বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

পৃথিবীর অন্যতম সেরা পাঁচ জন ক্যামেরার কবি!

মঞ্জুর দেওয়ান:  ‘একটি ছবি হাজার কথা বলে’। হাজার ছবি তাহলে কতো কথা বলে! ভেবে দেখেছেন কখনো? হয়তো দেখা হয়নি। ভেবে না দেখার পেছনেও কারণ আছে। আমরা সূর্যের আলো অপেক্ষা চাঁদের আলো বেশি পছন্দ করি। কিন্তু চাঁদ কোথা থেকে আলো পায় তা ভেবে দেখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করিনা। একই জিনিস পরিলক্ষিত হয় সিনেমায়। পর্দায় সিনেমা দেখে আমরা কখনো আপন জগতে হারিয়ে যাই। সিনেমার গল্পে বিভোর হয়ে নিজেকে মিলিয়ে ফেলি কোন এক চরিত্ররের সাথে!  সিনেমা শেষ হয়ে গেলে বাহবা দিই অভিনেতা আর পরিচালককে। কালেভদ্রে গল্পের রচয়িতা কে বাহবা দিই না, তা না। কিন্তু যে ক্যামেরার কবি তার কথা কি ভেবে দেখি? যিনি কাগজের গল্পকে মেধা মননে ধারণ করে একটি সার্বজনীন নান্দনিকতা ছড়ান। যন্ত্র দিয়ে প্রাণ দেন! নির্দিষ্ট সৌন্দর্যকে ধারণ করে দর্শকের সামনে ফুটিয়ে তোলেন। বলছি সিনেমাটোগ্রাফারের কথা। পর্দার পেছনের মানুষটিকে আমরা জানার চেষ্টা করিনা। ক্যামেরার কবিদের খোঁজ রাখেন এমন মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা যায়! অভিনেতা-পরিচালকদের মতো পর্দার সামনে না থেকেও আপন গুণে গুণান্বিত হয়েছেন অনেক সিনেমাটোগ্রাফার। এরমধ্যে পাঁচজন গুণী ক্যামেরা কবির গল্প থাকছে এবারের আয়োজন।

 ইমানুয়েল লুবেজকি: পুরো নাম ইমানুয়েল লুবেজকি মরগেনস্টার্ন। ডাকনাম চিভো। ১৯৮০ সালের শেষের দিকে মেক্সিকান ফিল্ম ও টেলিভিশন প্রোডাকশন দিয়ে পেশা জীবন শুরু হয়েছিলো লুবেজকির। সিনেমাটোগ্রাফিতে প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার ও নিরবিচ্ছিন্ন শটের জন্য লুজবেকির বেশ খ্যাতি রয়েছে। জীবদ্দশায় মাইক নিকোলাস, টিম বার্টন, আলফন্সো কুয়ারনের মতো খ্যাতিমান পরিচালকের সাথে কাজ করেছেন। লুজবেকির ফিল্মোগ্রাফির ছবির মধ্যে টুয়েন্টি বাকস, মিরোস্লাভা, মিট জো ব্লাক  অন্যতম।

 জানুস কামিস্কি: জন্মসূত্রে পোলিশ হলেও পেশাজীবনের শুরু হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সফলতার দিকে অগ্রসর হন বিখ্যাত পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গের সাথে। ১৯৯০ সালে সিন্ডলার’স লিস্ট দিয়ে আলোচনায় আসেন কামিস্কি। যে সিনেমাটি একাডেমি এ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি, বিএসসি এ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফিসহ মোট নয়টি বিভাগে পুরস্কার জিতে। কামিস্কির সিনেমাটোগ্রাফিতে নির্মিত হয়েছে মিউনিখ, ওয়ার হর্স, ব্রিজ অব স্পাইসের  মতো বিখ্যাত সিনেমা। সম্প্রতি লস্ট সোলস নামক হরর সিনেমা দিয়ে পরিচালক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। এছাড়া দ্য ইভেন্ট ও ডিভাইড নামক দুটি টিভি সিরিজের পরিচালনায় রয়েছেন জানুস কামিস্কি।

 

 রজার ডেকিন্স: পুরো নাম রজার আলেক্সান্ডার ডেকিন্স। অর্ধশতাধিক সিনেমায় কাজ করা সিনেমাটোগ্রাফারদের মধ্যে তিনি একজন। ১৯৪৯ সালে ইংল্যান্ডের ডেভনে জন্মগ্রহণ করা ডেকিন্সকে সবাই চিনেন কোয়েন ব্রাদার্স (জোয়েল কোয়েন,ঈথান কোয়েন), স্যাম মেন্ডেজ ও ডেনিস ভিলেনিউভের সাথে কাজ করার জন্য। একাডেমি এ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি, বিএএফটিএ এ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি, ইন্ডিপেনডেন্ট স্পিরিট এ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফিসহ অসংখ্য পুরস্কার জিতেছেন এই খ্যাতনামা সিনেমাটোগ্রাফার। দ্য শাশাঙ্ক রিডেম্পশন, ফারগো, এ্যা বিউটিফুল মাইন্ড, স্কাইফল  সিনেমার অসাধারণ কাজের জন্য দর্শকমনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন ডেকিন্স।

 

 রবার্ট রিচার্ডসন: আমেরিকার ম্যাসাচুসেট্স অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেছেন রবার্ট ব্রিজ রিচার্ডসন। ডাকনাম বব। রোড আইসল্যান্ড স্কুল অব ডিজাইন থেকে বিএফএ ডিগ্রি নেন। এরপর এএফআই কনজারভেটরি থেকে ফিল্ম-এনিমেশন-ভিডিও তে এমএফএ ডিগ্রি নেন রিচার্ডসন। ক্যারিয়ারের শুরুতে ক্যামেরা অপারেটর ও দ্বিতীয় ইউনিটের চিত্রগ্রাহক ছিলেন। ১৯৫৫ সালে জন্মগ্রহণ করা বব তার পেশাজীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন মার্টিন স্কর্সিস, অলিভার স্টোন ও কুইন্টিন টারান্টিনোর মতো নির্মাতার সাথে। দ্য এভিয়েটর, হুগো, শাটার আইল্যান্ড, বিগ হিরোর মতো সাড়া জাগানো সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফার ছিলেন তিনি। তিনবার একাডেমি এ্যাওয়ার্ড ফর বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি’র পুরস্কার জিতেছেন রবার্ট রিচার্ডসন।

 হোয়েতে ভান হোয়েতেমা: বিজ্ঞান কল্পকাহিনি নির্ভর সিনেমায় কাজ করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন হোয়েতেমা। পড়াশুনা করেছেন ন্যাশনাল ফিল্ম স্কুল ইন লডস এ। সুইজারল্যান্ডের হয়গেনে জন্মগ্রহণ করা এই সিনেমাটোগ্রাফার হার, ইন্টার্স্টেলার ও দ্য ফাইটার সিনেমার জন্য পরিচিত। জেমস বন্ড সিরিজের স্পেকচার সিনেমাটিতে ক্যামেরা নৈপুণ্যের জন্য নিজেকে আলাদা করে চিনিয়েছেন হোয়েতে ভান হোয়েতেমা।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker