বিনোদন

মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করেছে যে পাঁচটি গান

মাহমুদুর রহমান: মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের গৌরব। আমাদের সংগ্রামের ইতিহাস। আমাদের বিজয়ের ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধে, রণাঙ্গনের যোদ্ধাদের উজ্জীবিত করতে দেশপ্রেমের পাশপাশি সাহায্য করেছিল আরও কিছু বিষয়। আমাদের শিল্পীরা তাদের প্রেরণা দিয়েছিলেন। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ী নিয়ে তৈরি হওয়া আমাদের যোদ্ধা বাহিনী নানা সময়ে বিভিন্ন গানের মাধ্যমে উজ্জীবিত হয়েছেন। এখানে তেমন কিছু গান এবং গানের সাথে জড়িত মানুষদের নিয়ে লেখা হলো।

জয় বাংলা: ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’, গানটির রচয়িতা গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং সুরকার আনোয়ার পারভেজ। যুদ্ধের সময় এই গানটি কোরাসে বেজে উঠতো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে। দূর দূরান্তের মুক্তিযোদ্ধারা এ গান শুনে উজ্জীবিত হয়েছেন অনেকবার।

মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে: স্বাধীনতার মানে কি? কিংবা মুক্তিযুদ্ধ কেন হচ্ছিলো? এমন অনেক প্রশ্ন যোদ্ধাদের মনে এসেছিল। হয়ত কোন নদীর বুকে নৌকায় বসে কিংবা মিলিটারির জন্য ওঁত পেতে বসে থাকার সময়। গীতিকার গোবিন্দ হালদার লিখেছিলেন একটি গান। ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি’। অস্ত্র ধরা কিংবা যুদ্ধ কেবল স্বাধীন ভূমির জন্য নয়। বরং আরও মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। মানুষের মুখে হাসি ফোটানো কিংবা প্রতিটি ছোট ছোট বিষয়ের জন্য। গানটিতে সে কথাই বলে হয়েছে। গানের সুরকার আপেন মাহমুদ। তিনিই কণ্ঠ দিয়েছিলেন গানে।

মা গো ভাবনা কেন: গৌরিপ্রসন্ন মজুমদার রচিত গানটি যেন তরুণ হৃদয়ে আগুন জ্বেলে দিতো। সেই সঙ্গে এনে দিতো মা ও মাতৃভূমির প্রতি তীব্র আবেগ, ভালোবাসা। মূল শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায় হলেও স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পীরা এ গানটি গেয়েছিলেন। প্রচার করা হতো মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করার জন্য।

কারার ওই লৌহকপাট: কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গানটি কেবল মুক্তিযুদ্ধ নয়, তার আগে থেকে নানা সময়ে সংগ্রামী মানুষকে আশা এবং শক্তি জুগিয়ে আসছে। এ গানটিও মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করেছিল।

তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর: যুদ্ধের কখনও হয়ত কোন প্লাটুনের বা কোন একটি দলের অবস্থা সঙিন হয়ে উঠত। মনে হতো সামনে অথৈ সমুদ্র। পাড় হওয়ার উপায় নেই। এবার বুঝি পরাজয় নিশ্চিত। কোণঠাসা অবস্থা থেকেও মানুষকে বের করে আনতে পারে গান। এমনই একটি গান, ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে’। আপেল মাহমুদের লেখা ও সুর করা এ গানটি পরিবেশন করেছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পীবৃন্দ। মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দীপিত করার ক্ষেত্রে এ গানটির অবদান অনেক।

এ তো কেবল কয়েকটি গান। এছাড়া জানা, অজানা আরও অনেক গান উদ্দীপিত করেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের। ‘মুক্তির মন্দির সোপান তোলে’, ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’, ‘বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ’-এর মতো আরও অনেক গান, স্টেনগান কিংবা অটোমেটিক মেশিনগান কিংবা কেবল একটা ছোরা সম্বল করে যুদ্ধে যাওয়া যোদ্ধাকে সাহস যুগিয়েছিল।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker