিয়ে করেন এবং একই বছর তাদের সন্তানের জন্ম হয়।

১৯৭২ সালে পরিচালিত ‘ সোলারিস’ চলচ্চিত্রটি স্ট্যানিশল লেম-কৃত একই নামের উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়ন।

আপনি হয়ত জানেন না, ১৯৭৩-৭৪ সালে ধারণকৃত তাঁর বিখ্যাত সিনেমা ‘মিরর’ মূলত তারাকোভস্কির আত্মজীবনীমূলক সিনেমা। এই সিনেমায় ফুটে উঠেছে তারাকোভস্কির ছেলেবেলা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আক্রান্ত রাশিয়ার কথা তিনি বলেছেন এখানে, সেই সঙ্গে তাঁর এবং পরিবারের সেই সময়কার কথা বলেছেন। যেন আয়নায় নিজেকে দেখেছেন বহুদিন পর।

আপনি হয়ত জানেন না, তারাকোভস্কি তাঁর জীবনের শেষ দুটি সিনেমা নিজ দেশের বাইরে করেছেন। ১২৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘নস্টালজিয়া’ ইতালিতে এবং ‘দ্য স্যাক্রিফাইস’ সুইডেনে নির্মিত। তারাকোভস্কি মাত্র ৫৪ বছর বয়সে মারা যান। সময় ১৯৮৪ সাল।

তারাকোভস্কি সম্পর্কে আরেক কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা ইংমার বার্গম্যান বলেছেন, “আমার কাছে তারাকোভস্কিই সেরা পরিচালক, তিনি এমন এক পরিচালক যিনি চলচ্চিত্রের নতুন ভাষা তৈরি করেছেন। এ এমন এক ভাষা যা চলচ্চিত্রের প্রকৃতির জন্য খুব উপযোগী। এই ভাষা জীবনকে প্রতিফলন এবং স্বপ্ন হিসেবে তুলে ধরে।”

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker